The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১

ভারতে বাড়ছে জিকা সংক্রমণ

ভারতে বাড়ছে জিকা সংক্রমণ
ফাইল ছবি

করোনায় বিধ্বস্ত ভারতে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। এবার দেশটির মহারাষ্ট্রে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, গত রবিবার পুনে শহরে ৫০ বছরের এক নারীর শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে তার শরীরে এই ভাইরাসের হালকা উপসর্গ রয়েছে। এ ছাড়া তার পরিবারের অন্য কারও উপসর্গ নেই বলেও জানা গেছে।

স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পুনের পুরান্দার এলাকার একটি গ্রামে গেল মাসে কয়েকজনের জ্বর হয়। তাদের নমুনা নিয়ে পরীক্ষার পর ২৫ জনের চিকুনগুনিয়া, তিনজনের ডেঙ্গু আর একজনের জিকা ভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ে।

ওই নারী চিকুনগুনিয়াতেও আক্রান্ত হয়ে সেরে ওঠেন বলে জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ। জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে জনস্বাস্থ্যমূলক নানা পদক্ষেপ নিতে বিশেষজ্ঞদের একটি দল ওই এলাকায় পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে কেরালাতেও ৬৩ জনের শরীরে জিকা ভাইরাস শনাক্ত হয়।

জিকা ভাইরাস কী?

জিকা হল এক ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন। যা ছড়িয়ে দেয় মশা। এডিস ইজিপ্টাই মশার মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়। এই মশা ডেঙ্গি ও চিকুনগুনিয়া মতো রোগ‌ও ছড়ায়। তা ছাড়া জিকা ছড়ায় যৌনাচারের মাধ্যমে। মানে, কারওর যদি জিকা হয়, তিনি যৌনাচারের মাধ্যমে তাঁর পার্টনারের দেহে এই অসুখটির বীজ রোপণ করতে পারেন। উগান্ডায় ১৯৪৭ সালে বাঁদরদের মধ্যে প্রথম মেলে জিকার দেখা। মানুষের মধ্যে জিকা সংক্রমণ-সংবাদ পাওয়া যায় তার পাঁচ বছর পর।

১৯৬০ সালের পর থেকে সারা পৃথিবীতে বিক্ষিপ্ত ভাবে জিকা সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রথম জিকা মহামারির আকার নেয় প্রশান্ত মহাসাগরের ইয়াপ দ্বীপে। ২০০৭ সালে। ‌ এর পর ২০১৫ সালে জিকা মহামারি হয় ব্রাজিলে। তখন মাইক্রোসেফালি (Microcephaly) বলে আরেকটা অসুখের সঙ্গে জিকার অঙ্গাঙ্গী সম্পর্ক সামনে এসে যায়। মাইক্রোসেফালিতে ছোট মস্তিষ্ক নিয়ে শিশুর জন্ম হয়, তার ব্রেন অপরিণত অবস্থায় থাকে।

জিকা কতটা মারাত্মক?

কোন‌ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলার জিকা হলে তা মারাত্মক, কারণ তাহলে গর্ভস্থ শিশুটির মাইক্রোসেফালি হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা ছাড়া জিকা অন্যান্যদের ক্ষেত্রে তেমন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে না। তবে ব্রাজিলে জিকা মহামারির সময় দেখা যায় গিলান-বারে সিনড্রোম ( Guillain-Barré syndrome) জিকা বাড়িয়ে তুলছে। গিলান-বারে সিনড্রোমের ফলে প্যারালাইসিস হতে পারে। যা ডেকে আনতে পারে মৃত্যু। ১৯১৬ সালে গিলান ও বারে নামে দুই নিউরোলজিস্ট এই অসুখটিকে চিহ্নিত করেন বলে ওই দুই চিকিৎসকের নামে এটির নামকরণ।

২০১৭ সালে ব্রাজিলে জিকা সংক্রমিত মধ্যে একটি গবেষণা চালিয়ে দেখা যায় এই অসুখে মৃত্যুর হার ৮.৩ শতাংশ। গবেষণাটি করে ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটা না-ও হতে পারে।

জিকা সংক্রমণের উপসর্গ

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই জিকা হলে কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে অবশ্য উপসর্গের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ফ্লু বা‌ জ্বরের উপসর্গের মতোই যা। মানে আপনার জিকা হলে জ্বর কিংবা মাথাব্যথা হতে পারে। কোনও ক্ষেত্রে Rash বেরোতে পারে। যেমন ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে হয়। আবার কার‌ওর হতে পারে কনজাংটিভাইটিস। পরিস্থিতি বেগতিক হয়ে উঠলে চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। জিকা সংক্রমণ হলে উপসর্গ আসতে (যাকে ইনকিউবেশন পিরিওড বলা হয়ে থাকে) ৩ থেকে ১৪ দিন লাগতে পারে।

জিকার চিকিৎসা

জিকার কোন‌ও ভ্যাকসিন নেই কিংবা কোনও ওষুধ নেই। উপসর্গ সাধারণত মৃদু। বেশি পরিমাণে জল খাওয়ার প্রয়োজন জিকা হলে। এবং গা-ব্যথা আর জ্বরের জন্য দরকার বিশ্রাম। এমনই বলছে হু।