ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড হারালে কী করবেন?

প্রকাশিত: ৫:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৫৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

কাঁচা বাজার থেকে গয়না, বাসের টিকিট থেকে প্লেনের, বিদ্যুতের বিল থেকে হোটেল বুকিং সব কিছুর জন্যই নিরাপত্তা ও টাকা সঙ্গে রাখার ঝামেলা এড়াতে আমরা ব্যাংকের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করি। আর কার্ড ব্যবহারের সুবিধা শুধু টাকা রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তিই নয়। কার্ডে কেনাকাটা করলে মেলে অনেক ধরনের অফার ও উপহার।

এতো যার সুবিধা তার নিরাপত্তা কোডটি কিন্তু খুব নিরাপদ নয়, বিশেষ করে যদি হারিয়ে বা চুরি হয়ে যায়।

তবে যদি হারিয়ে যায় অথবা ছিনতাই হয়, চুরি হয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কিভাবে এই কার্ড আবার পাওয়া যাবে বা কার্ডটি হ্যাক হলে করণীয় কি তা নিয়ে আজকের ফিচার। আসুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

ক্রেডিট কার্ড হারিয়ে গেলে করণীয়

১। কার্ডটি হারিয়ে গেলে, চুরি হলে বা ছিনতাই হলে সঙ্গে সঙ্গে যে ব্যাংকের মাধ্যমে কার্ড পেয়েছেন সেই ব্যাংকে জানান।

২। কার্ড হ্যাক হয়েছে বোঝার সাথে সাথে ব্যাংকে গিয়ে পিন নম্বর চেক করুন। অনলাইন ব্যাংকিং হলে ব্যালেন্স চেক করুন এবং কোন প্রকার গোলমাল মনে হলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানান।

৩। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য সব ব্যাংকেরই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে এমন ফোন নম্বর তাদের থাকে। কার্ড হারানোর পর সেই নম্বরে ফোন করে আপনার কার্ডের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দিন।

৪। ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর আপনার অ্যাকাউন্ট নম্বর, কার্ড হারানোর তারিখ, ব্যাংকে জানানোর সময় ইত্যাদি তথ্যসংবলিত মেইল আসবে আপনার ই-মেইল ঠিকানায়।ই-মেইল টি নিজের সংগ্রহে রাখুন।

৫। ই-মেইল টি ভালো করে দেখুন কোন প্রকার লেনদেন হয়েছে কিনা।যদি লেনদেন হয়ে থাকে তবে তা সাথে সাথে ব্যাংক কর্তপক্ষকে জানান।

নতুন কার্ড পেতে করণীয়

১। আপনার কার্ড হারিয়ে গেলে, যদি আপনি নতুন কার্ড পেতে চান তবে প্রথমে আপনাকে একটি জিডি করতে হবে। জিডি করার কাগজটি নিয়ে ব্যাংকে যেতে হবে এবং জমা দিতে হবে।

২। নতুন কার্ডের জন্য আপনাকে ব্যাংকের একটি ফরম পূরণ করতে হবে। এই ফরমে আপনার সম্পর্কে সকল তথ্য দিতে হবে। আপনার জন্মসনদ, স্মার্ট কার্ড ইত্যাদি প্রয়োজন হবে।

৩। প্রতিটা কার্ডের নির্দিষ্ট কিছু চার্জ সিস্টেম থাকে, তেমনি আপনাকে কার্ডের ধরন অনুযায়ী কার্ডের জন্য চার্জ দিতে হবে। এরপর আপনাকে ২ সপ্তাহ পর নতুন পিন নম্বর সহ নতুন কার্ড দেওয়া হবে।

৪। নতুন কার্ড হাতে পাওয়ার পর যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রয়িভাবে প্রতি মাসে লেনদেন করতেন, সেসব প্রতিষ্ঠানে নিজের অ্যাকাউন্টটি আপডেট করিয়ে নিতে হবে।

জেনে রাখুন

অনেক সময় এটিএম বুথে ছিনতাইকারীর কবলে পরে কার্ড দিয়ে দিতে হয়। তারা জোর করে পাসওয়ার্ড চায়, তখন আপনাকে একটু কৌশল অবলম্বন করতে হবে। আপনার পাসওয়ার্ড যদি হয় ৪৩২১ তবে আপনাকে বলতে হবে ১২৩৪। এতে আপনার টাকা মেশিন থেকে বার হবে ঠিকই তবে মাঝ পথে এসে থেমে যাবে আর বের হবে না। আর তখন কন্ট্রোল রুমে অটোসিগন্যাল চলে যাবে যে আপনি বিপদগ্রস্ত।

বিশেষভাবে জেনে রাখুন

১। কার্ড এবং পাসওয়ার্ডের বিষয়ে সচেতন থাকুন। পাসওয়ার্ড সবসময় কঠিন কিছু দিন তবে আপনি মনে রাখতে পারেন এ ধরনের দিবেন। কোথাও পাসওয়ার্ড বা পিন লিখে রাখা বা মোবাইলে লিখে সেভ করে রাখা এধরনের ভুল করবেন না।

২। মানিব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, পকেট এধরনের কোথাও পিন বা পাসওয়ার্ড লিখে গোপন করে রাখবেন না।

৩। যখন প্রয়োজন, কেবল তখনই ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডটি সঙ্গে রাখুন।

৪। কখনোই খামের ওপরে, ডিপসিট স্লিপে বা কোনো কাগজে পাসওয়ার্ড লিখবেন না। কারণ এগুলো খুব সহজেই অন্যের নজরে পড়ে।

৫। বাড়িতে একটি নোটবুকে অ্যাকাউন্ট নম্বর, কার্ডের মেয়াদের তারিখ, জরুরি তথ্যসেবা কেন্দ্রের ফোন নম্বর, কোন শাখা থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন এসব তথ্য লিখে রাখুন।

৬। আমাদের দেশে প্রতিনিয়ত কিছু না কিছু অঘটন ঘটে থাকে।তাই এসব বিষয়ে যতটা সম্ভব সচেতন থাকা যায় আমাদের থাকতে হবে।