The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

তালেবানকে একঘরে করে দেয়ার হুমকি

তালেবানকে একঘরে করে দেয়ার হুমকি
আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি ডেবরাহ লিয়নস। ছবি: সংগৃহীত

জোর প্রয়োগ করে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতা যদি নিজেদের দখলে নিয়ে নেয় তালেবানরা, তবে দেশটি একটি ‘একঘরে রাষ্ট্রে’ পরিণত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্থনি ব্লিংকেন ভারতে তার প্রথম রাষ্ট্রিয় সফরে এসে বুধবার নয়া দিল্লিতে একথা বলেন। খবর আল জাজিরার।

ভারতে দেশটির উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ব্লিংকেন। তিনি যখন ভারত সফর করছেন, তখন তালেবানদের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফরে গিয়ে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছে। বলা হচ্ছে, এর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতি শুরু করেছে তালেবানরা।

এদিকে আফগানিস্তানে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিনিধি ডেবরাহ লিয়নস বলেন, সমঝোতার টেবিেলে না বসলে এবং সংঘাত চলমান রেখে এলাকা দখল ও নিষ্ঠুরতা অব্যাহত রাখলে তালেবান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সত্যিকারের কোনো সমর্থক পাবে না।

লিয়ন বলেন, এই এলাকায় শান্তি ফেরাতে তালেবানের দেশ ও অঞ্চলগত দায়িত্ব রয়েছে। বিশ্ব পর্যবেক্ষণ করছে, তারা কিভাবে কাজ করছে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কি আচরণ করছে। বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে তালেবানের আচরণ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তাতে মনে হচ্ছে তালেবান যুদ্ধ থামাতে চাচ্ছে না। গত কয়েক বছরে তালেবান দোহায় শান্তি আলোচনা মাধ্যমে কিছু কিছু এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। কিন্তু তাদের অবশ্যই আফগান সরকারের সঙ্গে সমাঝোতায় আসতে হবে, যোগ করেন লিয়ন।

লিয়নের দাবি, তালেবান আফগানিস্তানে নারী-শিশুদের ওপর দমন পীড়ন চালাচ্ছে। তালেবানকে সমর্থন করা মানে নারী শিশুর ওপর দমন পীড়নে সহায়তা করা। এই কাজটি কেউ করতে রাজি নয়।

তার দাবি, তালেবান ক্ষমতায় এলে নারীদের শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেবে, একনায়কতান্ত্রিক আচরণ করবে জনগণের সঙ্গে। এটা করতে দেওয়া হবে না। কারণ এটা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী কাজ। আর এরকম একটি পরিবেশে নাগরিকরা তাদের জীবন সঠিকভাবে পরিচালিত করতে পারবে না।

বৈঠকে জাতিসংঘ দূত বলেন, ১৮ মিলিয়ন আফগান জনগণ মানবেতর জীবনযাপন করছে। যে সংখ্যা গত বছরের দ্বিগুণ। এই সংখ্যা মোট লোকসংখ্যার অর্ধেক। এসব মানুষ প্রচণ্ড তাপদাহে কষ্ট পাচ্ছে, করোনায় বিরাট অংশ ভুগছে এবং যুদ্ধে মারা যাচ্ছে।

খবরে বলা হচ্ছে, দাতারা আফগান সরকারের কাছে দেশটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দিচ্ছে। তারা দেশটির বর্তমান যে সঙ্কট চলছে তা মিটিয়ে ফেলতে ঘানি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি বলছেন, আফগানের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। আমি তালেবানকে আগাম নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছি। ৫০০০ তালেবানকে মুক্তির পদক্ষেপ দেওয়ার বিষয়ে লয়া জিরগায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি যা নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, আফগানে যে যুদ্ধ চলছে তা গৃহযুদ্ধ নয়। কিছু সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দখলবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। আামি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাতে চাই, আফগান জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পক্ষের অবস্থান দৃশ্যমান থাকুক তা চায় না। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের ইসলামিক স্কলাররা বলেছেন, আফগানে কোনো ধর্মযুদ্ধ চলছে না।

তিনি বলেন, আফগানে যে সমস্যা তার সামরিক কোনো সমাধান নেই। আফগান সরকার রাজনৈতিক সমঝোতায় বিশ্বাস করে। জনগণকে সন্তুষ্ট করতে তালেবানের উচিত একটি রাজনৈতিক চুক্তিতে সম্মত হওয়া।

আশরাঘ ঘানি বলছেন, আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সৈন্য প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। আমরা কখনই বাইডেনকে বলব না আপনার সিদ্ধান্ত পাল্টান। আফগান জনগণ নিজেরাই তাদের ভবিষ্যত গড়ে নিতে পারবে।