The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

প্রখর রৌদের মধ্যেই শিশু শিক্ষার্থীদের ত্রীপাল টানিয়ে পাঠদান

প্রখর রৌদের মধ্যেই শিশু শিক্ষার্থীদের ত্রীপাল টানিয়ে পাঠদান

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তি উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে স্বাস্থ্যবিধি মানলেও প্রখর রৌদের মধ্যে গাছতলায় ত্রীপাল টানিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা গেছে। সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক দুই সিফট ক্লাস করার পরেও ছাত্র ছাত্রীর স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে কেই গাছ তলায় মাটিতে বসতে হয়েছে। এতে করে অনেক শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানুষিক ভাবে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। 

জানাযায়,স্কুলটিতে নতুন ভবন নির্মান করার জন্য জায়গা নির্ধারন করা হয় করোনায় স্কুল বন্ধ থাকার সময়। এবং স্কুলের পাঠদান পরিচালনা করার জন্য বিকল্প স্থান তৈরি না করে পুরনো ভবন ভেঙ্গে ফেলা হয়। করোনা কালিন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় ছাত্র ছাত্রীদের তেমন কোন সমস্যা না হলেও স্কুল খোলার প্রথম দিন থেকেই কোমলমতি শিশু শিক্ষাথীদেরকে খোলা আকাশের নিছে প্রখর রৌদের মধ্যে ত্রীপাল টানিয়ে ক্লাস করতে হয়েছে। 

পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র রোবা আক্তার বলেন,দির্ঘদিন পর স্কুল খুলেছে আমরা অনেক খুশি হয়েছি। আমরা সবাই মাক্স পরে স্কুলে এসে দেখি আমাদের স্কুল ভেঙে ফেলেছে নতুন ভবন নির্মান করবে বলে। আমরা স্কুলের পাশের একটি ঘরে বসেছি। কিন্তু সেখানে জায়গা সংকুলানের কারনে পরে গাছ তলাতে বসে ক্লাস করেছি ।

ছাত্র অভিভাবক শাহ আলম বলেন,গত ৫মাস পূর্বে টিকাদারী প্রতিষ্টান পুরাতন ভবন ভেঙ্গে  নতুন ভবনের কাজ শুরু করবে। কিন্তু এতদিন পরেও নতুন ভবনের কোন কর্যক্রম দেখা যায়নি। নতুন ভবনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম বলেন,কোমল মতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য গ্রামের সবাই মিলে পুরাতন ভবনের পাশে একটি টিনের ঘর নেওয়া হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য। কিন্তু ছাত্র ছাত্রী বেশি হওয়ায় সেখানে স্থান না হওয়ায় গাছ তলাতে বসতে হয়েছে অনেক শিক্ষার্থীদের।

শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন পর স্কুল খুলেছে শিক্ষার্থীরা আনন্দিত। এদিকে পুরাতন ভবন ভেঙ্গে ফেলায় আর এখন স্কুল খোলায় একটি টিনের ঘরের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। কিন্তু ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বেশী থাকায় গাছ তলাতে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। একটি টিনসেট ঘর তৈরি করে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যদিকে নতুন ভবনের কাজ ধরবে বলেছিল ঠিকাদার কিন্তু আজও কোন কর্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রায়হান কবির বলেন,কোমল মতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। আমি সংশ্লিষ্টদের  সাথে কথা বলে দ্রæতই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করব।


আরও পড়ুন