The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২

প্রেমিকার চেয়েও পরিবেশকে বেশি ভালোবাসেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও!

সেন্টমার্টিনের জন্য সরকারকে ডিক্যাপ্রিওর অভিনন্দন

সেন্টমার্টিনের জন্য সরকারকে ডিক্যাপ্রিওর অভিনন্দন
অস্কারজয়ী অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও। তিনি একজন পরিবেশকর্মীও। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আজ বারবারই ঘুরেফিরে আসছে হলিউড তারকা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর নাম। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। তবে চলচ্চিত্র সংক্রান্ত কোনো বিষয় নিয়ে নয়। একদমই ভিন্ন এক কারণে।

জীববৈচিত্র্যের সুরক্ষায় বাংলাদেশের একমাত্র সামুদ্রিক প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ১ হাজার ৭৪৩ বর্গ কিলোমিটার (৬৭২ বর্গ মাইল) এলাকাকে 'মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া' (এমপিএ) বা নতুন সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এটিই কারণ ডিক্যাপ্রিওর বাংলাদেশকে অভিবাদন জানানোর। 

চলচ্চিত্রের ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে ডিক্যাপ্রিওর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যারা জানেন না, তাদের কাছে ব্যাপারটি বিস্ময়কর মনে হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তবে তিনি একজন বিশিষ্ট জলবায়ু কর্মী ও পরিবেশবাদী। এমনকি ২০১৬ সালে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর 'দ্য রেভেন্যান্ট' চলচ্চিত্রের জন্য 'সেরা অভিনেতা'-র পুরস্কার পাওয়ার পর অস্কারের মঞ্চে দাঁড়িয়েও তিনি কথা বলেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে। তবে এবারই প্রথম তার টুইটে বাংলাদেশের কথা উঠে এলো।

টুইটারে নিজের পরিচয়ের জায়গায় লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও উল্লেখ করেছেন অভিনেতা-পরিবেশবাদী। তার সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘ডোন্ট লুক আপ’-এ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বক্তব্য গুরুত্ব পেয়েছে। ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ ছবির জন্য অস্কারে সেরা অভিনেতা হয়েছেন তিনি। ওই ছবিতেও জলবায়ু সংকটকে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

সেন্টমার্টিনের একটি দৃষ্টিনন্দন ছবি টুইটে শেয়ার করেছেন ডিক্যাপ্রিও। ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটির সৌজন্যে এটি পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার এই টুইট ৫০০ বারের বেশি রিটুইট হয়েছে। টুইটারে তার ফলোয়ার ১ কোটি ৯৫ লাখের বেশি।

বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১ হাজার ৭৪৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ‘সেন্টমার্টিন সামুদ্রিক সুরক্ষিত অঞ্চল’ ঘোষণা করেছে। এর ফলে জাহাজের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, অতিরিক্ত মাছ ধরা, বর্জ্য ও রাসায়নিক পদার্থের ডাম্পিং এবং প্রবাল প্রাচীর ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর সবকিছু রোধ করা হবে।

নতুন ঘোষিত সংরক্ষিত এলাকার সুবাধে বিপন্ন গোলাপি ডলফিন, হাঙর, রে মাছ, সামুদ্রিক কচ্ছপ, সামুদ্রিক পাখি, প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও এগুলোর আবাসস্থল সংরক্ষণে সহায়ক হবে। এছাড়া সামুদ্রিক সম্পদ টেকসই হওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান বাড়বে, জাতীয় সমুদ্র অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে।

অবশ্য এরও দুই বছর আগে ডিক্যাপ্রিও জলবায়ু সংরক্ষণের ব্যাপারে জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, "একজন অভিনেতা হিসেবে আমি জীবিকা নির্বাহের জন্য ভান করে থাকি। প্রায়ই আমি কাল্পনিক চরিত্র হিসেবে কাল্পনিক সব সমস্যার সমাধান করি। আমি বিশ্বাস করি জলবায়ু পরিবর্তনের দিকেও মানবজাতি সেভাবেই তাকাচ্ছে। ব্যাপারটা এমন যেন এটি একটি ফিকশন, যা অন্য কারো গ্রহে ঘটছে। ব্যাপারটা এমন যেন জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তবতা নয় ভাবলেই এটি চলে যাবে।"

কিন্তু ডিক্যাপ্রিও তেমন নন। তিনি পরিবেশ ও জলবায়ু সংরক্ষণের আদর্শকে মনেপ্রাণে ধারণ করেন, সবসময় এ ব্যাপারে সচেষ্ট থাকেন। তাই তো তিনি জলবায়ুর কথা ভেবে সপ্তাহে মাত্র দুই একদিন গোসল করেন, সুগন্ধীও ব্যবহার করেন না।

এসব ব্যাপারে তিনি এতটাই কট্টরপন্থী যে, পরিবেশের প্রতি প্রেমের কাছে হার মানছে তার রোমান্টিক সম্পর্কগুলোও। যেমন ২০১৩ সালে খবর রটেছিল, ডিক্যাপ্রিওর ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি নিয়ে যারপরনাই হতাশ তার তৎকালীন প্রেমিকা এরিন হেথারটন। 

ডিক্যাপ্রিওর একটি বিশ্বস্ত সূত্র তখন জানায়, "লিও পরিবেশের প্রতি তার ভালোবাসাকে তার বাদবাকি দুনিয়ার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে, আর তাতে ডুবতে বসেছে তার লাভ লাইফ। তিনি সপ্তাহে হাতেগোনা দুই-একদিন গোসল করেন পানি সংরক্ষণের জন্য, এবং ডিওডোর‍্যান্টকে মনে করেন অপ্রাকৃতিক। এরিন তাকে গভীরভাবে ভালোবাসেন, কিন্তু এমনটা মনে করতে শুরু করেছেন যে লিও তারচেয়ে পরিবেশকে বেশি ভালোবাসেন।"

তাহলে বুঝতে পারছেন তো, কেন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওকে বলা হয় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যাম্পিয়ন!