The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

তাহিরপুরে চারটি সেতু নৌ-চালকদের গলার কাটা

তাহিরপুরে চারটি সেতু নৌ-চালকদের গলার কাটা

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি: সরকার নদীর উপর কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু গুলো সড়ক পথে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু নৌপথে নৌ-চালকদের গলাটিপে ধরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায়। কারন বর্ষায় মৌসুমে নদীতে সামান্য পানি বাড়লেই সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান গুলো আর চলাচল করতে পারে না। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় যাত্রী ও মালামাল পরিবহনকারী চালকদের আর ব্যবসায়ীদের ক্ষতির শিকার হতে হচ্ছে। ফলে তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলার গুরুত্বপ‚র্ণ চারটি নদীতে সেতু গুলো হল,তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের যাদুকাটা নদীর আনোয়ারপুর বাজার সংলগ্ন আনোয়ারপুর সেতু,একেই সড়কের বীরনগর খালে নির্মিত বীর নগড় সেতু,থানার সম্মুখে বৌলাই নদীতে বৌলাই সেতু,তাহিরপুর-বাদাঘাট সড়কে টাকাটুকিয়ায় ভান্ডা নদীতে টাকাটুকিয়া সেতু। আর এসব সেতু নির্মান করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর(এলজিইডি)।
এদিকে উপজেলায় আরও একটি সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন বাজারে তারও উচ্চতায় কম বলে দাবী করছেন এলাকাবাসী। 

স্থানীয় এলাকাবাসী ও নৌযান চালকদের কাছ থেকে জানাযায়,উপজেলার চারটি নদীতে নির্মিত অপরিকল্পিত চারটি সেতু গুলো উচ্চতায় কম থাকার কারনে মাঝারি বর্ষায় পানি বাড়লেই নিচ দিয়ে চলাচল একবারেই বন্ধ হয়ে যায়। অনেক নৌকা সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আটকে থাকে ঘন্টার পর ঘন্টা। আর নদীতে সেতুর পিলারের দৈর্ঘ্য কম থাকায় পানি কমলেও ঝুঁকি মুখে পড়ার ভয়ে তখন সকল নৌযানকে ১০-১৫কিলোমিটার এলাকা গুরে নিদিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। এতে করে পরিবহন খরচ বেশি দিতে হয় নৌযান চালকদের ব্যবসায়ীরা আর সময় ও অর্থ দুটির ক্ষতির হচ্ছেন। এছাড়াও সেতুর পিলারে দৈর্ঘ্য কম থাকায় নৌযান চালাচলের সময় অনিচ্ছা বশত আগাত লেগে সেতুর বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা রয়েছে। 

সেতু নির্মাণের সময় জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল অন্যান্য বিভাগের সাথে আন্ত বিভাগীয় সমন্বয় না হওয়ার ফলে এখন দ‚র্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সেতু গুলোতে একটি বা দুটি স্পেন বাড়িয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি করলে এমনটা হত না বলে মনে করছেন সচেতন উপজেলাবাসী। 

ব্যবসায়ী সেলিম আহমেদ জানান,নদীতে নির্মিত সেতু গুলো নদীর মাঝ অংশে উচ্চতা ও সেতুর পিলারের দুরত্ব বাড়িয়ে নির্মাণ করা হলে বর্ষায় কোন সমস্যা হত না। যার ফলে আমরা ব্যবসায়ীরা নৌযান চালকদের বেশি টাকা দিয়ে বাধ্য হয়ে মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে সময় ও টাকার দুটির ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি।

নৌ যান চালক আমিনুল ইসলামসহ অনেকেই জানান,বছরে ৬মাস বর্ষায় সময় নদী পথে নৌযান চলাচল আর তখনেই বিপদ। নদীতে নির্মিত সেতু গুলোর উচ্চতা ও সেতুর পিলারের দুরত্ব কম থাকায় চলাচল একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ৮-১০ কিলোমিটার এলাকা গুড়ে হাওরের ভিতর দিয়ে ম‚ল গন্তব্যে পৌছাতে হয়। এতে করে এক দিকে সময় বেশি লাগে আর তেল খরচ বেশি হয় তখন পরিবহন খরচের টাকা বেশি নিতে হয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে।

তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা সাজিদ মিয়াসহ অনেকেই জানান,নতুন বাজারে একটি সেতু নির্মাণ হচ্ছে সেতুটিও উচ্চতার দিক দিয়ে কম। উচ্চতা বাড়িয়ে নির্মাণ করা না হলে এই সেতুর নিচ দিয়ে বড়ছড়া শুল্ক বন্দরে এলসির মাধ্যমে ভারত থেকে আসা কয়লা ও চুনা পাথর পরিবহন করতে পারবে না। 

তাহিরপুর উপজেলার প্রকৌশলী মোঃ ইকবাল কবির জানান,প্রতিটি সেতুই পরিকল্পনা ও ডিজাইন মতো করা হয়েছে। আগামীতে সেতু নির্মাণ করা হলে নদী পথে নৌ-যান চলাচলের জন্য সেতুর উচ্চতা ও দৈঘ্য বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে আমি কয়েকটি সেতু নির্মাণ পরিকল্পনায় সময় উপযোগী না হওয়ায় নতুন করে পরিদর্শন করে প্রস্তাব করেছি। এতে করে বর্ষায় সেতুর নিচ দিয়ে নৌ-যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে না পাশাপাশি সেতু গুলোও সুরক্ষিত থাকবে। 

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরী বাবুল বলেন,নদী পথ একটি গুরুত্বপ‚র্ণ পরিবহন মাধ্যম। নদী পথে নৌযান চলাচলের জন্য সেতুর উচ্চতা ও দৈঘ্য বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্বপ‚র্ন। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলব যাতে করে তারাও এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সেতু নির্মাণ পরিকল্পনা প্রস্তাব করেন। 


আরও পড়ুন