The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

চিতলমারীতে কঠোর লকডাউনেও কিস্তির চাপ দিচ্ছে এনজিও

চিতলমারীতে কঠোর লকডাউনেও কিস্তির চাপ দিচ্ছে এনজিও

চিতলমারী (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের চিতলমারীতে লকডাউনের মধ্যে কিস্তি আদায়ের জন্য জোর চাপ দেয়ায় গণমিলণ ফাউন্ডেশন নামের এক বিতর্কিত এনজিওর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তাপস বাড়ৈ নামের এক ভুক্তভোগী লোন গ্রহীতা। এ ব্যপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ লিটন আলী। 

জানা গেছে, ভুক্তভোগী তাপস বাড়ৈ চিতলমারী বাজারে বই ব্যবসা করে। নগদ টাকার প্রয়োজন হলে সে ৩১মার্চ, ২০২১ তারিখে গণমিলণ ফাউন্ডেশন থেকে দুই লক্ষ টাকা লোন গ্রহণ করে। মাসিক ২০ হাজার ৪শত টাকার কয়েকটি কিস্তি দেয়ার পর কারোনা পরিস্থিতি অবনতির কারনে সরকার আবার লকডাউনের ঘোষনা দেয়। জিও-এনজিও’কে সকল প্রকার কিস্তি আদায় বিরত রাখার প্রজ্ঞাপন জারি করে। কিন্তু সরকারি এ আদেশ উপেক্ষা করে গণমিলন এনজিও গ্রাহকদের চাপ দিয়ে কিস্তিসহ সুদ আদায় অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে স্কুল কলেজ বন্ধ হলে বই ব্যবসায়ে ধ্বস নামে। এর মধ্যে তাপস কিস্তি দিতে ব্যর্থ হলে এনজিও কর্মীরা তার দোকান ও বাড়ীতে গিয়ে দফায় দফায় অকথ্য ভাষায় গালাগালি এবং মামলা কোকর্দ্দমার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তাপস বিষয়টির সুবিচার চেয়ে ২ আগষ্ট, ২০২১ খ্রিঃ তারিখে চিতলমারী নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তাপস বাড়ৈ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রায়গ্রামের বাসুদেব বাড়ৈর ছেলে। এর আগে গণমিলণ ফাউন্ডেশন তাদের এক গ্রাহক রোজিনা বেগমের বীমার কয়েক লক্ষ টাকা মেরে দেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট অভিযোগ করলে ওই নারীকে সম্পূর্ন টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয় এই বিতর্কিত এনজিও।

অভিযোগকারী তাপস বাড়ৈ বলেন, আমি দুই হাজার একুশ সালের ৩১ মার্চ মাসে গণমিলণ ফাউন্ডেশনের কাছ থেকে দুই লক্ষ টাকা লোন গ্রহণ করি। দুই কিস্তি দেবার পর লকডাউনের কারনে আমার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে সরকার কিস্তি আদায় বন্ধ রাখার জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে। সরকারি আইন উপেক্ষা করে এ এনজিও আমাকে কিস্তি প্রদানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। দোকানে এবং বাড়ীতে এসে টাকার জন্য অমানবিক চাপ প্রয়োগসহ অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। পরে আমি সুবিচারের আশায় নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করি। স্কুল-কলেজ খোলাসহ ব্যবসার পরিবেশ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গণমিলণ ফাউন্ডেশনের কিস্তির টাকা আদায়ের চাপ থেকে মাপ পেতে দাবি জানিয়েছি। 

এ বিষয়ে গণমিলণ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক রনজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, তাপস নামের কেউ আমার এনজিও থেকে লোন গ্রহণ করেছে কিনা আমার জানা নেই। আমি কোন তাপসকে চিনি না। ২৫ জুলাই হতে লোন আদায় করা যাবে মের্মে এমআরএ থেকে চিঠি দিয়েছে। 

চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লিটন আলী বলেন, তাপস কুমার বাড়ৈ’র আভিযোগটি হাতে পেয়েছি। লকডাউনের মধ্যে সরকারি আইন অমান্য করে কিস্তি আদায় অপরাধ। বিষয়টির দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 


আরও পড়ুন