The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

কুমারখালীতে টিকাকেন্দ্রে বেড়েছে চাপ, বাড়ছে সংক্রমণ আতঙ্ক

কুমারখালীতে টিকাকেন্দ্রে বেড়েছে চাপ, বাড়ছে সংক্রমণ আতঙ্ক

মিজানুর ররহমান নয়ন, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি: প্রথমদিকে টিকা গ্রহণে ব্যাপক অনিহা ছিল মানুষের। অনিহার সাথে টিকায় নানান গুজব ছড়াতেন তাঁরা। সেসময় কেন্দ্রে গ্রহিতার জন্য অপেক্ষা করতেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। টিকাদানের জন্য অনেকটা মানুষের হাতে পাঁয়ে ধরতেন তাঁরা। তবুও দিনে শতাধিক টিকাদান সম্ভব হয়নি।

তবে বর্তমান টিকাকেন্দ্রে রূপ পাল্টিয়েছে। টিকায় ব্যাপক আগ্রহ বেড়েছে মানুষের। প্রতিদিনই টিকাকেন্দ্রে ভিড় করছে হাজার হাজার মানুষ। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকা পাচ্ছেন না অনেকে। টিকাকেন্দ্রে তালা লাগিয়েও চাপ সামলানো যাচ্ছেনা। কেন্দ্রে গ্রহিতা থাকলেও অনেকটা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। 

অপরদিকে টিকাকেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়ে প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব। অনেকের মুখেই থাকছেনা মাস্ক। এতে টিকাকেন্দ্রে থেকেই করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল। 

বুধবার দুপুর পৌনে বারোটায় উপজেলার স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের পৃথক ও লম্বা একাধিক লাইন। সেখানে মানা হয়নি সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি। অনেকের মুখেই ছিলোনা মাস্ক।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যালয় সুত্র জানায়, টিকা গ্রহিতাদের মুঠোফোনে ক্ষুদেবার্তা দেখে দেখে টিকা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার টিকাদানের জন্য দুই হাজার জনকে ক্ষুদেবার্তা প্রেরণ করা হয়েছিল আগেই। কিন্তু তাঁর দ্বিগুন গ্রহিতা সকাল থেকে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়েছিল।

 তবে পূর্বে নির্ধারিত দুই হাজার এবং প্রায় দুই শ ব্যর্থ ক্ষুদেবার্তাসহ দুই হাজার দুই শ জনের টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব ভেঙে পড়েছিল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যালয় সুত্র আরো জানায়, এপর্যন্ত উপজেলায় টিকার জন্য আবেদন জমা পড়েছে প্রায়  এক লক্ষ দশ হাজার। তন্মধ্যে প্রথম ডোজ প্রায় পঞ্চাশ হাজার ও দ্বিতীয় ডোজ পঁচিশ হাজারসহ মোট প্রায় পঁচাত্তর হাজার টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে।

নাম প্রকাশে একাধিক টিকা গ্রহিতা বলেন, ' টিকাকেন্দ্রে প্রতিদিনই উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে আজ (বুধবার) সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল। দীর্ঘ সময় লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিয়েছি। তবে কেন্দ্রে কোন স্বাস্থ্যবিধি ছিলোনা। এতে কেন্দ্র থেকেই করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মোঃ আব্দুর রহমান মুন বলেন,' গেল ফেব্রুয়ারি মাসে যখন প্রথম টিকাদান শুরু হয়, তখন মানুষের হাতে পাঁয়ে ধরে টিকা দিতে পারিনি। আর এখন ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। টিকা গ্রহণে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ বৃদ্ধির সাথে সাথে ব্যাপক ভোগান্তি বেড়েছে। এরপর প্রধান কারণ নিয়ম না মেনে টিকাকেন্দ্রে আসা। '

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ আকুল উদ্দিন বলেন, একদিন বন্ধ থাকার পর আজ টিকাদান চালু ছিল। ফলে কেন্দ্রে অতিরিক্ত চাপ ছিল।' 

তিনি আরো বলেন, ' বুধবার টিকার জন্য দুই হাজার জনকে ক্ষুদেবার্তা বার্তা প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর বিপরীতে দ্বিগুন মানুষের উপস্থিতি ছিল। এতে কিছুটা স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে পড়েছিল। '


আরও পড়ুন