The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হচ্ছে করোনার টিকা

যুক্তরাষ্ট্রে নষ্ট হচ্ছে করোনার টিকা
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে যখন ফের কোভিড-১৯ এর বিস্তার বাড়তে শুরু করেছে, ঠিক এমন সময় দেশটিতে এর বিপুল পরিমাণ টিকা নষ্ট হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি জরিপের তথ্য বলছে, ডিসেম্বরে দেশটিতে টিকাদান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১০টি রাজ্যে ১০ লাখের বেশি ডোজ টিকা নষ্ট হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, টিকা দেওয়ার চাহিদা কমে যাওয়াতেই মূল ক্ষতিটা হয়েছে। খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।  

ওই জরিপে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি টিকা নষ্ট হয়েছে জর্জিয়ায়। সেখানে সবচেয়ে বেশি এক লাখ ১০ হাজার ডোজ টিকা ধ্বংস করা হয়েছে। নিউজার্সিতে নষ্ট হয়েছে ৫৩ হাজারের বেশি ডোজ। এর মধ্যে শুধু জুনেই নষ্ট হয়েছে ২০ হাজার ডোজ টিকা। এর আগে গত এপ্রিলে এই রাজ্যে নষ্ট করা হয়েছিল আরো চার হাজার ডোজ টিকা। এছাড়া ওহিওতে তিন লাখ ৭০ হাজার ডোজ টিকা ব্যবহারের অনুপযোগী বলে জানিয়েছেন সেখানকার কর্মকর্তারা, যা নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। মেরিল্যান্ডেও প্রায় ৫০ হাজার ডোজ টিকা অব্যবহৃত রয়েছে।

কর্মকর্তারা টিকা অপচয়ের বেশকিছু কারণও জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ভেঙে যাওয়া, সংরক্ষণ ও পরিবহন সমস্যা, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়া। এসব কারণ সব দেশেই কম বেশি হয়। তবে অনেকেই নির্দিষ্ট সময়ে টিকা না নেয়ায় অনেক টিকা ব্যবহার করা যায়নি বলেও জানিয়েছেন টিকা প্রদানকারী কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন টিকা নষ্টের বিষয়টি নজরদারি করলেও পুরো দেশে ঠিক কী পরিমাণ টিকা নষ্ট হচ্ছে, সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দেয়নি।

করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরনের কারণে আমেরিকায় টিকার বাইরে থাকা এলাকাগুলোতে সংক্রমণ ফের বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু তারপরও সেখানকার অনেক নাগরিক টিকা নিতে আগ্রহী নয়। অবশ্য কয়েকটি রাজ্যে টিকাদানের হার বাড়ছে। তিন সপ্তাহ আগে দেশটিতে দৈনিক টিকাদান গড়ে পাঁচ লাখ থেকে বেড়ে সাড়ে ছয় লাখ ডোজে উন্নীত হয়েছিল। গত শুক্রবার তা সাড়ে আট লাখে পৌঁছায়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো পুরোপুরি টিকা পায়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসোসিয়েশন অব স্টেট অ্যান্ড টেরিটোরিয়াল হেলফ অফিসিয়ালসের মেডিকেল অফিসার মার্কাস প্লেসিয়া বলেন, প্রথমদিকে এটি এমন একটি সমস্যা ছিল যখন মানুষ চাওয়ার পরও টিকা পায়নি। আর এখন সঙ্কট হচ্ছে এটি যথেষ্ট থাকার পরও মানুষ নিতে চাইছে না। আর এ কারণেই টিকা নষ্ট হওয়ার পরিমাণ বাড়ছে।