৩ হাসপাতাল ও ফার্মেসিকে ১৫ লাখ টাকা জরিমানা, সিলগালা

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৭:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮ | আপডেট: ৭:৪৫:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১, ২০১৮

রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ আশুলিয়ায় তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও একটি ওষুধের দোকানে (ফার্মেসি) অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে প্রায় ১৫ লাখ লাখ জরিমানা করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি দু’টি হাসপাতাল সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)-৪, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে শনিবার দুপুর থেকে রাত অবধি পরিচালিত হয় এ অভিযান।

র‌্যাব- ৪ সূত্র জানায়, দুপুরে নবীনগর-চন্দ্র মহাসড়কের আশুলিয়ার ডেন্ডাবর পল্লীবিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গণি জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রথম অভিযান পরিচালনা করা হয়। র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সারওয়ার আলম এর নেতৃত্বে এ অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত দেখতে পায়, গণি জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক ডা. আসাদউল্লাহ আহমেদ লাইন্সেস ছাড়াই হাসপাতালটি পরিচালানা করে রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। মেয়াদ উত্তীর্ণ ওষুধ রাখা, হাসপাতালের লাইন্সেস না থাকা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ছাড়াই রিপোর্ট প্রদান করাসহ বেশ কিছু অনিয়মের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয় এবং নগদ ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করেন।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে পলাশবাড়ি এলাকার হাবিব ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এই ক্লিনিকটিকে অনিয়ম, অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার দায়ে ৫ লাখ টাকা, একই অভিযোগে পার্শ্ববর্তী মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালকেও ৫ লাখ টাকা এবং পার্শ্ববর্তী মেসার্স অনন্যা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড মেডিসিন কর্ণার নামে একটি ওষুধের দোকানকে ৭৫ হাজার টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়। এর মধ্যে গণি জেনারেল ও মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি সিলগালা করা হয়।

র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, আশুলিয়া শিল্প এলাকায় অধিকসংখ্যক কর্মজীবী মানুষ বসবাস করলেও এখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবার সংকট রয়েছে। এ সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিকিৎসা সেবাটাকে জিম্মি করে রেখেছে। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের রিপোর্ট দিয়ে দিচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে এই সেক্টরে মনিটরিং আরো বাড়ানো দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সাভার ও আশুলিয়ার সব হাসপাতালে অভিযান পরিচলানা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মেহেদী হাসান জানান, রাজধানী ঢাকার পাশে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষকে পুঁজি করে মানহীন ও লাইন্সেসবিহীন ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। যাদের অধিকাংশই মানহীন। আমরা অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে হাসপাতালের প্রয়োজনীয় মানসম্মত জায়গায় নিয়ে যাওয়া চেষ্টা করছি।

অভিযান পরিচালনা করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ডা. দেওয়ান মেহেদী হাসান, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক মুহিদ ইসলাম এবং র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ এর কম্পানি কমান্ডার মেজর আব্দুল হাকিম প্রমুখ।