The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

'সরকারের সমন্বয়হীন-অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে'

'সরকারের সমন্বয়হীন-অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে'
লকডাউনে শিল্প-কারখানা খোলায় স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। ফাইল ছবি

কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন দিয়ে আবার রফতানিমুখী শিল্পের মালিকদের চাপে রবিবার (১ আগস্ট) থেকে কারখানা চালুর ঘোষণা করোনা অতিমারিরোধ ব্যাহত ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করার শামিল বলে মনে করে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গী এ দলটি জানিয়েছে, এরকম পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে, সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে বা করোনা মহামারি রুখতে আন্তঃমন্ত্রণালয়ে কোনও সমন্বয় নেই।

সোমবার (২ আগস্ট) রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরোর ভার্চুয়াল সভায় এ মতামত উঠে আসে। 

বিবৃতিতে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যর ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতিতে কথিত কঠোর লকডাউনে সরকারের একের পর এক স্বেচ্ছাচারী, সমন্বয়হীন ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে লক্ষ লক্ষ গার্মেন্ট শ্রমিকসহ শ্রমজীবী-মেহনতি সাধারণ মানুষের জীবনে অবর্ননীয় দুর্দশা নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, লকডাউনে গণপরিবহন যখন বন্ধ, তখন শ্রমিকেরা কিভাবে ২৪ ঘণ্টার নোটিশে দূর-দূরান্ত থেকে কারখানায় পৌঁছাবে? সরকারের কর্তা ব্যক্তিদের মাথায় এটা না থাকা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। কারখানার মালিকদের কাছে কেন সরকারকে এভাবে নতি স্বীকার করতে হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। মহামারির মধ্যে যে ১৫টি শর্তে গার্মেন্ট চালু করা হয়েছে অধিকাংশ কারখানা তা মানছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিবৃতিতে সাইফুল হক বিষ্ময় প্রকাশ করে বলেন, মহামারি দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার জাতীয় পর্যায়ে যেসব পরামর্শক কমিটি গঠন করেছে তাদের মতামত ও পরামর্শসমূহও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না। এসব পরামর্শক কমিটিকেও সরকার নিজেরাই এখন অপ্রয়োজনীয় ও প্রায় নিস্ক্রিয় করে রেখেছে। রাজনৈতিক ও বিশেষ স্বার্থে মহামারি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে যেয়ে ইতিমধ্যে পরিস্থিতিকে তারা বিপদসীমা বহু উপরে নিয়ে গেছে, মানুষের জীবন-জীবিকাকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ঠেলে দিয়েছে।

বিবৃতিতে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জনগণকে আস্থায় নিয়ে মহামারি মোকাবেলায় সামাজিক উদ্যোগ জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে শ্রমজীবী-মেহনতিসহ ১৮ বছরের উপর দেশের সবাইকে গণটিকা কার্যক্রমের আওতায় নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।