The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৩ মে ২০২২

‘তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন অযৌক্তিক’, শাবির ফটকে ফটকে তল্লাশি

‘তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন অযৌক্তিক’, শাবির ফটকে ফটকে তল্লাশি
ছবি: সংগৃহীত

আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ অযৌক্তিক বলে দাবি করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বহিরাগত প্রবেশ রোধে ফটকে চলছে পরিচয় যাচাই।

ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে মূল ফটকে তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে শিক্ষার্থীরা। আইডি কার্ড ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

এর আগে, রোববার রাত ৮টায় উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় বিক্ষুব্ধরা। এরপর থেকে উপাচার্য অবরুদ্ধ অবস্থায় আছেন। পুলিশ ছাড়া কাউকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা বলেছেন, উপাচার্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের বাঁধন ছিন্ন হয়েছে। তাই আমরা আর তাকে চাই না। তার পদত্যাগের দাবিতেই আমরা আন্দোলন করছি। এখানে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধনের অভিযোগ অযৌক্তিক।

সোমবার দুপুর ১টায় প্রেস ব্রিফিং করে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের পক্ষে মুহাইমিনুল বাশার বলেন, আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এখানে বহিরাগতের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হচ্ছে। তাই আজ সকাল ৮টা থেকে আমরা সবার পরিচয় যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ দিচ্ছি।

এ সময় তাদের আন্দোলন অহিংস হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের অনশন যখন ১০০ ঘণ্টায় যায় তখন বাধ্য হয়েই আমরা উপাচার্যের বাসভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেই।

মুহাইমিনুল বাশার বলেন, আমাদের আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের অনশনকারীরা যখন বাথরুমে যাচ্ছেন তখনো আমরা পাহারায় আছি- এটা আপনারাই দেখছেন। দীর্ঘ অনশনে আমাদের সহপাঠীদের শারীরিক অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে তখন এমন প্রশ্ন বড়ই বেদনাদায়ক।

এদিকে, স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় সকাল সাড়ে ১১টার অনশনরত আরও ৪ শিক্ষার্থীকে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সবমিলে এ পর্যন্ত ২০ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ৭ জন অনশনে আছেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ জানুয়ারি রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের। অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। শনিবার সন্ধ্যার দিকে হলের ছাত্রীদের ওপর হামলা চালায় ছাত্রলীগ। রোববার ছাত্রীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট ছুঁড়ে ভিসিকে মুক্ত করে। এতে অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হন। এরপর থেকে উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি উঠে।


আরও পড়ুন