৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্কুল কমিটির সভাপতি গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০ | আপডেট: ৮:৪৫:অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩০, ২০২০
অভিযুক্ত ধর্ষক উপজেলা স্কুল কমিটির সভাপতি মাসুদ মোল্লা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে তার মায়ের নামে সরকারি রেশন কার্ড করিয়ে দেয়ার কথা বলে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে স্কুল কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে। উক্ত অভিযোগে আগৈলঝাড়ায় উপজেলায় স্কুল কমিটির সভাপতি মাসুদ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। মাসুদ উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের মৃত মোছলেম আলী মোল্লার ছেলে এবং সুজনকাঠী মজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি।

গ্রেপ্তারকৃত মাসুদ এক ছেলে নিয়ে বাড়ি থাকলেও তার স্ত্রী বর্তমানে ইতালি রয়েছেন।

আগৈলঝাড়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাজহারুল ইসলাম ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর মায়ের দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের পূর্ব সুজনকাঠী গ্রামের মৃত. মোছলেম আলী মোল্লার ছেলে ও সুজনকাঠী মজিদবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মো. মাসুদ মোল্লা একই এলাকার বাসিন্দা ও ওই স্কুলের ৫ম শ্রেণির দরিদ্র ছাত্রীকে তার মায়ের নামে সরকারি রেশন কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলে গত বৃহস্পতিবার (২৬নভেম্বর) রাতে তার বাড়িতে যেতে বলে। ঘটনার রাতে শিক্ষার্থীকে নিয়ে তার মা জাতীয় পরিচয়পত্র ও ছবি নিয়ে মাসুদের বাড়িতে যান। মায়ের সাথে কথাবার্তা শেষে তার মেয়ের সাথে আলাদা কথা আছে বলে মাকে বসিয়ে রেখে মাসুদ ছাত্রীকে নিয়ে তার নিজ শয়ন কক্ষে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনা কাউকে না বলার জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাড়ি যেতে বলে।

ধর্ষণে অভিযুক্তের হুমকি-ধামকির কারণে শিক্ষার্থী ওই রাতে ধর্ষণের ঘটনা কাউকে না জানালেও পর দিন ২৭ নভেম্বর ধর্ষণের ঘটনা তার মাকে খুলে বলে। মেয়ের মুখ থেকে ধর্ষণের ঘটনা জেনে শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটার দিকে মাসুদ মোল্লাকে (৪০) আসামি করে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর ওই রাতেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান অভিযান চালিয়ে অভিযু্ক্ত মাসুদ মোল্লাকে নিজ এলাকা থেকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত মাসুদ এক ছেলে নিয়ে বাড়ি থাকলেও তার স্ত্রী বর্তমানে ইতালি প্রবাসী।

সোমবার সকালে মাসুদ মোল্লাকে বরিশাল আদালতে ও ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মনিরুজ্জামান।