৩২১ কোটি টাকার টেন্ডারে মরিয়া রাবি উপাচার্য

মুজাহিদ হোসেন মুজাহিদ হোসেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১ | আপডেট: ৬:১৫:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১

নানান অনিয়ম ও দুর্নীতির দায় মাথায় নিয়েই আগামী ৬ মে তারিখে মেয়াদ শেষ করবেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকদের আপত্তির পরও বিদায়ের আগে তিনি উন্নয়নের ৩১২ কোটি টাকার তিন মেগা প্রকল্পের টেন্ডার কাজও নিজের হাতে শেষ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।

প্রগতিশীল শিক্ষকদের অভিযোগ, বিদায়ের আগে প্রায় ৩১২ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়নের তিনটি মেগা প্রকল্পের টেন্ডারের কাজগুলো উপাচার্য তার সহযোগী পছন্দের ঠিকাদারদের দিতে চান।

জানা গেছে, সম্প্রতি ১৭১ কোটি ৩২ লাখ ৪৪ হাজার টাকা ব্যয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তলা কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ভবন নির্মাণের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। এছাড়া ৭১ কোটি ৯৩ লাখ ৫১ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০তলা বিশিষ্ঠ শেখ হাসিনা ছাত্রী হল এবং ৭০ কোটি ২০ লাখ ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে ১০তলা বিশিষ্ট শহীদ কামারুজ্জামান ছাত্র হল নির্মাণেরও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হবে ২২ এপ্রিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ ও উপকরণের জন্য গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর, ৫শ ১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পের মধ্যে ছিলো ২০ তলা একাডেমিক ভবন, মেয়েদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট শেখ হাসিনা হল, ছেলেদের ১০ তলা শহীদ কামরুজ্জামান হল, শিক্ষকদের আবাসনের জন্য ১০ তলা ভবন, চার তলা বিশিষ্ট শেখ রাসেল মডেল স্কুল এবং কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনের ইনোভেশান।

তবে পাবলিক ওয়ার্ক ডিপার্টমেন্টের (পিডব্লিউডি) রেড সিডিউল অনুযায়ী, রাবির অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ২০১৪ সালে ৩৬৩ কোটি টাকার বাজেটটি করা হয়েছিল। যা সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এম মিজানউদ্দিন ও সাবেক উপ উপাচার্য চৌধুরি সারওয়ার জাহানের চেষ্টায় ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পের মধ্যে ছিলো ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি আবাসিক হল ও শিক্ষকদের জন্য ১০ তলা বিশিষ্ট একটি আবাসিক ভবন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তন সংস্কার, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের ভবন নির্মাণ এবং নির্মার্ণাধীন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবন, চতুর্থ বিজ্ঞান ভবন ও কৃষি অনুষদ ভবনের কাজ। এই প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার ও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করাও বিষয় উল্লেখ ছিলো।

কিন্তু ২০১৭ সালে অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান দ্বিতীয় মেয়াদে উপাচার্য হওয়ার পর ২০১৮ সালে পিডব্লিউডি’র রেড সিডিউল অনুযায়ী সংশোধিত বাজেট পেশ করেন, যার পরিমাণ ছিলো ৫১০ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাজেটটি পাস হলেও দীর্ঘ সময় পর বিদায় লগ্নে তিনি প্রকল্পের টেন্ডার নিয়ে তড়িঘড়ি শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে রাবির সরকারপন্থি প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের কো-কনভেনার প্রফেসর ড. সৈয়দ আলী রেজা বলেন, আমরা ভিসিসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি এসব বিষয় নিয়ে। তড়িঘড়ি করে যেন কোনো কাজ না করা হয়। কারণ তড়িঘড়ি করে এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার পেছনে কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অনিয়মের ঘটনা ঘটে। এসব মেগা প্রকল্পের কাজে যদি কোনো অনিয়ম ঘটে, তার দায় কিন্তু রাবির পরবর্তী প্রশাসনের ওপর পড়বে। কারণ ভিসি আর মাত্র ক’দিন পরেই চলে যাবেন। আর সেই দায় গিয়ে পড়বে রাষ্ট্রের কাঁধেও।

সরকারপন্থি শিক্ষকরা অভিযোগ করছেন, এই তিনটি মেগা প্রকল্পের কাজ ভাগাভাগির চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের সিন্ডিকেটকে খুশি করতে ভিসি এসব কাজ তাদের দিয়ে যেতে চান। ভিসি ঘনিষ্ঠ রাবির সাবেক এক ছাত্রদল নেতাও টেন্ডারগুলো তার সহযোগীদের পাইয়ে দিতে ও নিজে কাজ পেতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬ কোটি টাকার ড্রেনেজ প্রকল্প, ১২ কোটি টাকার শিক্ষক কোয়ার্টার সম্প্রসারণ ও ৯ কোটি টাকার অডিটোরিয়াম উন্নয়ন ও সংস্কারের তিনটি প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজেরর সদস্যদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক খন্দকার শাহরিয়ার রহমান জানান, অনলাইনেও টেন্ডার দাখিলের সুযোগ আছে। তবে এই তিনটি মেগা প্রকল্পের টেন্ডার দাখিলের সময়সীমা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। ই-জিপি টেন্ডার হওয়ায় এসব টেন্ডারে পছন্দের কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেওয়া যায় না । তবে ঠিকাদাররা বাইরে সমঝোতা করে টেন্ডার দিলে তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে না।

তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক এম আবদুস সোবহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।