৩৭ দিনের মধ্যে একই মহিলাকে ৪ বার বিয়ে ৩ বার বিচ্ছেদ!

টিবিটি টিবিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১ | আপডেট: ১১:৫৬:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০২১
প্রতিকী ছবি

অফিস থেকে বেতনসহ ছুটি কাটাতে একই স্ত্রীকে চারবার বিয়ে এবং তিনবার ডিভোর্স দিয়েছেন তাইওয়ানের এক ব্যক্তি। গত বছর তিনি এভাবে মোট ৩২টি ছুটি আদায় করে নিয়েছেন। এই ঘটনায় উল্টো ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জরিমানা গুণতে হয়েছে।

তিনি তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেই শহরের এক ব্যাংকের ক্লার্ক। আর তাঁর এই চারবার বিবাহ আর তিনবার বিচ্ছেদের ফলে, ব্যাংক থেকে তিনি বেশ কিছু অর্থও কামিয়ে নিয়েছেন।

জানা গেছে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল, ওই ব্যাংকের কেরানি বিবাহ করেছিলেন। বিয়ের জন্য তাঁকে ৮ দিনের সবেতন ছুটি মঞ্জুর করেছিল ব্যাংক। অথচ, বিবাহ, মধুচন্দ্রিমা মিলিয়ে কেরানিটির ছুটি দরকার ছিল প্রায় একমাসের। এরপরই, তাঁর হবু স্ত্রীকে চারবার বিবাহ ও তিনবার বিবাহ বিচ্ছেদ করার পরিকল্পনা করেন তিনি। যা ভাবা তাই কাজ। প্রথমবার বিবাহের আটদিনের ছুটি শেষ হতেই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ করেছিলেনতিনি। তারপর দিনই অবশ্য বিচ্ছেদ হওয়া স্ত্রীকেই ফের বিয়ে করেন। এইভাবে ৪বার ঘটে। আর প্রত্যেকবারই ৮দিনের সবেতন ছুটির আবেদন করেন তিনি।

সমস্যা হল, তাঁর এই চালাকি ধরে ফেলে ব্যাংকের মালিক পক্ষ। আর আটদিনের পর তাঁর অতিরিক্ত ছুটির আবেদনগুলি খারিজ করে দিয়েছিল। ফলে ৩২ দিনের ছুটি কাটিয়ে এসে মাত্র ৮ দিনের বেতন পেয়েছিলেন তিনি। তাতেও দমেননি ওই ব্যাংক কেরানি। তাইপেই সিটির লেবার ব্যুরো-তে গিয়ে তিনি ব্যাংকের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি সাফ জানান, তাইওয়ানের শ্রম আইন অনুসারে, কোনও কর্মচারী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর আট দিনের সবেতন ছুটির পেতে পরে। তাই চারবার বিবাহের জন্য আইন মেনে তাঁর ৩২ দিনের ছুটি পাওয়া উচিত।

গত অক্টোবরে, তাইপেই সিটি লেবার ব্যুরো তদন্ত করে এই মামলার রায় দিয়েছে। তাতে কিনতু, জয় জয়কার হয়েছে ওই কেরানির। লেবার ব্যুরো সাফ জানায়, এই ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তা অর্থাৎ ব্যাংক শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য ব্যাংককে ভারততীয় মুদ্রায় ৫২,৮০০ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিল। তারা পাল্টা জানিয়েছিল, তাদের ওই কর্মচারীর শ্রম আইনে বিবাহের ছুটির যে ধারা রয়েছে, সেই ধারার অপব্যবহার করছে। অবৈধভাবে অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ার চেষ্টা করেছে। তাই, এই রায় তারা মানছে না।

তবে সম্প্রতি লেবার ব্যুরো তাদের আগের রায় পুনর্বিবেচনার পর সেই রায়ই বহাল রেখেছে। তবে বাড়তি সংযোজন হিসাবে স্বীকার করা হয়েছে যে, ওই কেরানীর আচরণ অনৈতিক ছিল। তবে, তারপরও তিনি কোনও আইন লঙ্ঘন করেননি বলেই জানিয়েছে ব্যুরো। কিন্তু, ব্যাংক শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছে, এটা নিশ্চিত। তাই জরিমানা দিতেই হবে।