The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

পানি কমায় পদ্মার রক্ষা বাধে ধ্বস, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ-বসতবাড়ি

পানি কমায় পদ্মার রক্ষা বাধে ধ্বস, হুমকিতে স্কুল-মসজিদ-বসতবাড়ি
ছবি: টিবিটি

এম. মনিরুজ্জামান, রাজকাড়ী প্রতিনিধি: পদ্মার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে রাজবাড়ীর পদ্মা নদীর ডানতীর রক্ষা প্রকল্পের চর সিলিমপুর এলাকায় ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে।

বৃৃৃৃহস্পতিহবার ভোরে ভাঙনে ওই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার এলাকার সিসি ব্লক নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন ওই এলাকার অর্ধ শতাধিক পরিবারসহ চর সিলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবং ভাঙন আতঙ্কে বিদ্যালয়ে কমেছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।

স্থানীয়রা জানায়, ভোর রাতে হঠাৎ করে বড় বড় চাপের ফাটল তৈরি হয়ে মুহুর্তের মধ্যে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে প্রায় ৫০মিটার এলাকার সিসি ব্লক দেবে গেছে। এতে ওই এলাকার একটি স্কুল, মসজিদসহ অর্ধশত বসতবাড়ী ভাঙন হুমকিতে হয়েছে। দিন রাত ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।

এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে স্কুলটির মুল ভবনের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ করে স্কুল কর্তৃপক্ষ টিনশেড ভবনে চলাচ্ছে পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম। এবং মুল ভবন থেকে সরায়ে নেয়া হয়েছে গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্র ।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বাঁধের কাজ ভাল না হওয়ায় দফায় দফায় ভাঙছে। ভোরে চর সিলিমপুর স্কুলের পাশ থেকে অনেকাংশের বাঁধের ব্লক নদীতে চলে গেছে। এবং বড় বড় ফাটল তৈরি হয়েছে। রাতে ভয়ে তাদের ঘুম হয়নি। সারারাত নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। যে ভাবে ভাঙছে তাতে ঘরবাড়ী হারানোর ভয়ে

আছেন তারা। এছাড়া তাদের এলাকার একমাত্র স্কুলটি ভাঙনের ঝুকিতে রয়েছে। বাচ্চাদের ভয়ে স্কুলে পাঠাচ্ছেন না। ভাঙন রোধে যে ভাবে কাজ হওয়া প্রয়োজন সেটিও হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

চর সিলিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমান আলী ফকির বলেন, তার স্কুলে শিশু শ্রেনী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত ১০৮ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। করোনায় দীর্ঘ দিন স্কুল বন্ধ থাকার পর খুললেও এখন নদী ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। অভিভাবকরা ভয়ে বাচ্চাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। স্কুলের মুল ভবনের পাশেই এখন ভাঙন। কখন কি হয় বলা মুসকিল। যে কারণে মুল ভবন পাঠদান ও অফিস কার্যক্রম বন্ধ রেখে টিনশেডে পাঠদান ও অফিস কার্যকম চালাচ্ছেন। এছাড়া মুল ভবন থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রাদি সিরিয়ে নিয়েছেন। স্কুলটি এই এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি না থাকলে এই এলাকার বাচ্চারা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে। এলাকার ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান তিনি।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, পদ্মার পানি কমার কারণে ভোরে হঠাৎ করে চর সিলিমপুর স্কুলের আপে ৩০ মিটার অংশের পিচিং ব্লক ধসে গেছে।  খবর পেয়ে তারা তাৎক্ষনিক ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করেছেন। এবং কাজ চলমান আছে। পরবর্তীতে পুরো ভাঙন এলাকা চিহিৃত করে বালু ভর্তি বস্তা ডাম্পিং ও ব্লক বসিয়ে মেরামত করে দেবেন বলেও জানান তিনি।


আরও পড়ুন