‌‘বিএনপি নেতিবাচক রাজনীতি ছেড়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করবে’

খালেদা জিয়ার মুক্তিতে তথ্যমন্ত্রীর আশাবাদ

প্রকাশিত: ৭:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০ | আপডেট: ৭:০১:অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০
সচিবালয় বিটের সাংবাদিক প্রতিনিধিদের কাছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী হস্তান্তর করেন তথ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বিএনপিনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রেক্ষিতে বলেছেন, ‘আমরা আশা করবো, প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতা ও মহানুভবতার কারণে বিএনপি নেতিবাচক এবং ধ্বংসাত্মক রাজনীতি থেকে ফিরে আসবে এবং করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের সঙ্গে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে একযোগে জনগণের পাশে দাঁড়াবে।’

আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীতে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সচিবালয় বিটের সাংবাদিক প্রতিনিধিদের কাছে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সামগ্রী হিসেবে মাস্ক ও হ্যান্ডস্যানিটাইজার হস্তান্তরকালে একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সাক্ষাৎ করে আবেদন জানানো হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারার উপধারা ১ অনুসারে তার ক্ষমতাবলে বেগম জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করবো, সরকারের যে মহানুভবতা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যে মহানুভবতায় বেগম জিয়ার সাজা স্থগিত করে তার বয়স বিবেচনা এবং তার পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে, আমি মনে করি এর ফলে দেশে তারা যে নেতিবাচক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার যে সংস্কৃতি তারা লালন করে আসছিলেন এবং ‘পলিটিকস অভ্ ডিনায়াল’ এবং ‘পলিটিকস অভ্ কনফ্রনটেশন’র যে রাজনীতি তারা করে আসছিলেন, সেটির অবসান করবেন।’

‘বৈশ্বিক দুর্যোগ এই করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে তাদের (বিএনপি) পক্ষ থেকে অনেক ধরণের নেতিবাচক এমনকি বিদ্বেষভাবাপন্ন কথাবার্তাও বলা হয়েছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করবো যে, বেগম জিয়ার মুক্তির প্রেক্ষিতে এখন করোনা ভাইরাস মোকাবিলায় তারা সরকারের সঙ্গে, আওয়ামী লীগের সঙ্গে, একযোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর জন্য কাজ করবেন।’

‘খালেদা জিয়ার মুক্তিতে করোনাভাইরাস থেকে দেশ মুক্তি পাবে’ বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুলের এই মন্তব্যর বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘করোনাভাইরাস একটি বৈশ্বিক দুর্যোগ, এর সঙ্গে খালেদা জিয়ার মুক্তির কোনও সম্পর্ক নেই। এ ধরনের দায়িত্বহীন কথা তিনি বলেছেন কিনা সেটি আমি জানি না। তবে বলে থাকলে আমি আশা করবো ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বহীন কথা কেউ বলবেন না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও অনলাইন মিডিয়ায় দেখেছি মির্জা ফখরুলের বরাত দিয়ে এ ধরনের একটি বক্তব্য ছাপানো হয়েছে।‘

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষণিকভাবে সাধুবাদ না জানালেও বিএনপির পক্ষ থেকে কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। এবং সরকারকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের পক্ষ থেকেও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকেও ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।’

করোনা মোকাবিলা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে এবং যানবাহন চলাচল সীমিত করা হয়েছে, গণপরিবহন বন্ধ করা হয়েছে। এতে মানুষের চলাচল বন্ধ হলে করোনাভাইরাস সংক্রমনটা রোধ হবে। অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এসব ব্যবস্থা নিয়ে অনেকটা সফল হয়েছে। সেই কারণেই বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। আমরা আশা করি আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই মহাদুর্যোগ থেকে দেশ ও মানুষকে রক্ষা করতে পারবো।’

খালেদা জিয়ার মুক্তি বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হয়েছিল। তার পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা হয়েছিল। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষমতাবলে সিআরপিসির ৪০১ উপধারা অনুসারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’

বিএনপির উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এতদিন ধরে যে নেতিবাচক এবং ধ্বংসাত্মক রাজনীতি করে আসছিলেন, আমরা আশা করবো প্রধানমন্ত্রীর এই উদারতার কারণে সেটি থেকে বিএনপি ফিরে আসবে।’

ছুটির সময় সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালন নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সাংবাদিকদের যে কার্ড আছে সেটিই যথেষ্ট। যদি সাংবাদিকদের মিডিয়া হাউজ থেকে বলে দেওয়া হয় তিনি অন ডিউটি, তাহলে সেটিই যথেষ্ট। এটির জন্য আলাদা কার্ড দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আছে বলে আমি মনে করি না। কারণ, একজন সাংবাদিক যখন অন ডিউটি, তখন তাকে সহায়তা করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।’

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি তপন বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক শামীম আহমেদসহ কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন।