The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

দুদিনের টানা বর্ষনে রাজবাড়ীতে ফসলের ব্যপক ক্ষয় ক্ষতি

বৈরী আবহাওয়ায় দৌলতদিয়ায় ফেরি পারাপার ব্যহত

বৈরী আবহাওয়ায় দৌলতদিয়ায় ফেরি পারাপার ব্যহত

এম,মনিরুজ্জামান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: টানা দুইদিনের বৃষ্টিতে রাজবাড়ীর কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শীতকালীন সবজির পাশাপাশি পিয়াজ ও গমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে কৃষি বিভাগ বলছেন কৃষিতে ক্ষতির সম্ভাবনা এখই বলা সম্ভব নয়।

অপরদিকে টানা বর্ষনে ও নদী থাকায় দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌপথে ফেরি পারাপার চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে।

এমনিতেই ঘাটে ফেরি সংকট থাকায় যানজট দৌলতদিয়ায় এখন নিত্যদিনের ঘটনা।তদুপরি দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে দৌলতদিয়া ঘাটের চালু চারটি ঘাটের ফেরি সংলগ্ন  র্যাম রাস্তা কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পরায় ফেরিতে গাড়ী লোড আনলোডে সময় লাগছে  বেশি। ফলে ফেরির টিপকমে যাওয়ায় গত ২ দিন ধরে সব সময়ই ৪/৫ শত গাড়ি আটকে থাকছে।

এতে যাত্রী  ও যানচালকদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

আর জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলার এ বছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে।

এর মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে শীতকালীন সবজি চলমান রয়েছে। যেখানে ক্ষতির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া জেলায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পিয়াজের আবাদ চলমান রয়েছে। বৃষ্টি আরও দুই তিনদিন অব্যাহত থাকলে মুড়িকাটা পিয়াজের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এছাাড়া বৃষ্টিতে সদ্য গজানো পিয়াজের হালি মাটিতেমিশে গেছে।তাছাড়া দেশের পিয়াজ উৎপাদনে শীর্ষ জেলাগুলোর মধ্যে রাজবাড়ীতে তৃতীয় অবস্থানে থেকে পিয়াজের আবাদ হয়। এ বছর ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে পিয়াজের আবাদ লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করা হয়েছে। যার জন্য কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে পিয়াজের বীজ (দানা) বপণ করা হয়েছে। যেগুলো ক্ষতির সম্ভাবনার মধ্যে পড়েছে।

দুপুরে জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলা জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অব্যাহত বৃষ্টিতে বিভিন্ন জমিতে পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। শীতকালীন সবজির মধ্যে ফুলকপি ও পাতাকফির গাছগুলো মাটিতে পড়ে রয়েছে। বেশ কিছু জমির কাঁটা ধান পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। অনেক জায়গায় পেঁয়াজের বীজের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। কৃষকেরা জমির আইল কেটে পানি জমি থেকে পানি বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।কৃষক মোস্তাফা শেখ বলেন, আমার পিয়াজ লাগানোর জন্য আধা কেজির বীজতলা নষ্ট হয়ে যাবে। মাঠে দুইকাঠা মুড়িকাটা পিয়াজ লাগিয়েছিলাম সেখানে পানি জমে রয়েছে। ফুলকপির গাছগুলো মাটিতে পড়ে রয়েছে। এখন কমদামে সবগুলো বিক্রি করতে হবে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কৃষক বলেন, কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সঠিকভাবে তুলে ধরে না।

কৃষকদের কান্না তাদের কাছে পৌছায় না। নামে মাত্র ভুর্তুকী দেয় কৃষি বিভাগ। দুই দিনের বৃষ্টিতে কৃষিতে প্রতি কৃষক পরিবারেই ক্ষতি হয়েছে।রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের উপ-পরিচালক এস এম শহীদ নূর আকবর বলেন, বৃষ্টির মধ্যে আমাদের উপ-সহকারি কৃষি অফিসারগণ বিভিন্ন এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। বৃষ্টির শেষে ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। তবে কিছুটা যে ক্ষতি হয়েছে সেকথা বলাই যায়। বিশেষ করে পিয়াজসহ শীতকালীন সবজিতে ক্ষতির পরিমাণ বেশি হবে।


আরও পড়ুন