The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২

সুন্দরী উট পেতে ধনকুবেরদের ভিড়!

সুন্দরী উট পেতে ধনকুবেরদের ভিড়!
ছবি: সংগৃহীত

মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউনিভার্স-এর মতো বিভিন্ন সুন্দরী প্রতিযোগিতার নাম তো অনেক শুনেছেন। যেখানে উপস্থিত হয় বিভিন্ন দেশের সুন্দরীরা। যারা তাদের রূপে গুনে সকলকে মুগ্ধ করে, চারদিকে পড়ে চারদিকে পড়ে হাজারো বাহবা, হাততালি। কিন্তু, একটু ভেবে দেখন তো যদি এই সুন্দরীদের জায়গায় থাকে যদি উট, তাহলে ব্যাপারটা কেমন মজার হয়! হ্যাঁ, এমনি এক ব্যতিক্রমী মজার উট সুন্দরী প্রতিযোগিতা আয়োজন করে উটের দেশ সৌদি-আরব।

কিং আবদুল আজিজ ক্যামেলস ফেস্টিভ্যাল

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয় এই ভিন্নধর্মী এই প্রতিযোগিতাটি। এই প্রতিযোগিতাটির নাম কিং আবদুল আজিজ ক্যামেলস ফেস্টিভ্যাল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রতিযোগিতায় সৌদি আরব ও পার্শ্ববর্তী উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রায় ৩০ হাজারের বেশি উট অংশ নেয়। প্রায় ২৮ দিনব্যাপী চলে এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা। উটের সুন্দর কোঁকড়ানো চুল, ঠোঁট, চোখের পাপড়ি এবং সুন্দর কুজের ভিত্তিতে সুন্দরী নির্বাচন করা হয়। হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতে জমজমাট হয়ে উঠে উট সুন্দরী প্রতিযোগিতা।

উট মালিকেরাও সুন্দর করে সাজিয়ে তাদের উট নিয়ে হাজির হয় এই প্রতিযোগিতায়। সেরা সুন্দরীদের জন্য বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরষ্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। এই প্রতিযোগিতার মোট অর্থ পুরস্কার প্রায় ৫৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে, এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রত্যেক উটকে যেতে হবে মেডিকেল পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে। কোন রকম কারচুপি করা যাবে আর কৃত্রিমভাবে উটের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করানো হলে সেক্ষেত্রে শাস্তির ব্যবস্থা আছে।

এই প্রতিযোগিতার সুন্দরী উটের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই চাওয়া পূরণ করছে দুবাইয়ের বায়োটেকনোলজি সেন্টার। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম ধনী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিজ্ঞানীরা মাইক্রোস্কোপ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।

বায়োটেকনোলজি সেন্টারের বৈজ্ঞানিক পরিচালক নিসার ওয়ানি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, আমাদের এখানে উট ক্লোনিংয়ের এত চাহিদা আসে যে, আমাদের পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। শুধু সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার কারণেই যে উট ক্লোনিং শিল্প সমৃদ্ধ হচ্ছে বিষয়টি তা নয়, বরং অনেক গ্রাহক রেসিং উট বা প্রচুর দুধ দেয় এমন উটেরও ক্লোন চাইছেন। তবে অবশ্যই ‘বিউটি কুইনস’ হল সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দামি অর্ডার। উপসাগরীয় গ্রাহকরা তাদের পছন্দের ক্লোনের জন্য ৫০ লক্ষ থেকে এক কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ করতেও রাজি থাকেন।

নিজের ল্যাবরেটরিতে কাজ করছেন ক্লোন বিজ্ঞানী ডা. নিসার ওয়ানি

কুয়েতে উটের নিলাম চালানো সৌদ আল-ওতাইবি বলেন, পশুর চেহারা সম্পর্কে গ্রাহকদের রায়ই তার ব্যবসার চাবিকাঠি। উটের দাম তার সৌন্দর্য, স্বাস্থ্য এবং জাত কতটা পরিচিত তার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। অনেক ক্রেতা উট কেনার আগে তার সৌন্দর্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে তার মাকেও দেখতে চায়।

বারো বছর আগে ২০০৯ সালে দুবাই বিশ্বের প্রথম উটের ক্লোন করার দাবি করে। পাঁচ বছর চেষ্টার পর সে বছর ইনজাজা নামের এক মাদি উট জন্ম নেয়। সেই যে শুরু, আর পেছনে তাকাতে হয়নি বিজ্ঞানী ওয়ানি ও তার টিমকে।

ওয়ানি বলেন, আমরা এখন প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন করছি, সম্ভবত প্রতি বছর ১০ থেকে ২০টিরও বেশি বাচ্চা উৎপাদন করছি। এই বছর (এখন পর্যন্ত) আমাদের ২৮টি উটের গর্ভধারণ হয়েছে। গত বছরে এ সংখ্যা ছিল ২০টি।

মরুভূমির জাহাজ নামে পরিচিত উটগুলো এক সময় মরু অঞ্চলে পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিবহনের জন্য অনেক ধরনের যান এসেছে। ফলে উটগুলো যুক্ত হয়েছে রেসিং চ্যাম্পিয়ন, উচ্চ দুধ উৎপাদনকারী প্রাণী এবং বিউটি কুইন্স নামে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায়। তাই এ তিন ধরনের উটেরই ক্লোনিংয়ে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এক্ষেত্রে কিছু সমস্যাও রয়েছে, যা প্রাকৃতিক। মাদি উটগুলো দুই বছরে মাত্র একটি উটের বাচ্চার জন্ম দিতে পারে। স্বাভাবিকভাবে উটের গর্ভকাল ১৩ মাস। গর্ভধারণের সময় কীভাবে কমিয়ে আনা যায়, বিজ্ঞানীরা সে ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্র: ২৪ লাইভ নিউজ।


আরও পড়ুন