The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপনে বিশেষ নির্দেশনা হবে না শোভাযাত্রা

এবারও জন্মাষ্টমী উদযাপনে বিশেষ নির্দেশনা হবে না শোভাযাত্রা

হিন্দু ধর্মের মহাবতার ভগবান শ্রী কৃষ্ণের আবির্ভাবতিথি শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব আগামী ৩০ আগস্ট উদযাপিত হবে। তবে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এ বছরও দিনটিতে সব ধরনের সমাবেশ, শোভাযাত্রা বন্ধ রাখাসহ স্বাস্থ্যবিধি ও নির্দেশনা মেনে জন্মাষ্টমী উদযাপনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি।

গতকাল শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে উভয় সংগঠন এ অনুরোধ জানিয়েছে। একইভাবে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী ৬ অক্টোবর মহালয়া এবং ১১ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষেও একই নিয়ম অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়। পরিস্থিতির উন্নতিসাপেক্ষে যথাসময়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পূজা উদযাপন পরিষদ।

এদিকে পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত, সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল দেশবাসীকে জন্মাষ্টমীর আগাম শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশ করোনা সংক্রমণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে সংক্রমণের হার কিছুটা স্তিমিত হলেও পরিস্থিতি এখনো স্বস্তিদায়ক পর্যায়ে আসেনি। সরকার জীবন ও জীবিকার সমন্বয় করে মাঝে মাঝে বিধিনিষেধ/লকডাউন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সংক্রমণের হারকে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

গত ফেব্রুয়ারি থেকে করোনা প্রতিরোধে শুরু হয়েছে টিকা কার্যক্রম। এমতাবস্থায় মন্দির/দেবালয়ে ধর্মীয় ও সামাজিক রীতি পালনের ক্ষেত্রে পূজা উদযাপন পরিষদের বিশেষ নির্দেশনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নির্দেশনাগুলো হলোÑ ৩০ আগস্ট জন্মাষ্টমী অনুষ্ঠান যথারীতি ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে পূজা-অর্চনার মাধ্যমে উদযাপিত হবে। তবে সংশ্লিষ্ট সব অনুষ্ঠান সীমাবদ্ধ থাকবে মন্দিরাঙ্গনে। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সব ধরনের সমাবেশ, শোভাযাত্রা/মিছিল থেকে বিরত থাকতে হবে।

মন্দির/দেবালয়ের প্রবেশদ্বারে কর্তৃপক্ষ হাত ধোয়ার ও স্যানিটাইজেশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দর্শনার্থী/ভক্ত এবং মন্দিরে অবস্থানকারী পুরোহিতসহ সবাইকে সার্বক্ষণিক মাস্ক পরতে হবে।

মন্দির/দেবালয়ে আগত ও অবস্থানরত সবাইকে রাখতে হবে শারীরিক দূরত্ব। মন্দির/দেবালয়ে অপ্রয়োজনীয় কারণে জনসমাগম পরিহার করতে হবে এবং দীর্ঘসময় অবস্থান না করার নিয়ম মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে মন্দিরাঙ্গনে জনসমাগম হয় এমন কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্নয় করে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।

সংক্রমণ পরিস্থিতির যদি উন্নতি না হয়, তা হলে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষেত্রেও একই নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। পূজা উদযাপন পরিষদের সব স্তরের শাখা কমিটিগুলোর আওতাধীন মন্দির/দেবালয় কর্তৃপক্ষ এসব নির্দেশনা মেনে চলতে সহযোগিতা করবেন। নির্দেশনা বাস্তবায়নে পরিষদের সব স্তরের কমিটির নেতারা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সঙ্গে সমন্নয় করবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জন্মাষ্টমী উদযাপনে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে একদিনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ৩০ আগস্ট সকাল ৮টায় দেশ ও জাতি তথা বিশ্ববাসীর মঙ্গল ও করোনা মুক্তি কামনায় রাজধানীর শংকর মঠ ও মিশন, সীতাকুণ্ডের সন্ন্যাসীদের পরিচালনায় গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।

রাতে হবে কৃষ্ণপূজা। এ ছাড়া ওইদিন বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আলোচনা। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বিশেষ অতিথি থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী প্রমুখ।