৯৮ বছর আগে ৩৫ মিনিটে সেঞ্চুরি করেছিলেন ফেন্ডার

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৮ | আপডেট: ১১:১৭:পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৬, ২০১৮

টিবিটি খেলাধুলা: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের উন্মাদনার ছোঁয়া টেস্ট ক্রিকেটে লেগেছে খুব বেশিদিন হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে মারকাটারি ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী দেখা যায় ধৈর্য্য ও আভিজাত্যের প্রতীক টেস্ট ক্রিকেটেও। কিন্তু তাই বলে পূর্বে লাল বলের ক্রিকেটে মারমার, কাটকাট ছিল না তা ভেবে বসা ভুল।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তী ব্যাটসম্যান স্যার ভিভ রিচার্ডসের ব্যাট তলোয়ারের মতো চলতো যেকোন ফরম্যাটেই। মারকাটারি ব্যাটিংয়ের জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন তিনি। তবে তারও আগে থেকেই সাদা পোশাকের টেস্ট ক্রিকেটে হুটহাট অতিমানবীয় ধ্বংসাত্তক ইনিংস খেলার নজির পাওয়া যায় ক্রিকেট ইতিহাসে।

আজ থেকে ঠিক ৯৮ বছর আগে তেমনই এক রেকর্ড গড়ে রেখেছেন প্রয়াত ইংলিশ ক্রিকেটার পার্সি ফেন্ডার। স্বীকৃত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র ৩৫ মিনিটেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সময়ের হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন ফেন্ডার। ১৯২০ সালের আজকের তারিখে নিজের জন্মদিনের ৪ দিন পরে নর্দাম্পটনে সাসেক্সের হয়ে নরদ্যান্টের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ মিনিটেই ব্যক্তিগত শতরান পূরণ করে ফেলেন ফেন্ডার।

সেই ইনিংসে ১১৩ রান করে অপরাজিত থাকেন ১৯৮৫ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা এই ইংলিশ ক্রিকেটার। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অবিশ্বাস্য এই রেকর্ড গড়া ক্রিকেটার অবশ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খুব একটা সফল হতে পারেননি। ১৯২০ সালে ২৮ বছর বয়সে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ফেন্ডারের টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক হয় পরের বছরেই।

দীর্ঘ আট বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে মাত্র ১৩টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান এই অলরাউন্ডার। দুইটি অর্ধশতকে তার ব্যাট থেকে রান আসে মাত্র ৩৮০। তবে দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারে ৫৫৭টি ম্যাচ খেলেন তিনি। যাতে ২১টি সেঞ্চুরি ও ১০২টি হাফসেঞ্চুরিতে করেন ১৯০৩৪ রান।

এছাড়া ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলিং ও লেগব্রেক বোলিংয়ে প্রায় দুই হাজার প্রথম শ্রেণীর উইকেট দখল করেন ফেন্ডার। পাক্কা ১০০ বার ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেয়া ফেন্ডারের প্রথম শ্রেণীর উইকেট সংখ্যা ১৮৯৪। লন্ডনে ১৮৯২ সালে জন্ম নেয়া ফেন্ডার ১৯৮৫ সালে ডেভনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

ফেন্ডারের মৃত্যুর আগেই তার গড়া দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন ল্যাঙ্কাশায়ারের বোলার স্টিভ ওসুনেসি। লিস্টার সিটির বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচের শেষ দিনে ওসুনেসিও সেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন মাত্র ৩৫ মিনিটেই। কিন্তু সেই সেশনে দুই দলই হাল ছেড়ে দেয়া ক্রিকেট খেলায় ওসুনেসির ইনিংসটিকে রেকর্ডবুকের বাইরেই রাখা হয়। যার ফলে মৃত্যুর আগে নিজের রেকর্ডটি অক্ষতই দেখে যান ফেন্ডার, যা কিনা অক্ষত আছে ৯৮ বছর ধরে।

এছাড়াও প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ফেন্ডারের চেয়ে দ্রুততম সময়ে সেঞ্চুরির নজির রয়েছে ৪টি। ১৯৯৩ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের হয়ে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে মাত্র ২১ মিনিটেই সেঞ্চুরি করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তী গ্রেগ চ্যাপেল। মার্ক লুইস পেত্তিনি ২৪ মিনিটে, মার্ক গুডউইন ২৫ মিনিটে ও টম মুডি ২৬ মিনিটেই সেঞ্চুরি করলেও ম্যাচের পরিস্থিতির ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্যতা হারায় এসব রেকর্ড।

স্বীকৃত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সময়ের হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি ফেন্ডারের নামের পাশে থাকলেও দ্রুততম দ্বিশতক ও ত্রিশতকের রেকর্ড রয়েছে ভিন্ন দুজনের দখলে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে মাত্র ১০৩ মিনিটে ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন আফগানিস্তানের শফিকুল্লাহ। আর দ্রুততম ৩০০ রানের রেকর্ডটি আরেক ইংলিশ ক্রিকেটার ডেনিস কম্পটনের দখলে। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে ট্রিপল সেঞ্চুরি করতে তিনি সময় নিয়েছিলেন ১৮১ মিনিট।