The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ০৮ অগাস্ট ২০২২

ফের বন্ধ হয়ে গেল চিলমারীর রমনা-কুড়িগ্রাম রেল যোগাযোগ

ফের বন্ধ হয়ে গেল চিলমারীর রমনা-কুড়িগ্রাম রেল যোগাযোগ
ছবি: সংগৃহীত

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারী রেলপথে রমনা-কুড়িগ্রাম সড়কে আবারও ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। চলতি বছরের ১মার্চ তারিখ থেকে চালু হওয়া চিলমারী কমিউটার ট্রেনটি সাড়ে ৩মাসে যেতেই শুক্রবার থেকে ফের বন্ধ করে দেয় লালমনির হাট রেলওয়ে ডিভিশন। 

লালমনিরহাট রেলওয়ের বিভাগীয় এরিয়া ম্যানেজার নুর মোহাম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,কুড়িগ্রাম-রমনা (চিলমারী) রেলপথে বেশ কয়েক জায়গায় রেল লাইনের মাটি নরম হয়ে গেছে। সংস্কার করার পর ট্রেন চললে আবারও দেবে যায়।

এছাড়া টানা বৃষ্টির ফলে রাস্তার মাটিও ধুয়ে যাচ্ছে। ফলে এ পথে ট্রেন চলাচল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় রেলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক ভাবে চিলমারী কমিউটার ১ও ২ট্রেনটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।তবে কুড়িগ্রাম পর্যন্ত চলবে ট্রেনটি। কুড়িগ্রাম-রমনা রেলপথ ট্রেন চলাচল উপযোগী হলে আবারও চালু করা হবে। 

এ দিকে ট্রেন চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা দেয়ায় রেলপথে যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ রেলওয়ে ডিভিশনের উদাসীনতায় এ পথে ফের ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হল। 

প্রেসক্লাব চিলমারী’র সাধারণ সম্পাদক মামুন অর রশিদ বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর এ পথে ট্রেন চালু হওয়া খুবই খুশির সংবাদ ছিল।কিন্তু ট্রেন চলাচলের সময়টি যাত্রীবান্ধব ছিল না। সকাল ৮টায় রমনা বাজার থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময়ে ট্রেনে যাত্রী ভরপুর থাকলেও মধ্যরাতে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি প্রতিদিনই ছিল যাত্রী শুণ্য। তাই শুরু থেকেই এ পথে ট্রেন বন্ধের আশংকা করছিলো যাত্রী সাধারণ। 

এর আগে ২০২০ সালের ৮মার্চ দুপুরে চিলমারীর রমনা থেকে পার্বতীপুরগামী লোকাল ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। ড্রাইভার ও ইঞ্জিন স্বল্পতা এবং স্টেশন মাস্টার না থাকার অজুহাতে দীর্ঘদিন বন্ধ রাখার পর চলতি বছরের ১ মার্চ লোকাল ট্রেনটির পরিবর্তে চিলমারী কমিউটার ট্রেনটি চালু করা হয়েছিল। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৪২২ নম্বর লোকাল রমনা ট্রেনটি পার্বতীপুর-রমনা ও রমনা-তিস্তা রেলপথে নিয়মিত চলাচল শুরু করে। এই ট্রেনকে ঘিরে নদীভাঙন কবলিত উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলার মানুষজন তাঁদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাইরের জেলায় ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করত। এ ছাড়া স্থানীয় ফড়িয়া-পাইকাররা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে নানা ধরনের পণ্য আমদানি করতেন। রমনা ট্রেনকে ঘিরে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হতো।