২ জন শিক্ষক দিয়েই চলছে খালভাংগা প্রাথমিক বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৯:৩৯ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ | আপডেট: ৯:৪১:অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২০
ছবি: টিবিটি

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খালভাংগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে। এতে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় ফলাফল বিপর্যয়ের আশংকা করছেন অভিভাবকরা।

১৯৮৬ সালে জাতীয়করনকৃত নালিতাবাড়ী পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের খালভাংগা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ২ শ শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচ জন শিক্ষক থাকলেও প্রধান শিক্ষক চৈতন্য পাল গত বছরের ১০ অক্টোবর থেকে কোন কারন উলে­খ না করে অনুপস্থিত রয়েছেন। সহকারী শিক্ষক শারনিন আক্তার এ বছরের ১৬ জানুয়ারী থেকে মাতৃত্বকালিন ছুটিতে রয়েছেন। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মোশারফ হোসেন ১৭ জানুয়ারী থেকে আইসিটি প্রশিক্ষনের জন্য জেলা সদর শেরপুরে আছেন।

রবিবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১১টায় ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুই শিফটের এই বিদ্যালয়ে শিশু ও প্রথম শ্রেণির দুই ক্লাশ একই কক্ষে একজন শিক্ষক পড়াচ্ছেন। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কোন শিক্ষক না থাকায় হই হোলে­ার করছে তারা। আর একজন শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণিতে ক্লাশ নিচ্ছেন। অর্থাৎ চারটি শ্রেণি কক্ষের জন্য শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুই জন।

খালভাংগা গ্রামের শিশু শ্রেণির ছাত্র কাসাবের মা সপ্না জানান, শিশু শ্রেণি ও প্রথম শ্রেণি একসাথে হওয়ায় ছেলে মেয়েরা ভাল মানের পড়া পাচ্ছে না আলাদা ক্লাশ হলে ভাল হতো।

শিশু শ্রেণির আরেকজন ছাত্র নির্জরের মা মায়া রানী পাল বলেন, মেডাম না থাকায় একই রুমে দুই ক্লাশ হওয়ায় পড়ার কোন অগ্রগতি হচ্ছেনা। এতে ফলাফল বিপর্যয়ের আশংকা রয়েছে।

সহকারী শিক্ষিকা বকুল রানী পাল বলেন, শিক্ষক সংকটে দুই শ্রেণির ক্লাশ একসাথে নিতে হয়। তা না হলে শিক্ষার্থীরা গোলযোগ করে ক্লাশ নেওয়া যায়না। আরেক শিক্ষিকা জাহানারা খাতুন বলেন, বিরতিহিন ৬টি ক্লাশ নিতে হয় যা খুবই কস্টকর। ক্লাশ ছাড়াও অফিসিয়াল অন্য কাজতো থাকেই।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি, নালিতাবাড়ী পৌরসভার কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র মো. সুরুজ্জামান বলেন, প্রধান শিক্ষক কাউকে না বলে বিদেশ চলে গেছেন। একজন রয়েছেন মাতৃত্বকালিন ছুটিতে। আমি বারবার শিক্ষা কর্মকর্তাদের শিক্ষক বাড়ানোর জন্য অবগত করেছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা। ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ সার্বজনিন প্রাথমিক শিক্ষা ব্যাবস্থা ব্যহত হচ্ছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌফিকুল ইসলাম বলেন, সমস্যার সমাধান করার প্রক্রিয়া চলছে আশা করি কয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হয়ে যাবে।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফেরদৌসি বেগম বলেন, খোঁজ নিয়ে কয়েক দিনের মধ্যে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।