৭৫ সালের পর কেক কাটেননি ফারুক

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮ | আপডেট: ১:৩১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৮, ২০১৮

‘আগস্ট মাসে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর অনুসারী হওয়ায় আমার কাছের কিছু বন্ধুকে মেরে ফেলা হয়েছে। অনেককেই দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। আমি কেমন করে এই মাসে কেক কাটব?

আমি আমার জন্মদিনে কেক কাটি না। যত দিন বেঁচে আছি কোনো জন্মদিনেই কেক কাটব না’- বলেছেন জীবন্ত কিংবদন্তি নায়ক ফারুক। আজ তাঁর জন্মদিন। এই দিনে কেক কাটা প্রসঙ্গে এভাবেই বলেন তিনি।

১৯৪৮ সালের আজকের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তবে ১৯৭৫ সালের পর শুধু কেক কাটা নয়, জন্মদিনের কোনো উৎসবও করেন না তিনি। তবে ছোট বেলায় অনেক ধুমধাম করে জন্মদিন পালন করতেন জানিয়ে ফারুক বলেন,‘ছোট বেলায় তো আগে থেকে বায়না ধরা থাকত। অনেক কিছুরই বায়না।

যদি কোনোটা পূরণ না করা হতো তাহলে আমি কেক কাটতাম না। বিষয়গুলো মনে হলে এখনো আনন্দ হয়। আবার এমন মাসে জন্মেছি যে মাসে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়েছে, এটা ভেবে মন খারাপও হয়।’

ফারুকের পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু।  ফারুক নামে বাংলা চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তাঁর। ১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। শৈশব-কৈশোর ও যৌবনে তিনি খুবই দুরন্ত ছিলেন। আর ওই সময়টা কেটেছে গ্রামের বাড়ি ও পুরান ঢাকায়। এখন তিনি থাকেন উত্তরায় নিজ বাড়িতে।

জন্মদিন নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আসলে আমরা তো প্রতিদিনই নতুন করে জন্ম গ্রহণ করছি। প্রত্যকটা দিনই জন্মদিন। আমরা ঘুম থেকে প্রতিদিনই উঠছি। আমরা জানি না আগমীকাল ভোর দেখতে পাব কি না। আমি সবার কাছে দোয়া চাই। আমার জন্য সবাই দোয়া করবেন।’

ফারুক একাধারে চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও ব্যবসায়ী। ফারুক ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন। প্রথম ছবিতে তিনি কবরীর সঙ্গে জুটি বাঁধেন।

এর পরে তিনি ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ দুটি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক চলচ্চিত্রে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করেন।

১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ নামের দুটি ব্যবসাসফল ও আলোচিত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং সে বছর লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় ফারুক অভিনীত তিনটি ছায়াছবি ‘সূর্যগ্রহণ’, ‘মাটির মায়া’ ও ‘নয়নমণি’। চলচ্চিত্র তিনটি বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়। পরের বছর শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কালজয়ী উপন্যাস ‘সারেং বৌ’ অবলম্বনে নির্মিত ‘সারেং বৌ’ ও আমজাদ হোসেন পরিচালিত ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র দুটি নারীকেন্দ্রিক হলেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।

১৯৭৯ সালে ফারুক অভিনীত ‘নাগরদোলা’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘কথা দিলাম’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সাহেব’, ‘ছোট মা’, ‘এতিম’, ‘ঘরজামাই’ চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসাসফল হয়। ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ ছায়াছবিতে শাবানার বিপরীতে শহুরে ধনী যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা পান। ১৯৮৭ সালে ‘মিয়া ভাই’ চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে মিয়া ভাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের ৪১তম এই আসরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে আজীবন সম্মাননা পদক গ্রহণ করেন নায়ক ফারুক।

ফারুক ফারজানা পাঠানকে ভালোবেসে বিয়ে করেন। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। কন্যা ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও পুত্র রওশন হোসেন।