The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

১২ ধরনের মিষ্টি খাবার যা ডায়াবেটিসেও খাওয়া যায়

১২ ধরনের মিষ্টি খাবার যা ডায়াবেটিসেও খাওয়া যায়
ফাইল ছবি

জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (নিপোর্ট)-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে মোট ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১০ লাখ। এদের মধ্যে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ২৬ লাখ আর ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের সংখ্যা ৮৪ লাখ। দিনে দিনে বাড়ছে এ রোগীর সংখ্যা। ডায়াবেটিস হলেই মিষ্টি জাতীয় খাবার সবাই পরিহার করা শুরু করেন।

মিষ্টি খাবারের কথা শুনলেই ডায়াবেটিস বহনকারীরা মনে করতে শুরু করে এটা তাদের জন্য ক্ষতিকারক খাবার। মিষ্টি খাবার খাওয়াটাই হয়ে পড়ে তাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। কিন্তু তারপরও মিষ্টি খাবারের প্রতি লোভ কাজ করে কমবেশি সবারই।

ডায়াবেটিস রোগীরা মিষ্টি খাবার খেতে ভয় পান। বেশ কিছু খাবার আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হলেও বিপরীতে পুষ্টিকর খাবার বেছে নেওয়ার প্রচুর বিকল্পও রয়েছে। ঠিক তেমনি কিছু মিষ্টি খাবার রয়েছে, যা খেতে পারবেন ডায়াবেটিস রোগীরাও। আর মজার বিষয় হচ্ছে-সেগুলো স্বাস্থ্যের ক্ষতি না করে বরং উপকার করবে। এমন ১২ ধরনের খাবার নিয়েই আজকের আলোচনা…

ডার্ক চকোলেট

ডায়াবেটিস রোগী যাদের মাঝেমধ্যে মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা হয় তাদের জন্য ডার্ক চকোলেট হতে পারে খুবই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। এতে চিনি, কার্বোহাইড্রেট এবং ক্যালরি (প্রতি ২৮ গ্রামে মাত্র ১৩ গ্রাম) অনেক কম থাকে। কমপক্ষে ৭০ শতাংশ কোকোয়াে উপাদান আছে এমন ডার্ক চকোলেটটি খাবারের তালিকায় রাখুন।

পিয়ারস

পিয়ারসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার রক্তপ্রবাহের সময় চিনির শোষণের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকে। একটি গবেষণায় জানা গেছে, ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে সতেজ পিয়ারস খুবই কার্যকর।

আপেল

আপেলের অনেক ধরণের উপকারিতা আছে। এটি একদিকে যেমন পুষ্টিকর, অন্যদিকে সুস্বাদুও বটে। একটি মাঝারি আকৃতির আপেলে ২৮ গ্রাম কার্বোহাড্রেট ও ৫ গ্রাম ফাইবার থাকে। একটি গবেষণায় জানা গেছে, ভাত খাওয়ার আগে একটি আপেল খেলে শরীরে গ্লুকোজের মাত্রা কমে।

আঙ্গুর

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আঙ্গুর খুবই স্বাস্থ্যকর এবং অধিক ফাইবারসম্মৃদ্ধ একটি খাবার। প্রতি আধা কাপ আঙ্গুরে ১ গ্রাম ফাইবার ও ১৪ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এছাড়া কালো আঙ্গুরে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনলস থাকে যা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে এবং ডায়াবেটিস সংক্রান্ত স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেয়।

টক দই

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য টক দই খুবই উপাদেয় ও স্বাস্থ্যকর একটি নাস্তা। প্রতি ২০০ গ্রাম টক দইয়ে ২০ গ্রাম প্রোটিন থাকে। প্রোটিন বেশি খেলে অনেক সময় ভরপেট থাকা যায়। যার ফলে ঘন ঘন ক্ষুধা লাগে না। এছাড়া টক দইয়ে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি ও প্রোবায়োটিকস থাকে যা রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণকে নিয়ন্ত্রণ করে।

চিয়া সিড

এটি খুবই স্বাস্থ্যকর, সুস্বাদু। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, প্রোটিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। ১২ টি গবেষণার একটি রিভিউয়ে দেখা গেছে, নিয়মিত চিয়া সিড খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক থাকে এবং ডায়াস্টোলিক ব্লাড প্রেসারও কমে।

বাদাম

বাজারে বিভিন্ন ধরনের বাদাম কিনতে পাওয়া যায়। এটি খুব সহজেই বহন করা যায়। বাদামে অনেক বেশি ফাইবার এবং প্রোটিন থাকে। ৪০ টি গবেষণার একটি রিভিউয়ে দেখা গেছে, নিয়মিত বাদাম খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রিত থাকে।

চিজ

এটি আপনাকে প্রচুর প্রোটিন ও ফাইবারের যোগান দিবে। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, চিজসহ কমচর্বিযুক্ত ডেইরি প্রোডাক্টগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা ঠিক রাখে, ওজন কমাতে ও পেটের মেদ কমাতে অনেক বেশি কার্যকরী।

ড্রাই ফ্রুটস

ড্রাই ফ্রুটসও খুব সহজেই বহন করা যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এটি খুবই স্বাস্থ্যকর একটি নাস্তা হতে পারে। বাজারে অনেক ধরনের ড্রাই ফ্রুটস পাওয়া যায় যাতে কার্বোহাইড্রেট, ক্যালরি এবং চিনি বেশি পরিমাণে থাকতে পারে। তাই সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে বাড়িতে ড্রাই ফ্রুটস তৈরি করা।

বানানা আইসক্রিম

মজার ব্যাপার হচ্ছে শুধুমাত্র একটি উপকরণ দিয়ে এটি তৈরি করা যায়। আর তা হচ্ছে কলা। কলা হচ্ছে ফাইবারের অনেক ভালো উৎস। এতে গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের মাত্রা কম যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখতে খুব কার্যকর।

যেভাবে বানাবেন: একটি পাকা কলা নিয়ে তা ছোট করে কাটুন। এবার একটি পাত্রে নিয়ে ডিপ ফ্রিজে ২-৩ ঘন্টা রেখে দিন। এরপর এটিকে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে আরেকটি পাত্রে নিয়ে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত। তৈরি হয়ে গেলো বানানা আইসক্রিম।

মাঠা, ছানার পানি

ডায়েটে অতিরিক্ত ফাইবার ও প্রোটিন যোগ করতে চাইলে এগুলো খুবই দ্রুত এবং সহজ একটি সমাধান। যেমন, মাঠা তাৎক্ষণিকভাবে আপনার ক্ষুধা মেটায় এবং ইনসুলিন নিঃসরনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় যা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক রাখে।

মাঠা বা ছানার পানিতে আপনি শাকও যোগ করতে পারেন যাতে অনেক বেশি ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে।

ছোলা

ছোলা খুবই পুষ্টিসম্মৃদ্ধ একটি খাবার। এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ফাইবার, ফোলেট এবং ম্যাঙ্গানিজ। ১২ জন নারীর ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে খাবারের আগে ছোলা খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে।

এমন অনেক ধরনের স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর মিষ্টি খাবার আছে যা ডায়াবেটিস রোগীরা নাস্তা হিসেবে খেতে পারে। তবে উপরের খাবারগুলো দিয়ে আপনি স্বাস্থ্যকর মিষ্টি খাবার খাওয়া শুরু করতে পারেন।