বাসের চাকায় পিষ্ট এসআই উত্তমের পরিবারের স্বপ্ন

টিবিটি টিবিটি

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮ | আপডেট: ৩:২৮:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৮

টিবিটি মেট্রোঃ ২০১৪ সালে ঢাকার ধামরাইয়ের তমা রানী চৌধুরীর সঙ্গে বিয়ে হয় টাঙ্গাইলের কালিহাতী পৌরসভার বেতডোবা গ্রামের পুলিশ কর্মকর্তা উত্তম কুমার সরকারের। তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রায় চার বছর পর জন্ম নেয় ফুটফুটে কন্যা সন্তান। নাম রাখেন উপমা সরকার।

উপমার কণ্ঠে ‘বাবা’ ডাক শোনার আগেই বাসচাপায় অকালে প্রাণ গেলো এই পুলিশ কর্মকর্তার। তিন মাসের শিশুটি চিরবঞ্চিত হলো বাবার স্নেহ-আদর থেকে। স্বামী হারানোর শোকে মুহ্যমান স্ত্রী তমা রানী চৌধুরীর সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যত। আগেই স্বামী ভজন সরকারকে হারিয়েছেন মা কামনা সরকার। ছেলেকে হারিয়ে তিনি এখন পাগলপ্রায়।

ঘাতক বাস শুধু উত্তমের প্রাণই কেড়ে নিলো না, থেঁতলে দিলো একটি পরিবারের স্বপ্ন। তার অকাল মৃত্যুতে পুলিশ প্রশাসনও হারালো নিষ্ঠাবান এক কর্মকর্তাকে।

গত রবিবার (২ সেপ্টেম্বর) সড়ক দুর্ঘটনায় জব্দ করা একটি বাস থানায় নেওয়ার সময় সেটির চাপায় মারা যান রাজধানীর রূপনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উত্তম কুমার সরকার। মোটরসাইকেল চালিয়ে তিনি বাসটির আগে আগে যাচ্ছিলেন।

সোমবার (৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নিজ গ্রামে উত্তম কুমারের মরদেহ আনা হলে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্ত্রী তমা রানী ও মা কামনা সরকারসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। এই আহাজারি ছুঁয়ে যায় গ্রামবাসীদেরও।

ওই রাতেই উত্তমের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।নিহত উত্তম কুমারের স্ত্রী তমা সরকার বিলাপ করছিলেন, ‘আমি কাকে নিয়ে বাচঁবো, কে নেবে আমার উপমার দায়িত্ব? যারা আমার স্বামীকে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তারাও বলছেন, এটি কোনও দুর্ঘটনা নয়, হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন নিহত উত্তম কুমারের পরিবারসহ এলাকাবাসী।

নিহতের ভাই দীপঙ্কর সরকার জানান, এ ঘটনায় মামলা করেছেন তারা। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ভাইয়ের মৃত্যুর বিচার দাবি করেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে পুলিশের এসআই পদে যোগদান করেন উত্তম কুমার। যোগদানের পর থেকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা, মোহাম্মদপুর ও সর্বশেষ রূপনগর থানায় কর্মরত ছিলেন তিনি।