২৫ বছরের মধ্যে শক্তিশালী টাইফুনের কবলে জাপান

প্রকাশিত: ১২:১৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮ | আপডেট: ১২:১৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০১৮

১৯৯৩ সালের পর এমন শক্তিশালী টাইফুন দেখেনি জাপানের মানুষ। ঝড় আঘাত হানার আগেই ১০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে কয়েকশ’ বিমানের ফ্লাইট৷ মঙ্গলবার পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে টাইফুন জেবি।

একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয় আঘাত হানছে জাপানে। জুলাই মাসে মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি, বন্যা আর ভূমিধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল দেশটি৷ নিহত হয়েছিল দুই শতাধিক মানুষ। ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল ঐ দুই অঞ্চলে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই আঘাত হানলো টাইফুন জেবি।

ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার বেগে টাইফুন জেবি জাপানের পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হেনেছে। শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। জেবিকে বলা হচ্ছে ‘সুপার টাইফুন’৷ তবে জেবি আঘাত হানার পূর্বাভাস থাকায় প্রধানমন্ত্রী সিনজো আবে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে ওই এলাকায় প্রাণহানি এড়াতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। তাই সতর্ক ছিল কর্তৃপক্ষ৷ এ কারণে ঝড়ের আঘাতে অল্প কয়েকজন সামান্য আহত হলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

কয়েকটি এলাকায় সমুদ্রের ঢেউ এত উঁচুতে উঠে গেছে যে পানি ঢুকে পড়েছে লোকালয় ও বিমানবন্দরে। ওসাকার কানসাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে ঢুকে পড়েছে পানি৷ ১৯৬১ সালের পর সমুদ্রের এমন ভয়াবহ রূপ দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বাতাসের বেগ এতটাই বেশি যে ঐ বিমানবন্দরের কাছে ২ হাজার ৫৯১ টনের একটি ট্যাংকার একটি সেতু থেকে নীচে পড়ে গেছে। সেতুটি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ট্যাংকটি খালি থাকায় তেমন কোনো ক্ষয়-ক্ষতি হয়নি।

টাইফুনটি প্রথমে ছোট্ট দ্বীপ শিকোকুতে আঘাত হানে। এরপর পশ্চিম থেকে উত্তরের দিকে ধেয়ে যায়। অগ্নি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ঝড় আঘাত হানার আগেই তারা পশ্চিমাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চল থেকে ১০ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ২০৮ কিলোমিটার থেকে ২১৬ কিলোমিটার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বাতাসের বেগ এত বেশি ছিল যে কয়েকটি বড় গাছ পড়ে গেছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০০ বিমানের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি এলাকার স্কুল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া টোকিও এবং হিরোশিমার মধ্যে চলাচলকারী বুলেট ট্রেন বন্ধ রাখা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ওসাকার ইউনিভার্সাল স্টুডিও। অর্থনৈতিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম জাপানের ১ লাখ ৭৭ হাজার দোকানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। টয়োটা মোটর কোম্পানি জানিয়েছে, তারা ১৪টি কারখানায় নাইট শিফট বাতিল করেছে। যে স্থানে টাইফুন আঘাত হেনেছে, রাজধানী টোকিও সেখান থেকে অনেক দূরে হলেও সেখানে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও ঝড়ো হাওয়া শুরু হয়েছে। প্রচণ্ড বাতাস আর বৃষ্টিতে ভূমিধস ও বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

সুত্র: ডয়েচে ভেলে।