The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ৭ বছর আজ, প্রধান আসামির মৃত্যুবরণ

পিনাক-৬ লঞ্চডুবির ৭ বছর আজ, প্রধান আসামির মৃত্যুবরণ

দীর্ঘ সাত বছর অপেক্ষায় পথ চেয়ে ৬০ যাত্রীর লাশ না পেয়ে প্রিয়জন হারানোর শোকে পাথর তাদের পরিবার। আজ (৪ আগস্ট) আলোচিত সেই পিনাক-৬ ল ডুবির সাত বছর।

বেপারোয়া নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অবহেলাজনিত কারণে যাত্রীদের মৃত্যু ও নিখোঁজের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের শান্তি না হওয়ায় প্রিয়জন হারানোর বেদনায় এখনও শোকে পাথর পরিবারগুলো।

২০১৪ সালের ৪ আগস্ট ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে কাওড়াকান্দি থেকে রওনা হয়ে মাওয়ার অদূরে উত্তাল পদ্মায় ঢেউয়ের তোড়ে মুহূর্তেই ডুবে যায় পিনাক-৬ ল টি। ওই ল ডুবিতে শতাধিক যাত্রী জীবিত উদ্ধার হলেও নিখোঁজ থাকে দেড় শতাধিক।

সরকারি হিসাবে নিখোঁজ ১৩৬ জনের মধ্যে ৪৭ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হয়। এখনও নিখোঁজ ৬০ জন। অন্যদিকে পাঁচ নারী, দুই পুরুষ, পাঁচ শিশুসহ ১২ যাত্রীর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের মরদেহ শিবচরের পাচ্চর এলাকায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে প্রশাসন।

দেশের সর্বশেষ আধুনিক প্রযুক্তি সোনার মেশিন ( সমুদ্রের তলদেশে জরিপ কাজে ব্যবহৃত (ধাতব পদার্থ বের করা যায়) ব্যবহার করেও পদ্মায় ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ ল টির কোনো সন্ধান করা সম্ভব হয়নি। স্বজনরা জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া পিনাক-৬-এর ভেতরে অনেক লাশ রয়েছে। লঞ্চটি উদ্ধার হলে ভেতরে আটকে থাকা যাত্রীদের লাশ পাওয়া যেত।

পিনাক-৬ উদ্ধার অভিযান পরিত্যক্ত ঘোষণার পর নিখোঁজ প্রিয়জনের লাশ খুঁজে পেতে পরিবারের সদস্যরা তল্লাশি চালান চাঁদপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, ভোলাসহ ভাটি অঞ্চলের টাউনে ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত নদীগুলোতে। নদীর একূল-ওকূল তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পাননি লাশ।

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ীর বেতকা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আমানুল হক জানিয়েছেন, প্রতিবছর ঈদ এলেই তাদের পরিবারে ফিরে আসে বিষাদের ছায়া। ওই লঞ্চ ডুবিতে নিখোঁজ তার নাতনি ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী ইমা আক্তারের লাশ বিভিন্ন স্থানে টানা ৯ দিন সন্ধান করেও পাওয়া যায়নি।

মাদারীপুরের শিবচরের দৌলতপুর গ্রামে ঈদ শেষে ঢাকার পথে পিনাক-৬-এ পদ্মা পাড়ি দিচ্ছিলেন ফরহাদ মাতুব্বর, তার স্ত্রী শিল্পী, এক বছরের সন্তান ফাহিম ও শ্যালক বিল্লাল। এ চারজনের লাশ আজও উদ্ধার হয়নি।

ফরহাদের বোন প্রিয়া আক্তার বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারে কোনো ঈদ নেই। তবে প্রিয়জনের লাশ পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়ে এখন বিচারের অপেক্ষায় তারা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর পিনাক-৬ লে র মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু, তার ছেলে ওমর ফারুক, কাঁঠালবাড়ী ঘাটের ইজারাদার আতাহার আলীসহ ছয়জনকে আসামি করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং থানায় মামলা হয়। ওই মামলায় র‌্যাব আবু বক্কর সিদ্দিক কালুকে চট্টগ্রাম থেকে এবং তার ছেলে ওমর ফারুককে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। বেশ কিছুদিন আগে বক্কর সিদ্দিক কালু মৃত্যু বরণ করেছেন।

শিমুলিয়া বাংলাবাজার নৌরুটের মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন জানান, শোকের মাস তার উপর করোনা কোন অনুষ্ঠান আয়োজন করতে পারিনি। এদিনটি আসলে শিমুলিয়া ঘাট এর শোকের ছায়া চলে আসে মনে হয় কালো অন্ধকার।

পিনাক ৬ ডোবার পর শিমুলিয়া ঘাট অনেক পরিবর্তন এসেছে আগের তিন ঘাটে দায়িত্বে একজন ইন্সপেক্টর ছিল। এখন তিনজন ও একজন উপ-পরিচালক এবং লে র ছাড়া এবং ধারণ ক্ষমতার ব্যাপারে তদারকি চলে।

তাদের সাথে আমরা একত্রিত কাজ করি। সে সময়ে পিনাক ৬ এর মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু বেশ কিছুদিন আগে মারা গেছে। মামলার ছেলেই এখন একমাত্র আসামি।

সহকারি পরিচালক নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা শিমুলিয়া নদী বন্দরের মো: সাদাত হোসেন জানান, পিনাক ৬ ডোবার আগে তিন ঘাটের দায়িত্ব একজন ইন্সপেক্টর ছিল।

সারারাত লঞ্চ চলত। তদারকি কম ছিল। ধারণক্ষমতার বেপারও বেশি কিছু বলা হতো না। এখন তিনজন ইন্সপেক্টর দায়িত্বে। তার উপরে আরেকজন উপ পরিচালক পদের দায়িত্ব রয়েছে সব সময় তদারকি চলে চলে।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় ফিটনেস রেজিস্ট্রেশন আছে কিনা, এসব সবই হয়েছে পিনাক ৬ ডোবার পর। আগে রাতে ২৪ ঘন্টায় ল চলত এখন সেটি কসে রাত ৮ টা পর্যন্ত চলাচল করা হয়েছে সবই তদারকির কারণে।

লৌহজং থানার ওসি আলমগীর হোসাইন জানান, বেপরোয়া যান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগ এনে বিআইডব্লিউটিএর পরিবহন পরিদর্শক জাহাঙ্গির ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৭ সালে আসামিদের বিরুদ্ধে মুন্সীগঞ্জের সংশ্নিষ্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন।

মুন্সীগঞ্জ আদালত সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন কারাগারে থেকে পিনাক-৬ লে র মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক কালু ও তার ছেলে ওমর ফারুকসহ আসামিরা জামিনে রয়েছে।