The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১

এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় কোভিডের ধাক্কা

এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় কোভিডের ধাক্কা
ছবি: সংগৃহীত

করোনাভাইরাস মহামারীর বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে বিশ্বজুড়ে নাজুক হয়ে পড়েছে এইচআইভি, টিবি ও ম্যালেরিয়ার চিকিৎসা সেবা। 

২০০৪ সালের পর থেকে পৃথিবীজুড়ে কমে এসেছিল এই রোগগুলোর প্রকোপ; অর্ধেকের মতো কমে এসেছিল মৃত্যুহার। কিন্তু কোভিডের প্রাদুর্ভাবে অনেকটা বাধার মুখে এসব রেগের চিকিৎসা।

বিশ্বব্যাপী এইচআইভি চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা এভিএসির নির্বাহী পরিচালক মিচেল ওয়ারেন বলেছেন, কোভিডের আবির্ভাব তাদের সংস্থার কার্যক্রমকে বেশ বিপাকে ফেলেছে; বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রচারকাজ।

করোনাভাইরাসের ভয়াবহতায় বিশ্বজুড়েই হাসপাতালগুলো এখন কোভিড রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে অন্যান্য রোগের মতো এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার চিকিৎসাও ব্যহত হচ্ছে। কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা থাকলেও অনেকে এখন হাসপাতালমুখী হতে চান না। 

করোনাভাইরাসের আবির্ভাবের আগে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে ব্যাপক সংক্রামক রোগ ছিল টিবি। এই রোগে প্রতিবছর ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হতো। 

এইচআইভি, টিবি, ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করা গ্লোবাল ফান্ডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১০ লাখ মানুষের টিবি পরীক্ষা করা হয়েছে, যা ২০১৯ সালের চেয়ে ১৮% শতাংশ কম।  

গ্লোবাল ফান্ডের নির্বাহী পরিচালক পিটার স্যান্ডস বলেন, ‘টিবির ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে। আমি ভয় পাচ্ছি যে, অনিবার্যভাবে লক্ষ লক্ষ অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটবে।’

তিনি জানান, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি টিবি সংক্রমণ ঘটে ভারতে। কোভিডের আগে যে সংখ্যায় টিবির পরীক্ষা হতো, ২০২০ সালের শেষ দিকে ভারতে পুনরায় তা শুরু হয়েছিল। কিন্তু গত বসন্তে এই কোভিডের নতুন প্রাদুর্ভাব সেই অগ্রগতিকে উল্টে দিয়েছে।

এভাবে টিবি নির্ণয় বাধাগ্রস্ত হওয়ার সুদূরপ্রসারী প্রভাব একটি জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ার শঙ্কা রয়েছে।  কারণ সঠিক চিকিৎসা না নিলে একজন টিবি রোগী থেকে বছরে ১৫ জনের মধ্যে এর ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে।

স্যান্ডস বলেন, মহামারীর প্রভাব কমাতে গ্লোবাল ফান্ড তার স্বাভাবিক বাজেটের চেয়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে।  ২০২০ সালের মার্চ মাসে বিভিন্ন সংস্থা মহামারী মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড় করেছিল। আর এ বছর ১০৭টি দেশকে সহায়তা দিতে আগস্ট পর্যন্ত ৩.৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল জোগাড়ও করেছে সংস্থাটি। 

এসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন, রোগের পরীক্ষা, চিকিৎসা ও অক্সিজেন সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দিতে এই তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। 

স্যান্ডস বলেন, উন্নয়ন সংস্থাগুলো আগামী তিন বছরে এইচআইভি চিকিৎসায় ছয় বিলিয়ন এবং টিবি রোগের জন্য দুই বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।