The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

যশোরের ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শেন্টারহোমে থাকা নারীদের হাতে প্রতিষ্টান ভাংচুর

যশোরের ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শেন্টারহোমে থাকা নারীদের হাতে প্রতিষ্টান ভাংচুর

শহিদ জয়, যশোর প্রতিনিধি : আপত্তি করা সত্ত্বেও ভারত ফেরৎ তিনজনসহ ৪ নারীকে যশোরের ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শেল্টার হোমে রাখায় করোনা ছড়িয়ে পড়বে এই আশংকায় হোমে ভাংচুর চালিয়েছে অন্য নারীরা। শুক্রবার দুপুর দুইটা থেকে বিকেল চারটা পযন্ত দুইঘন্টা ধরে সেখানে ভাংচুর চালানো হয়। 

তবে বিষয়টি জানার পর জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে রাইটস যশোর তিন নারীকে ঝিকরগাছা গাজীর দরগাহ কোয়ারেন্টাইনের রাখার ব্যবস্থা নেয়ার পর বিক্ষুব্ধরা কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়েছে বলে জানাগেছে। 

রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক জানিয়েছেন, ভারতের ব্যাঙ্গালুরু থেকে ৮জনকে গত বৃহস্পতিবার দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়। এদের মধ্যে তিনজন নারী। ওই ৮জনের মধ্যে ৭জন অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিল। বাকি একজন চিকিৎসা নিতে ভারতে যান। কিন্তু পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ায় না বোঝার কারণে ৩বছর জেলে থাকতে হয়। তাকেও ভিকটিমের তালিকা করে কৃর্তপক্ষ রাইটস যশোরের কাছে দেয়।

বৃহস্পতিবার ওই তিনজন এবং গাজীর দরগাহ কোয়ারেন্টাইন থেকে আরো একজন মোট ৪জনকে যশোরের ভেকুটিয়াস্থ ঢাকা আহছানিয়ে মিশনের শেল্টারহোমে রাখা হয়। আবার চারজনের একজনের কোয়ারেন্টাইন শেষ করা। বাকি তিনজনকে আলাদা করে হোমের দ্বিতীয়তলার শেল্টারহোমে রাখা হয়। সেটাও কোয়ারেন্টাইন। কিন্তু শুক্রবার দুপুরে সংবাদ পাই সেখানে ভাংচুর করা হয়েছে।

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের শেল্টার হোমের ব্যবস্থাপক শাহনাজ পারভীন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে রাইটস যশোর চারজন মেয়েকে নিয়ে আসে। তারা ভারত ফেরৎ। এদের মধ্যে তিনজনকে আলাদা করে কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করে কিছু মেয়ে অভিযোগ তোলে কোয়ারেন্টাইন শেষ না করে কাউকে এখানে রাখা যাবে না। যাদি তাদের করোনা হয়; তাহলে আমাদেরও হবে। এই কারণে তাদের বাইরে রাখতে হবে। তাদের বোঝাতে চাইলে না শুনে আচমকা জানালা, দরজা. খাট, তোষক ভাংচুর ও নষ্ট করে দেয়। 

বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক আরো জানিয়েছেন, ‘চারজনকে সেখানে রাখার আগে জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে নেয়া হয়। তাদের অনুমতি সাপেক্ষে সেখানে রাখা হয়েছিল। শুক্রবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে সেখানে যাওয়া হয় এবং মেয়েদের বোঝানো হয়। তারা বিষয়টি বুঝে ভাংচুরের জন্য ক্ষমা স্বীকার করে । আর তাদের আপত্তি শুনে তাদের সুবিধার কথা ভেবে শুক্রবার তিনজনকে গাজীর দরগাহ সেল্টারহোমে রাখা হয়েছে।’ 

এ ব্যাপারে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেছেন, ‘সেন্টার হোমে যারা রয়েছেন তারা সকলেই ভিকটিম। আর যাদের গত বৃহস্পতিবার রাতে আনা হয়েছে তারাও ভিকটিম। রাইটস যশোরের আবেদনের প্রেক্ষিতে আমরা সেখানে নতুন তিনজনকে আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়। সে হিসাবে রাখা হয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।


আরও পড়ুন