The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন এক স্কুলশিক্ষক

প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন এক স্কুলশিক্ষক
নির্বাচনে জয়ী হওয়ার ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন পেদ্রো কাস্তিলিও। ছবি: রয়টার্স

পেরুর প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন পেদ্রো কাস্তিলিও নামের এক স্কুলশিক্ষক। করোনাভাইরাস মহামারি এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই তিনি বুধবার (২৮ জুলাই) এ শপথ নেন। এর আগে ভোট গ্রহণের একমাসের বেশি সময় পর তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। দেশটির ইতিহাসে এটিই ছিল সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভোট গণনা।

তার শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্পেনের রাজা ফিলিপ ষষ্ঠ। এছাড়া কলম্বিয়ার ইভান ডুক এবং চিলির সেবাস্তিয়ান পিনেরাসহ ছয় রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন। মার্কিন শিক্ষামন্ত্রী মিগুয়েল কার্ডোনা এবং বলিভিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইভো মোরালেসও এতে উপস্থিত ছিলেন।

বামপন্থী ও রক্ষণশীল হিসাবে চিহ্নিত পেরুভিয়ার পার্বত্য অঞ্চলের ৫১ বছর বয়সী কৃষক ও ইউনিয়ন নেতা পেদ্রো কাস্তিলিও তার শপথ অনুষ্ঠানে বলেন, আমি ঈশ্বরের কসম, আমার পরিবারের, কৃষকদের, স্থানীয় জনগণের দ্বারা... মৎস্যজীবী, পেশাজীবী, শিশু, যুবসমাজের দ্বারা এ শপথ নিচ্ছি যে, আমি ২০২২-২৬ মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করব। আমি একটি দুর্নীতিমুক্ত একটি দেশ গঠনের জন্য আজ শপথ নিচ্ছি।

গ্রামীণ দরিদ্রদের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় আসা পেদ্রো কাস্তিলিওর জাতীয় রাজনীতিতে তেমন অভিজ্ঞতা নেই। তার শপথ গ্রহণের জন্য তিন দিনের অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

১৯৯৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে তিনি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। ২০১৭ সালে বেতন সংক্রান্ত শিক্ষক ধর্মঘটের সময় তার নাম আবারো আলোচনায় ওঠে আসে।

তিনি প্রথম দফায় ১৮ প্রার্থীকে পেছনে ফেলে বিজয়ী হয়েছিলেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে তিনি আরেক প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরির বিরুদ্ধে সুক্ষ্ম ব্যবধানে এগিয়ে থাকেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির মেয়ের তুলনায়মাত্র ৪৪ হাজার ভোট বেশি পেয়ে তিনি শীর্ষস্থান ধরে রাখেন। এরপর ফুজিমোরি পাঁচ লাখ ভোটের জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনে অনিয়মের কোনো খবর দেয়নি। আদালত কেইকো ফুজিমোরির বেশ কয়েকটি আপিল খারিজ করে দিলে পেরুর নির্বাচনী সংস্থা পেরু লিব্রে পার্টির কাস্তিলিওকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে ঘোষণা করে।

পেরুতে গত পাঁচ বছরে চারজন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট মার্টিন ভিজকারার বিরুদ্ধে কংগ্রেস অভিশংসন প্রক্রিয়া চালিয়েছিল, যার ফলে তাকে পদত্যাগ করতে হয়।

এদিকে করোনোভাইরাস মহামারিতে পেরু বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার বিশ্বের সর্বোচ্চ মাথাপিছু মৃত্যুর হার। সরকারি হিসাবেই সেখানে ২০ লাখ লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে এবং এক-তৃতীয়াংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।