The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২

অনেকেই আত্মহত্যা করে, আমি বিয়ে করেছিলাম: সুবাহ

অনেকেই আত্মহত্যা করে, আমি বিয়ে করেছিলাম: সুবাহ
সংগৃহীত

সংগীতশিল্পী ইলিয়াস হোসাইন ও ক্রিকেটার নাসিরের ‘সাবেক প্রেমিকা’ মডেল-অভিনেত্রী সুবাহ শাহ হুমায়রা গত বছরের ১ ডিসেম্বর ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ে করেছিলেন। এর কয়েকদিন পর সেটা প্রকাশ্যে আনেন।

এর পরেই শুরু হয় কাদা-ছোড়াছুড়ি। জানা যায়, ইলিয়াস তার দ্বিতীয় স্ত্রী করিন নাজকে ডিভোর্স না দিয়েই সুবাহকে বিয়ে করেছেন। প্রথম দিকে ইলিয়াস ও সুবাহ দু’জনেই করিনকে দোষারোপ করেন। তবে পরক্ষণে তারা দু’জনেই হয়ে ওঠেন একে-অপরের প্রতিপক্ষ।

ইলিয়াস অভিযোগ তোলেন, সুবাহ তাকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছেন। এমনকি বিয়ের পর তার গায়েও নাকি হাত তুলেছেন। অন্যদিকে সুবাহর অভিযোগ, ইলিয়াস তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন। এসব তথ্য তারা দুজনই সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন।

এদিকে মামলা চলমান অবস্থায় দুবাই উড়াল দিয়েছেন ইলিয়াস। এদিকে ইলিয়াস দুবাই গেলেও চুপ করে নেই সুবাহ। তিনি নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে যাচ্ছেন। এই গায়কের সঙ্গে দাম্পত্য কলহ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কীভাবে তার দিন কাটছে- এবার সে চিত্রই তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী। সুবাহর স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

‘একটা মানুষের যখন ব্রেকআপ হয় তখন সে এতটাই ডিপ্রেশনে চলে যায় যে, অনেকেই আত্মহত্যা করে বসে সামান্য প্রেমের সম্পর্কের কারণে! সেখানে আমি সুবহা এত কিছুর পরে নিজের জীবনটাকে গুছিয়ে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখে ঘর বেঁধেছিলাম, বিয়ে করেছিলাম। সেইটা ২ মাসের মধ্যে শেষ হয়ে গেলো।

ঘরোয়াভাবে হলেও সব রীতি রেওয়াজ অনুযায়ী হলুদ, মেহেদি, রেজিস্ট্রি কাবিন সব করেই বিয়েটা হয়েছিল আমাদের। কিন্তু সেটা যে এত তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে কখনও কল্পনা করিনি আমি!

দুঃস্বপ্নের মত লাগছে আমার কাছে। ওই ঘটনার পরে কতো যে কেঁদেছি মানুষের সামনে এবং আড়ালে সেটা আমার চোখ দুটি ভালো সাক্ষী দিতে পারবে।

প্রতিটা মানুষেরই বিপদে পরে দেখা উচিত কে কে তার দুঃসময়ে পাশে থাকে। আমার এই বিপদের সময় অনেকেই আমার পাশে ছিল এবং আছে, ওই জন্য হয়তোবা আমি এত স্ট্রং আছি, বেঁচে আছি।

কিন্তু ভিতরে ভিতরে আমার নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। আমি যখনই ভাবছি, হঠাৎ করে এত আয়োজন করে বিয়ে হল! এইভাবে চোখের পলকেই বিশ্বাস ঘাতকের জন্য শেষ হয়ে গেল আমার সবকিছু। স্বপ্ন ভেঙে গেলো আমার।

আমি পুরা ট্রমার মধ্যে আছি মানসিকভাবে। সবকিছু এলোমেলো লাগছে, কি করে একটা মানুষ এত বিশ্বাসঘাতক হতে পারে? কি করে একটা মানুষ এত বিবেকহীন হতে পারে? সেই লোকটার কাছে বিয়েটাও একটা মজা, বিয়েটাও একটা খেলা, বিয়েটাও একটা বিজনেস।

শুধু অপেক্ষায় আছি এই মিথ্যা সম্পর্কের বাঁধন থেকে কবে ছুটিয়ে নিয়ে মুক্তি দিতে পারব নিজেকে। তবে আমার কাছের কিছু আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধুবান্ধব আছে তারা আমার লাইফে ফেরেশতার মতো আমার পাশে থেকে আমাকে সাপোর্ট করে যাচ্ছে। তাদের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। তারা না হলে আজ আমি বেঁচে থাকতাম না। আমার মত খারাপ সময় কারও যেন জীবনে না আসে।

মানুষ শুধু গায়ের আঘাতের চিহ্নগুলি দেখে, কিন্তু মনের ভিতরে যে রক্তক্ষরণ হয় কারো চোখে পরে না। চোখে পরে যারা আমার আত্মার আত্মীয়, পরম বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং আমার মায়ের। আল্লাহ তাদেরকে সব সময় ভালো রাখুক আর তাদেরকে যেন আমি এভাবেই মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমার জীবনে পাশে পাই। আমিন।’