The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

মধুখালী-নীমতলা সড়ক যেন ‘মরণ ফাঁদ’

মধুখালী-নীমতলা সড়ক যেন ‘মরণ ফাঁদ’
ছবি: টিবিটি

শাহজাহান হেলাল,মধুখালী(ফরিদপুর) প্রতিনিধি : ফরিদপুরের মধুখালী-নীমতলা বাইপাস সড়কের বর্তমান অবস্থা খুবই বেহাল দশা। ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের দীর্ঘ প্রায় ৭ কিলোমিটার এ সড়কটি পাড়ি দিতে প্রতিদিন  শত শত মানুষকে ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। যানবাহনে চলা তো দূরের কথা, পায়েও হাঁটারও উপায় নাই। বাস চলাচল না করলেও ছোট যানবাহনে চলতে গিয়ে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। এ যেন সড়ক নয়, এক মরণ ফাঁদ।

রাজবাড়ী জেলার  সদর উপজেলার একটি বৃহত্তর অংশ যা মধুখালী মুখি, সব মিলিয়ে উত্তর মধুখালীর গাজনা ও রায়পুর ইউনিয়ন ছাড়াও অত্র এলাকার প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এ দিকে চলছে বর্ষা কাল প্রতি দিনই হচ্ছে বৃষ্টি।

রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে আরও চরম বেকায়দায় পড়তে হবে। এমন শঙ্কা আর দুশ্চিন্ত কাজ করছে এ এলাকার মানুষের মাঝে। কারণ মধুখালী রেলগেট থেকে গাজনা ভায়া বেলেশ্বর পর্যন্ত এ সড়কটিতে একটু বৃষ্টি হলেই জমে যায় পানি। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ, আর ছোট-বড় গর্ত। কোথাও রয়েছে কংক্রিটের পিচ ডালাই, কোথাও আবার একেবারে উঠে গিয়ে খাদে পরিণত হয়ে মরণ ফাঁদ হয়েছে। দিনের বেলায় ভ্যান, নসিমন, করিমন, ইজিবাইক, মাহেন্দ্র চলাচল করলেও ভাড়া গুনতে হয় দ্বিগুণ। সন্ধ্যার পর এসব গাড়ির চালকরা এ সড়কে যেতে চান না।

এলাকাবাসী জানান, এই সড়কটি তাদের একমাত্র চলাচলের রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা বেহাল। নির্মাণের আশ্বাস দিয়েও সংস্কার হচ্ছে না, অতি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান এলাকাবাসী। ইজিবাইক চালক সেলিম মোল্লা বলেন, এ রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানোর মতো অবস্থা নেই। চললে গাড়িরও ক্ষতি হয়। দুর্ঘটনার ঝুঁকি আছে। গাজনা ইউনিয়নের বেলেশ্বর এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মো. মঞ্জুর হোসেন মঞ্জু বলেন, দেড় বছর ধরে এ অবস্থায় পড়ে রয়েছে সড়কটি। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো মাথা ব্যথা দেখি না। যতো সমস্যা সাধারণ মানুষের। আর নেতা, জনপ্রতিনিধিরা চলে দামি গাড়িতে তাই তারা কিছু টের পান না।

এ বিষয়ে গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া বলেন, সড়কটি এর আগে শুনেছিলাম টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগের পরও কাজ শুরু হয়নি। তিনি বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দ্রুত আলাপ করবেন বলেও জানান। এ প্রসঙ্গে মধুখালী উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি গত বছরে টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে ঠিকাদার নিয়োগ হয়েছিল। কিন্তু কাজ শুরুর পর ঠিকাদার বরকত মন্ডল অর্থ পাচার মামলায় আটক হওয়ার পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।

সড়কের কাজ শুরু হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারনে আজ সাধারন মানুষের দুর্ভোগ পােহাতে হচ্ছে। ঠিকাদার জেলে রাস্তার কাজ বন্ধ।  শিগগিরই নতুন করে রিটেন্ডার করা হবে।  তার পর সড়কটি সংস্কার কাজ শুরু হবে। আগামী শুষ্ক মৌসুমেই শেষ হবে আশা করি। ফরিদপুর চিনিকলের আখ মাড়াই মৌসুমে  ১৯টি দুর্ঘটনা ঘটে এতে ২জন প্রান হারান।


আরও পড়ুন