The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২

কাজাখস্তানে চরম অস্থিরতা, বাড়ছে দমন-পীড়ন

কাজাখস্তানে চরম অস্থিরতা, বাড়ছে দমন-পীড়ন
কাজাখাস্তানের একটি সরকারি ভবনে আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। ছবি: সংগৃহীত

কাজাখস্তান এখন আতঙ্কের দেশ। রাজধানী আলমাটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও জালাও-পোড়াও আন্দোলনের পর চরম কঠোরতা প্রকাশ করছে সরকার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি তেল বৃদ্ধির প্রতিবাদে যারা অংশ নিয়েছিল তারা প্রতিনিয়ত বিপদের মুখে দিন কাটাচ্ছেন। খবর বিবিসির।

এক ব্যক্তি বিবিসিকে বলছেন, ইউনিফর্ম পরা সশস্ত্র ব্যক্তিরা হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ড চেক করছিল। চিৎকার করে বলছিল, তারা গণ-অস্থিরতায় আহত ব্যক্তিদের সন্ধান করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আলমাটির একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ইউনিফর্ম পরা ব্যক্তিদের একজন চিৎকার করে বলল, যদি তুমি আবার প্রতিবাদ করতে যাও, তোমাকে মেরে ফেলব।

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে তারা জোর করে ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সে হাঁটতে পারেনি বলে রক্ষা পেয়ে গেছে। হাসপাতালে তার মূল নামও গোপন রেখেছেন তিনি। অন্য অনেকের মতো তিনি জানুয়ারির শুরুতে জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করেছিলেন। কাজাখস্তানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেলের রিজার্ভ রয়েছে, কিন্তু জনগণ তা থেকে কোনো সেবা পায় না।

বিক্ষোভটি দ্রুত ব্যাপক বিশৃঙ্খলা এবং লুটপাটে পরিবর্তিত হয়, যা সাবেক সোভিয়েত রাষ্ট্রের ৩০ বছরের স্বাধীনতায় সবচেয়ে খারাপ রক্তপাতের দিকে পরিচালিত করে। শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সরকারি হিসেবে ওই সহিংসতায় অন্তত ২২৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত কত, তা অজানা। এছাড়া প্রায় ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে।

কাজাখস্তানের প্রসিকিউটর-জেনারেলের কার্যালয় প্রায় ৭০০টি ফৌজদারি মামলা চালু করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, হত্যা এবং সরকার উৎখাতের অভিযোগ রয়েছে।

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো বলছে, কর্তৃপক্ষ শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ান চালিয়েছে। এমনকি যারা প্রতিবাদের সমর্থনে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন তাদেরও আটক করা হচ্ছে। তারা মারধর ও নির্যাতনের সম্মুখীন হচ্ছে।

আলমাটির মানবাধিকার কর্মী বাখিতজান তোরেগোজিনা বলছেন, তারা সবাইকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হিসেবে ধরে নিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ে জোরাজুরি করছে। একজন কর্মী মুরাতবেক ইয়েসেনগাজি, যিনি আলমাটির প্রধান চত্বরে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। তার আইনজীবী বিবিসিকে বলেন, তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে।

তবে মারধরের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে অস্বীকার করছে। আলমাটি পুলিশ বিভাগের সালতানাত আজিরবেক বিবিসিকে বলছেন, দোষীরা শনাক্ত হলে হলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। যারা সহিংসতায় অংশ নেয়নি, তাদের কোনো চিন্তা নেই।


আরও পড়ুন