The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

অঞ্জনার আক্ষেপ

অঞ্জনার আক্ষেপ
চিত্রনায়িকা অঞ্জনা সুলতানা। ছবি: সংগৃহীত

চিত্রনায়িকা অঞ্জনা সুলতানার জন্মদিন ছিল গত ২৭ জুন। বিশেষ এই দিনে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের শুভেচ্ছায় ভেসেছেন তিনি। কিন্তু এর পরদিনই অক্ষেপ প্রকাশ করেছেন এই অভিনেত্রী। 

অঞ্জনা আজ ফেইসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যেখানে অঞ্জনা লেখেন, গতকাল ২৭ জুন আমার জন্মদিন ছিল, দেশে ও দেশের বাইরের আমার অসংখ্য প্রিয় ভক্ত শুভাকাঙ্ক্ষী এবং প্রিয়জনদের সবার ভালবাসা ও শুভেচ্ছায় আমি সত্যিই ধন্য।

আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর কোন ভাষা আমার জানা নেই। আপনাদের এই অকৃতিম হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসার জন্যই আজ আমি অঞ্জনা হতে পেড়েছি। কিন্তু অনেক দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, বাংলা চলচ্চিত্রের সেই ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালী অধ্যায়ে অসংখ্য সুপার বাম্পার হিট মাইলস্টোন দর্শকনন্দিত চলচ্চিত্রে আমি অভিনয় করেছি।

শুধু বাংলাদেশেই না বাংলাদেশ ছাড়াও আন্তর্জাতিকভাবে একমাত্র আমি অঞ্জনা বিশ্বের ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায় অভিনয় করেছি।সমৃদ্ধময় করেছি বাংলা চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি অঙ্গনকে। এরপর থেকে এখন অব্দি আমি নিরলসভাবে জড়িত আছি এই চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির তিন তিনবার পরপর নির্বাচনে আমার প্রিয় শ্রদ্ধেয় শিল্পীদের অসংখ্য ভোটে আমি নির্বাচিত হয়েছি প্রতিবার।

বর্তমান চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই অভিনেত্রী আরও লিখেন, বর্তমান বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আমি কেবিন্যাটে রয়েছি। সবচাইতে দুঃখের বিষয় হলো আমার জন্মদিনে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান কমিটির সম্মানিত কার্যনির্বাহী সদস্য প্রিয় বোন রোজিনা, প্রিয় বোন অরুণা বিশ্বাস, শাহানুর, জায়েদ খাস ও জয় চৌধুরী ব্যতীত আর একজনও আমাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানায়নি। অথচ বর্তমান কমিটির অনেকের জন্মদিনে আমি ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এবং কল করে তাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছি।

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বা কল করে শুভেচ্ছা জানালে বা না জানালে অবশ্যই আমার কিছু আসে যায় না উল্লেখ করে তিনি লেখেন, কিন্তু এতটি বছর চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পর সবার কাছ থেকে এইটুকু ভালোবাসাতো নিত্যান্ত প্রাপ্য। বর্তমান শিল্পী সমিতির কমিটির অনেকের এ রকম ব্যবহারে সত্যিই আমি মর্মাহত। আর কিছুই বলার নেই। 

অঞ্জনা রহমান অভিনয় ক্যারিয়ারে ৩৫০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কাপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের সদস্যের দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিনয়, নৃত্য ও মডেলিং তিনটিতেই অঞ্জনা সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’। কিন্তু দর্শকের সামনে তিনি প্রথম আসেন মাসুদ পারভেজের ‘দস্যু বনহূর’ সিনেমার মাধ্যমে। নায়করাজ রাজ্জাকের সঙ্গে সর্বাধিক ৩০টি সিনেমার নায়িকাও অঞ্জনা।

এর মধ্যে ‘অশিক্ষিত’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘আশার আলো’, ‘জিঞ্জির’, ‘আনারকলি’, ‘বৌরানী’, ‘সোনার হরিণ’, ‘মানা’, ‘রাম রহিম জন’, ‘সানাই’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সাহেব বিবি গোলাম’ ও ‘অভিযান’ উল্লেখযোগ্য। ‘পরিণীতা’, ‘গাংচিল’ সিনেমার জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান অঞ্জনা। এ ছাড়াও দুইবার বাচসাস, দুইবার নৃত্যে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ১৯৯৮ সালে ভারতীয় উপমহাদেশে নৃত্যে প্রথম হয়ে জিতে নেন হলিউড অ্যাওয়ার্ড।