The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার রহস্য উদঘাটন

গাজীপুরে স্ত্রী হত্যার রহস্য উদঘাটন

রাজীব প্রধান, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায়  স্বামী কর্তৃক স্ত্রী হত্যার রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ। এই হত্যা মামলার একমাত্র আসামীর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ডপূর্বক মামলা রুজুর ১২ ঘন্টার মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার এসএম সফিউল্লাহর দিক নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ছানোয়ার হোসেন গাজীপুর এর তদারকিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কালিগঞ্জ সার্কেলের  তত্ত্বাবধানে কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জের নের্তৃত্বে কাপাসিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ১২ ঘন্টার মধ্যে ঘাতক স্বামী ইমন (১৯), পিতা- এমদাদুল্লাহ, সাং-বরকল, থানা-শ্রীপুর , জেলা- গাজীপুরকে শ্রীপুর থানাধীন সাত খামাইর রেল স্টেশন থেকে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করলে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে। সেই সাথে মামলার ভিকটিমের ময়না-তদন্ত রিপোর্ট সংগ্রহ করে ১২ ঘন্টার মধ্যেই তদন্ত সমাপ্ত করে এস আই আজিজুল হক বিজ্ঞ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ঘটনা সুএে জানাযায়, গত ০৩/১২/২০২১ খ্রিঃ রাত  অনুমান ১১.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম মারুফা আক্তার (১৪) পিতা- মাসুদ মিয়া সাং-বড়বের, থানা-কাপাসিয়া জেলা-গাজীপুর তার বাবার বাড়ীতে তাহার স্বামী ইমন (১৯), পিতা- এমদাদুল্লাহ, সাং-বরকল, থানা-শ্রীপুর , জেলা- গাজীপুর এর সাথে ঘুমিয়ে ছিল। ০৪/১২/২১ খ্রিঃ তারিখ ভোর ০৫.৩০ মিনিটের সময় ভিকটিমের পিতা-মাতা মেয়ের ঘরের দরজা খোলা দেখে ঘরের ভিতরে ঢুকে দেখে যে, তাহার মেয়ের মৃতদেহ খাটের উপর পড়ে আছে এবং মেয়ের জামাই ইমন পলাতক। সংবাদ পেয়ে   কাপাসিয়া থানা পুলিশ মৃতের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না-তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

এ প্রেক্ষিতে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা নং ০৫,  তাং ০৫/১২/২১ খ্রিঃ ধারা- ৩০২ দঃবিঃ দায়ের করলে মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে একমাত্র আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডসহ শহীদ তাজ উদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতের ময়না তদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহপূর্বক আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

উল্লেখ্য যে, কিছুদিন পূর্বে ভিকটিম মারুফাকে তার শশুর বাড়ীতে চুরি করার অপবাদ দিলে মারুফা রাগ করে প্রথমে নানীর বাড়ী এবং পরে বাবার বাড়ী চলে আসে। কিছুদিন পর আসামী স্বামী ইমন তার স্ত্রীকে বাড়ীতে ফিরিয়ে নিতে শশুরবাড়ী আসে এবং শশুরবাড়ী রাত যাপন করে। রাতের বেলা স্ত্রী মারুফা তার স্বামীর সাথে পুনরায় ফিরে যেতে অস্বীকার করে। এরপর মারুফা ঘুমিয়ে পরলে ঘাতক স্বামী  ইমন তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলা রুজুর  ১২ ঘন্টার মধ্যে একমাত্র আসামীকে গ্রেফতার, কোর্টে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী রেকর্ড ও শহীদ তাজ উদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৃতের ময়না তদন্তের প্রতিবেদন সংগ্রহপূর্বক মামলার সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। 


আরও পড়ুন