‘২২ বছরেও প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস পূরণ হয়নি’

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮ | আপডেট: ১১:৩৮:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০১৮

রামিম হাসান,ঝিনাইদহ থেকেঃ১৯৯৬ সালে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমানের মৃত্যুর পর কবর জেয়ারত করতে এসেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেয়ারত শেষে মতিয়ার রহমানের নিজ গ্রাম উদয়পুরে নবগঙ্গা নদীর পাড়ে শোকসভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এলাকার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে এই আশ্বাস দেন নবগঙ্গা নদীর উপর উদয়পুর-বারইখালি ঘাটে সেতু নির্মান হবে।

যার নাম হবে মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান সেতু। এলাকাবাসীও আশায় বুক বেঁধেছিলেন। এবার হয়তো তাদের দূঃখের দিন যাবে। কলার ভেলায় আর তাদের পার হতে হবে না। কিন্তু প্রতিশ্রুতির ২২ বছর পার হলেও আজও সেতু নির্মিত না হওয়ায় যেন ৭টি গ্রামের মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই। এলজিইডি কতৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় সাধারণ মানুষকে কলার ভেলায় আর বাঁশের সাকোই পারাপার হতে হচ্ছে দিনের পর দিন।

এলাকাবাসির সুত্রে জানা গেছে ঝিনাইদহ শহর থেকে তিন কিলোমটিার দুরে পৌর এলাকা শেষ ও সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়ন শুরু। এরই মাঝে উদয়পুর আর বারইখালী গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে চলে গেছে নবগঙ্গা নদী। উদয়পুর গ্রামের শেষ প্রান্তে এই নদীর অবস্থান। ঝিনাইদহ শহর থেকে পবহাটির মধ্যদিয়ে উদয়পুর, বারইখালী, ইস্তেফাপুর, আড়–য়াডাঙ্গা, বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম হয়ে মধুপুরে একটি সড়কের রাস্তা মিশে গেছে।

এ অঞ্চলের ৭টি গ্রামের মানুষ উদয়পুরের রাস্তা ব্যবহার করে বাশের সাকো ব্যবহার করে ঝিনাইদহ শহরে আসেন। এতে তাদের মাত্র তিন কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই চলে। আর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের মধুপুর হয়ে শহরে আসতে হলে অতিরিক্ত ৮ কিলোমিটার ঘুরতে হয়। যে কারনে তারা দীর্ঘদিন উদয়পুর ঘাটে একটি সেতু নির্মানের দাবি জানিয়ে আসছেন।

নদীর উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ সাকো পার হয়ে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। গত ১৯৯৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদয়পুরে এক শোকসভায় এসে গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কথা ও এই দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে দ্রুত এখানে সেতু নির্মানের করার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু গত ২২ বছরের সেই স্থানে সেতু নির্মান হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে কোন পদক্ষেপ না দেখে তারা বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু কোনো ফলাফল করতে পারেননি। আজো মানুষকে কলার ভেলা অথবা বাঁশের সাকো দিয়ে পারাপার হতে হয়।

এলাকাবাসি আতিয়ার রহমান জানিয়েছেন, আমাদের দুঃখ আর দুর্দশা দেখার কেও নেই। এ বাশের সেকো প্রতিবছর নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারনে নির্মান করতে অনেক টাকা ব্যায় হয়। আমরা চাদা তুলে এটি আজ সংষ্কার করছি। অনেক শিক্ষার্থী এর আগে নদীতে পড়ে আহত ও একজন নিহত হয়েছে। তারপরেও জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাফেরা করতে হয়।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর এলজিইডি অফিসের প্রকৌশলী জানিয়েছেন, এ সেতুটি র্নিমানের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের পাঠানো প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠানো রয়েছে। সেখান থেকে অনুমোদন পেলেই সেতুটি নির্মান করা সম্ভব হবে বলে জানান।