The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে অক্সিজেন ও খাবার নিয়ে ছুটছে ওরা

কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে অক্সিজেন ও খাবার নিয়ে ছুটছে ওরা
ছবি: টিবিটি

শাহজাদা এমরান, কুমিল্লা প্রতিনিধি : করোনার সংকটকালে শহরে অক্সিজেন পাওয়া গেলেও গ্রামে তা প্রায় দুর্লভ। সে সময়ে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বিভিন্ন গ্রামে অক্সিজেন সিলিন্ডার পৌঁছে দিচ্ছেন ওরা। সাথে কর্মহীনদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করছেন। শিক্ষার্থী ও তরুণদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সংশপ্তক এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে সংশপ্তক। শুরু থেকে ২৬৬জন সাধারণ শিক্ষার্থী, ১৩ ডাক্তার ও ৪১জন মেডিকেল শিক্ষার্থী যুক্ত হয় সংগঠনটিতে। বর্তমানে এর সদস্য সংখ্যা ১২৩৫জন। নাঙ্গলকোটের ১৬টি ইউনিয়ন, একটি পৌরসভায় কাজ করছেন একজন করে টিম লিডার। যাদের অধীনে ৫০-এর অধিক সদস্য কাজ করছেন। বিত্তবান, প্রবাসী ও নিজেদের অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংশপ্তক।

প্রথম পর্যায়ে গত বছরের মার্চ সংশপ্তক টিমের সদস্যের নিজস্ব অর্থায়নে ১৬ ইউনিয়ন ও পৌরসভায় জীবাণুনাশক প্রয়োগ করে  সদস্যরা। হ্যান্ডস্যানিটাইজার বিতরণ, মাস্ক বিতরণ, জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রম, বিদেশ ফেরত ব্যক্তিদের সচেতন করে তোলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম চালানো হয়। নাঙ্গলকোট উপজেলায় একসাথে এক হাজার ৭০০ অসহায় দরিদ্র ও দিনমজুর কর্মহীন পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ৬৫০ এর অধিক মানুষকে দেয়া হয় টেলি মেডিসিন সেবা। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সেবা দিয়েছে।

দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের অর্থায়নে চালু করা হয় 'হ্যালো সংশপ্তক' নামে কার্যক্রম। ‘হ্যালো সংশপ্তক’র মাধ্যমে উপজেলার মধ্যবিত্ত কর্মহীন পরিবার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পড়ুয়া অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে জরুরি উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। এই কর্মসূচির আওতায়  ৯৪ জন কর্মহীন মধ্যবিত্ত পরিবার এবং ৬০ জনের বেশি অসচ্ছল শিক্ষার্থীর মাঝে খাবার, নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। হ্যালো সংশপ্তকের আওতায় প্রতিজনকে ১৫০০ টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়।

উপজেলার এক বিধবা মহিলার পাঁচ মেয়ে নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন। তার পাশে দাঁড়ায় সংশপ্তক টিম। মহিলাটির বাড়িতে পৌঁছে দেন খাদ্য সামগ্রী। চারচালা টিনশেডের একটি ঘর নির্মাণ করে দেয়া হয়। দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন। মহিলার ছোট মেয়ের পড়াশোনার যাবতীয় দায়িত্ব নেন সংশপ্তক টিমের সমন্বয়ক জহিরুল ইসলাম।

তৃতীয় ধাপে নাঙ্গলকোটে চালু করেন বিনামূল্যে 'সংশপ্তক অক্সিজেন সেবা'। করোনায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন অক্সিজেন সিলিন্ডার। এই অক্সিজেন সেবা এখন পর্যন্ত চলমান রয়েছে। অক্সিজেন সেবায় সহযোগিতা করছে নাঙ্গলকোট পাটোয়ারী জেনারেল হাসপাতাল।

নাঙ্গলকোট গ্রামের কাশিপুর গ্রামের বাসিন্দা তৈয়বুর রহমান সোহেল বলেন, এক স্বজনের অক্সিজেনের খুব প্রয়োজন হয়ে পড়ে। গ্রামে কিভাবে অক্সিজেন পাবো বুঝে উঠতে পারছিলাম না। সংশপ্তকের সদস্যদের জানানোর পর তারা সহযোগিতার হাত বাড়ায়। 

সংশপ্তকের সমন্বয়ক ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র জহিরুল ইসলাম জানান, ‘বিশ^বিদ্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর গ্রামে চলে আসি। করোনার ভয় তখন চরমে। লকডাউন শুরু হওয়ার আগে ভাবলাম মানুষের সেবায় কী করা যায়। প্রথমে মাত্র তিনজন দিয়ে শুরু করি। তিন-চারদিনের ব্যবধানে ব্যাপক সাড়া পাই। প্রায় তিনশ মানুষ এগিয়ে আসে।’

নাঙ্গলকোট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা লামইয়া সাইফুল বলেন,‘ সংশপ্তক মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আমরা তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করি।’