৭ ঘণ্টা পর ছেলে ধরাদের থেকে নিজ প্রচেষ্টায় ফিরল ৫ শ্রেণির ছাত্র

তারেক পাঠান তারেক পাঠান

পলাশ(নরসিংদী) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: 7:04 PM, July 21, 2019 | আপডেট: 7:04:PM, July 21, 2019
ছবি: টিবিটি

নরসিংদীর পলাশে ছেলে ধরা লোকের হাত থেকে নিজ প্রচেষ্ঠায় ৭ ঘন্টা পর কালিগঞ্জ থেকে ফিরে আসল পলাশের সিয়াম (১৩) নামে এক স্কুলছাত্র।

সিয়াম উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের ৯ নং বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ শ্রেণীর ছাত্র। সে ওই ইউনিয়নের কাউয়াদি গ্রামের আমজাদ মিয়ার ছেলে। আমজাদ মিয়া বালিয়া বাজারে একটি চা স্টলের দোকানদার।

ঘটনার সত্যতা জানতে ভোক্তভোগী ছিয়ামের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত ২০ জুলাই শনিবার সকাল ৬ টার দিগে সিয়াম প্রাইভেট পড়তে বাড়ী থেকে বের হয়ে যাওয়ার পথে রাস্তায় অপরিচিত তিনজন মধ্য বয়সী লোকের মাথায় কালো ক্যাপ,মুখে কালো মার্ক্রস পড়–য়া একটি হলুদ রংঙ্গের গাড়ি থামিয়ে তার মুখে রুমাইল চেপে ধরে তাকে অচেতন করে ফেলে।

দুই ঘন্টা পর তার গেন ফিরলে সে দেখতে পায় ঘোড়াশাল সেতু পার হয়ে গাড়ী থামিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দুইজন মোবাইলে কার সাথে যেন কথা বলছে আর একজন ড্রাইভারের সিটে বসে আছে।

এ সময় সিয়াম কৌশলে অপহরণকারীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে গাড়ী থেকে নেমে দৌঁড়ে ঘোড়াশালের রাস্তার দিগে ছুটে আসতে থাকে। পথি মধ্যে স্থানীয় লোকজনকে বিষয়টি জানালে পলাশ আসার সিএনজিতে তারা তাকে ওঠিয়ে দেয়। পরে পলাশ সিএনজি স্ট্র্যান্ডে পৌঁছে তার বাবাকে সে দেখতে পায়।

এ ঘটনায় ছিয়ামের বাবা আমজাদ হোসেন বলেন, সকাল ৮টার দিগে তার সাথে প্রাইভেট পড়–য়া বন্ধুরা এসে বাড়ীতে খবর দেয় ছিয়াম নাকী প্রাইভেট পড়তে যায়নি। বিষয়টি সন্দেহ জনক মনে হলে বাড়ী থেকে দৌঁড়ে বের হয়ে সিয়ামকে বিভিন্ন যায়গায় খুঁজতে থাকি। কিছুক্ষণ পর রাস্তার পার্শ্বে তার বই, খাতা,কলম পরে থাকতে দেখি।

এ দিগে দেশবন্ধু সুগার মিলে কর্মরত কিছু শ্রমিক এই রাস্তা দিয়ে সকালে যাওয়ার পথে নাকি এইখানে একটি হলুদ রংয়ের একটি প্রাইভেট কার দাঁড়ানো ছিল দেখতে পায়। পরে আমি ও আমার ভাই এক সাথে তাকে খুঁজতে পলাশ উপজেলার বিভিন্ন যায়গায় খুঁজে পলাশ সিএনজি স্ট্র্যান্ডের কাছি কাছি গিয়ে দীর্ঘ সাত ঘন্টা পর তাকে দেখতে পাই।

পরে ঘটনার বিস্তারি তার মুখ থেকে জেনে পলাশ থানায় এই বিষয়ে অবগত করি ও তাকে ডাক্তার দেখাই। তার বুকের মাঝে কিল ঘুষি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।

এ ব্যপারে পলাশ থানার ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা বলেন,আপনারা যা শুনেছেন আমরা তা-ই শুনেছি। ওই ছেলে কার ও নাম ঠিকানা বলতে পারছে না। তারপরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নুরনাহার বেগম বলেন,সিয়াকে কে বা কারা ধরে নিয়ে গেছে শুনার পর সাথে সাথে আমার উর্ধতন কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অবগত করি।

এ দিগে বিগত কয়েক দিন ধরে পলাশ উপজেলায় সর্বত ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছেলে ধরা চক্র এলাকায় ছদ্মবেশে নাকি ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং শিশু-কিশোরদের তুলে নিয়ে হত্যা করে মাথা কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন গুজবে ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলার সর্বত্র। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবক মহল। প্রাইমারি স্কুল ও কিন্ডার গার্টেন স্কুলগুলোতে সতর্কতা করা হচ্ছে অভিভাবকদের। ছেলে ধরা আতঙ্কে গ্রামের শিশু-কিশোররা ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে।

গত কয়েকদিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছেলে ধরার খবর পাওয়া গেলেও শুধু পলাশ উপজেলার সিয়ামের ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী দাবি করছে, ছেলে ধরার ঘটনা ঘটেছে। তবে কাউকে নিতে পারেনি। কাউকে আটকও করা যায়নি। তবে প্রশাসন বলছে, এটা নিছক গুজব।

এদিকে, পলাশে অপরিচিত লোক দেখলেই মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বিপাকে পড়ছে ভিক্ষুক-ফেরিওয়ালা। অপরিচিত কেউ ভিক্ষা চাইতে গেলে গৃহস্থরা ভিক্ষা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

নরসিংদী জেলার কোথাও না কোথাও শিশু ধরে নিয়ে গেছে এমন গুজবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মাঝে। প্রায় গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে ছেলে ধরা’র খবর আসছে। তবে ঘটনা অনুসন্ধান করতে গেলে স্কুল ছাত্র ছিয়ামের ঘটনা বাদে কোথাও এমন ঘটনা ঘটেছে- এখন পর্যন্ত তার সুনির্দিষ্ট কোনো সত্যতা মিলছে না।

এ ব্যপারে জানতে চাইলে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিন জানান,এ বিষয়ে আমি তো কিছুই জানি না। আগে খবর নেই তার পরে। আমি জয়েন সেক্রেটারি স্যারের সাথে আছি পরে কথা বলব। স্যার আসছেন পর্রিদশনে আমি একটু পরে ফোন দিব বলে ফোন কেটে দেন। তার পরে তিন ঘন্টা পর একাধিকবার ফোন দিলে ও তিনি ফোন রিসিফ করেননি।