৩৩৮.১৭ কোটি টাকার বিরাট ফারাক ইভ্যালি কিভাবে দূর করবে: গোলাম রাব্বানী

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৫:৪১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১ | আপডেট: ৫:৪১:অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২১
ছবিঃ সংগৃহীত

অনলাইনভিত্তিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান (ই-কমার্স) ইভ্যালির চলতি সম্পদের পরিমাণ ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর বিপরীতে প্রতিষ্ঠানটির দেনার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। সম্পদের চেয়ে ৬ গুণের বেশি দেনা কোম্পানিটির পরিশোধ করার সক্ষমতা নেই বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ইভ্যালির চলতি বছরের ১৪ মার্চ পর্যন্ত পণ্যমূল্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা নিয়ে পণ্য সরবরাহ করেনি। অন্যদিকে এই ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি যেসব কোম্পানির কাছ থেকে পণ্য কিনে, তাদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া ১৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

তারপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ই-ভ্যালির মত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করছেন দেশের সচেতন নাগরিকরা। এবার সে কাতারে যোগ দিলেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

আজ বুধবার (২৩ জুন) নিজের ভ্যারিফাইড ফেসবুক একাউন্ট থেকে একটি পোস্টের মাধ্যমে ইভ্যালির মত দেশের সকল অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন এই ছাত্রলীগ নেতা।

তিনি বলেন, ‘ইভ্যালিসহ দেশের সকল অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ নজরদারির আওতায় আনা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষত, ইভ্যালি যেভাবে আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে গ্রাহকদের প্রয়োজন বা অনেক ক্ষেত্রে লোভকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ টানছে, তাতে আবার একটা ‘ডেসটিনি চিত্র’ দেখার শঙ্কা থাকছেই!’

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেয়া প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশ ব্যাংক এক প্রতিবেদন বলেছে, বর্তমানে গ্রাহক ও মার্চেন্টদের কাছে ইভ্যালীর দেনার পরিমাণ ৪০৩.৮০ কোটি টাকা, আর কোম্পানির চলতি সম্পদ মাত্র ৬৫.১৭ কোটি টাকা!

তাহলে এই ৩৩৮.১৭ কোটি টাকার বিরাট ফারাক ইভ্যালি কিভাবে দূর করবে, তার সদুত্তর কে দেবে, যত দিন যাবে ফারাক কিন্তু বাড়বে, একসময় হাজার কোটি পেরিয়ে যাবে, অতঃপর ঠাস করে যে বন্ধ হয়ে যাবে না, তার গ্যারান্টি কে দেবে??’

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য দেয়া নেয়ার নিয়ম নিয়ে রাব্বানী লেখেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ে পন্য ডেলিভারি না দেয়ার হাজার হাজার অভিযোগ, আর সময়ের বাইরে গ্রাহকের বিনিয়োগ করা টাকা যে মাসের পর মাস পরে থাকছে, এটা অবশ্যই তাদের একটি আয়ের মাধ্যম, যা অবশ্যই অনৈতিক। আচ্ছা, এই টাকাটা কোন খাতে, কিভাবে বিনিয়োগ হচ্ছে, খাতগুলো বৈধ না অবৈধ, তাতে আমাদের সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন নজরদারি আছে? উহু, নেই।’

শেষে এই নেতা লেখেন, ‘আগে তিতা, পরে মিঠা। লাখো-কোটি সাধারণ গ্রাহকদের বড় ধরনের ক্ষতি হবার আগেই ইভ্যালিসহ দেশের সব ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি। বলা বাহুল্য, ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষা দিতে পারছে নাহ, সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অনলাইনভিত্তিক অভিযোগ প্লাটফর্ম সৃষ্টি সহ যুগোপযোগী আপডেট করতে হবে।’