The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

চিকিৎসা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনায় বিরোধীদল

জবাবে স্বাস্থ্যখাতে সফলতার চিত্র তুলে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনায় বিরোধীদল
ছবি: সংগৃহীত

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা। বুধবার বিল পাসের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে তারা চিকিৎসকরা কেন রাজনীতি করবে, সেই প্রশ্নও তুলেছেন। চিকিৎসার বিল দিতে না পারায় বেসরকারি হাসপাতালগুলো রোগী আটতে রাখে বলেও তারা অভিযোগ করেন।

বিলের উপর জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাবের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, বিএনপি করে গিয়েছিল ড্যাব, আওয়ামী লীগ এসে করেছে স্বাচিপ।  সেক্ষেত্রে আমরা কী কারণে বসে থাকছি? এই আইনের মধ্যে যদি উনি আনতো যে ডাক্তাররা এবং বৈজ্ঞানিকরা রাজনীতি করতে পারবে না তাহলে খুব খুশি হতাম।  কিন্তু সেটা আনা হয়নি।  ডাক্তাররা যদি এদেশে রাজনীতি করে তাহলে আমরা কী করবো? আমাদের কাজটা কী? ওনারা চলে আসুক রাজনীতি করতে। যারা ভালো ছাত্র তারা ডাক্তারি পড়ে, কিন্তু তারা যদি রাজনীতি করে তাহলে আমরা সেবা বঞ্চিত হচ্ছি।

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুন অর রশীদ এ সময় বলেন, দেশের পঞ্চাশ বছর অতিক্রম করেছি আমরা।  তারপরও বর্তমানে স্বাস্থ্যব্যবস্থার বেহাল দশা।  আমরা এখনও পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারিনি।  যারা আজকে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত তারাই আজকে বেসরকারি হাসপাতালের ব্যবসা করছে।

তিনি বলেন, এতগুলো বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন, এগুলো মানসম্মত? আজকে বেসরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে যারা শিক্ষা অর্জন করছে তারা কজন বিসিএসে টিকছে? ২০১৩ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মেডিকেল কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে যে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে এই ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? যে সব ছাত্ররা, অভিভাবকরা অনিয়ম করে সেখানে ভর্তি হয়েছে; যারা চিকিৎসাবিজ্ঞানে জ্ঞান অর্জন করবে, সে ব্যাপারে সরকার বলেছিল এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে সিআইডি রিপোর্ট দিচ্ছে এখানে লাগাতার ৭ বছর অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে।

 

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন বলেন, চিকিৎসকরা রাজনীতি করছেন। আমরা রাজনীতি করি, রাজনীতিবিদের জায়গায় থাকবো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইন-শৃঙ্খলার জায়গায় থাকবে। ডাক্তাররা ডাক্তারদের জায়গায় থাকবে। তিনি আরো বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেভাবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে টাকা রোজগারের একটি পথ খুলে নিয়েছে, সেখানে মানুষগুলো নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক বলেন, ডাক্তাররা কেন বিসিএস অফিসার হয়ে তার ডিউটির পর যদি প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে সেক্ষেত্রে তার যে মূল কাজ সেটা ঠিক থাকে না। এটা দীর্ঘদিনের একটা সমস্যা। মন্ত্রীকে বলবো যদি উপকার করতে চান তাহলে ডাক্তারদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসটা আপনারা দয়া করে বন্ধ করার চেষ্টা করেন। জনগণের পয়সা দিয়ে তাদের বেতন দেবেন, তারা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করবেন; এটা আমরা করতে পারি না। ভর্তির জন্য বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে অন্যায়ভাবে টাকা নেওয়া বন্ধের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, বেসরকারি মেডিক্যাল ও হাসপাতালে চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতাল চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। টেকনোলজিস্টের ব্যাপক সংকট। ২০২০ সালের পরীক্ষার ফলাফল এখনো দেওয়া হয়নি। অনেক মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রত্যেক এয়ারপোর্টে পিসিআর ল্যাব দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেওয়ার পরও প্রবাসীদের ঘেরাও করতে হয়েছে।

অবশ্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সফলতার চিত্র তুলে ধরেন। দেশের নাগরিক হিসেবে রাজনীতি করার অধিকার সবার আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ডাক্তারদের অ্যাসোসিয়েশন রয়েছে। স্বাচিপ, বিএমএ রয়েছে। রাজনীতিতো সকলেই করতে পারে। প্রকৌশলী, আইনজীবীরা রাজনীতি করতে পারে। সেই অনুযায়ী চিকিৎসকরা তাদের অ্যাসোসিয়েশন করলে, তাতে কোনও দোষ বা অন্যায় দেখি না। তারাতো সেবা দিচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো করোনায় সেবা দিয়েছে। সেখানকার চিকিৎসা ফি নির্ধারণে আমরা বৈঠক করছি। আশাকরি সেটার সমাধান হবে।

জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। আর বিমানবন্দর জায়গা দেবে। আমরা শুধু কারিগরি সহযোগিতা দেবো। দুই একদিনের মধ্যে বিমানবন্দরে পিসিআর ল্যাব স্থাপন করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর ওয়াদা দেশের প্রতিটি কলেজে মেডিক্যাল কলেজ হবে। সেটা পর্যায়ক্রমে হবে। সেই অনুযায়ী ৩৮টি মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আস্তে আস্তে সব জেলায় হয়ে হবে।