৩৭তম বিসিএস-এ প্রথম হওয়ার গল্প

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯:১৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ | আপডেট: ৯:১৯:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
ছবিঃ সংগৃহিত

স্কুলে পড়ার সময় ক্যাডার সার্ভিসের প্রতি ভালোলাগা। বাবাও উৎসাহ দিতেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর বিসিএসের প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে পররাষ্ট্র ক্যাডারের প্রতি আকর্ষণ বেশিই ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সাবেক এই শিক্ষার্থী স্নাতকে ৩.৯৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৯৬ সিজিপিএ পেয়ে বিভাগে প্রথম হন। অর্জন করেছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ২০১৫ ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড। যাদের একাডেমিক রেজাল্ট ভালো, তাদের বিসিএস হয় না। এসব কথায় কান না দিয়ে রহমত আলী নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতে থাকেন।

তিনি বলেন নিজের ভালোলাগা আর বাবার উৎসাহে ক্যাডার সার্ভিসের প্রতি ভালোবাসা। স্নাতকোত্তরে পড়াশোনার পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। প্রথমবার অংশ নিয়েই পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হওয়ার সাফল্য অর্জন করেছেন রহমত আলী শাকিল।

স্নাতকে সারা বছর ক্লাস-ল্যাব নিয়েই ব্যস্ত থাকতে হত। তখনো বিসিএসর প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্নাতকোত্তরে পড়ার সময় বন্ধুদের দেখে বিসিএসের ফরম পূরণ করেন। নিশ্চিত ছিলেন না পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারবেন। যখন স্নাতকোত্তরের থিসিস জমা দিলেন, তখন প্রিলিমিনারি পরীক্ষার জন্য দুই মাস সময় আছে।

সময় নষ্ট না করে পুরোদমে পড়াশোনা শুরু করলেন। গণিত ও ইংরেজির বেসিক ভালো ছিল। টিউশনি করানোর ফলে গণিত ও বিজ্ঞান চর্চার মধ্যেই ছিল। দুই মাসের মধ্যে বাকি পড়া সাধারণ জ্ঞান, বাংলা ও ইংরেজি সাহিত্য শেষ করে ফেলেন।

দেশের সর্বোচ্চ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণের শুরুর কথা এমনটিই বলছিলেন ৩৭তম বিসিএস-এ (সুপারিশকৃত) পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম স্থান অধিকারী রহমত আলী শাকিল।

ভাবতেন, প্রিলি পাস না করলেও কিছু অভিজ্ঞতা তো হবে। যখন দেখলেন প্রিলিতে টিকে গেছেন, তখন পুরোদমে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করলেন। ল্যাবে গবেষণা প্রকল্পের কাজের পাশাপাশি বিসিএসের প্রস্তুতি চলছিল।

ল্যাবে কাজের ফাঁকে ও রাতে বাসায় ফিরে লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেন। ল্যাবের সহকর্মীদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতেন। যা লিখিত ও ভাইবা পরীক্ষায় অনেক কাজে লেগেছে। যে দিন ল্যাব থাকত না, সে দিন সারা দিন পড়তেন।
Add Image
সাফল্যের গল্প সম্পর্কে রহমত আলী বললেন, পরীক্ষার সময় নির্ভার ছিলাম। সামনে আরও সুযোগ ছিল। বিসিএসে না হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কিংবা দেশের বাইরে গবেষণার সুযোগ ছিল।

তাই চাপমুক্ত থেকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। ফল প্রকাশের আগেই ভাইবার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। ভাইবা ভালো হয়েছিল। পরীক্ষা শেষে নিজের ওপর বিশ্বাস ছিল যে ক্যাডার পাব। তবে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হব ভাবিনি।

বিসিএস পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ক্যাডার নির্বাচন ভেবেচিন্তে করতে হবে। গণিত ও ইংরেজির ক্ষেত্রে কোনো কম্প্রোমাইজ করা যাবে না, শুরু থেকে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। যেহেতু বিসিএস পরীক্ষা অনেক প্রতিযোগিতামূলক এ জন্য প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখতে হবে।

একইসঙ্গে দুটি সিলেবাসের আলোকে প্রস্তুতি নিতে হবে কারণ প্রিলিমিনারির পরীক্ষার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকে না। আর ইংরেজির শব্দ বেশি না পড়ে ব্যাকরণ, সাহিত্য বেশি পড়তে হবে।

মনে রাখবেন, ইংরেজি আর গণিতে দুর্বলতা মানেই পিছিয়ে পড়া। ভাইবা নিয়ে পরে চিন্তা করতে হবে। নিয়মিত পত্রিকা পড়তে হবে। সমসাময়িক বিষয়গুলো সম্পর্কে আপডেট থাকতে হবে। নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিন। আর চাপমুক্ত থেকে পরীক্ষা দিতে হবে।

রহমত আলী গাজীপুরের কাওরাইদ কে এন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি সম্পন্ন করেন। বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার নিগুয়ারী গ্রামে। অবসরে হিস্ট্রিক্যাল মুভি দেখতে এবং ইংরেজি ও মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গেম খেলতে পছন্দ করেন। এ ছাড়া গল্প ও উপন্যাসের বই পড়েন।
Add Image