The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

ঝুকিপূর্ণ ও সাহসী অপারেশনে সফল হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পার্কভিউ হাসপাতাল ও চিকিৎসক টীম

ঝুকিপূর্ণ ও সাহসী অপারেশনে সফল হয়ে প্রশংসায় ভাসছেন পার্কভিউ হাসপাতাল ও চিকিৎসক টীম
ছবি: টিবিটি

এস এম আকাশ, চট্টগ্রাম ব্যুরো: কথায় আছে মানুষের হৃদয়ে সৃষ্টিকর্তার পরেই অলংকৃত হয়ে থাকে একজন মানবিক চিকিৎসকের আসন আর সেই পুরো জায়গা জুড়ে যদি থাকে কোন বিশেষায়িত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তবে তা তো সোনায় সোহাগা।

জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মৃত্যু ঝুঁকি পাড়ি দিয়ে দৃষ্টান্ত মূলক নজির স্থাপন করেছে চট্টগ্রামের স্বনামধন্য শীর্ষ স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান পার্কভিউ হাসপাতাল লিমিটেড।

সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের জীবন ফিরিয়ে দেয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে সফলতা অর্জন করল পার্কভিউ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টীম। 

দীর্ঘ ১১দিনের জ্বর আর দিন ধরে শ্বাসকষ্ট নিয়ে গত ১লা আগস্ট পার্কভিউ' কেবিনে ভর্তি হন উত্তর লক্ষীপুর,ফেনী জেলার বাসিন্দা

মো আকরামুল হক (৫৫) যিনি আবার এই সফল অপারেশনের সার্জন, সেই সাথে ইউরোলজিস্ট  ডাক্তার আলমগীর ভূইয়ার আপন বোন জামাতা। শ্বাসকষ্টের চেয়েও বেশী ছিল তার তীব্র পেট ব্যাথা, যার কোন কারন বোঝা যাচ্ছিলনা। ২রা আগস্ট কোভিড টেস্ট পজিটিভ আসে, সম্ভাব্য সব পরীক্ষা,এমনকি সিটি স্ক্যানও করা হয় পেটের, শুধু এ্যান্ডোসকপি বাদে, কোভিট বলে এটা করা হয়নি। পেট ব্যাথার কোন উন্নতি হয় না।

ধীরে ধীরে অক্সিজেন লেভেল কমতে থাকায় ২রা আগস্ট সন্ধ্যায় রোগীকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়, সন্তোষজনক কোন ডায়াগনসিসে পৌছাতে না পাড়ায় তীব্র পেট ব্যাথার কোন কুল কিনারা করা পসিবল হচ্ছিল না। এদিকে রোগীর ব্লাড প্রেসার মারাত্নক লেভেলর কম, স্যাচুরেশন ৭৪-৭৮%,  সিপ্যাপ সাপোর্টে ১০০লিটার/মিনিট অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল। ৩রা আগষ্ট আরো কয়েকটা রিপোর্ট আসে, কিডনী ঠিকমতো কাজ করছে না, ক্রিয়েটিনিন বেশী, প্রোক্যালসিটোনিন ২১., যার মানে সিভিয়ার সেপসিস হয়েছে রোগীর, প্রো বিএনপি সাড়ে পাঁচ হাজার, যার অর্থ রোগীর হার্ট ফেইলিউর হয়েছে। আমরা বুঝতে পারছিলাম প্যাথলজী পেটে, কিন্তু কোন কনক্রিট এভিডেন্স নাই, রাত ১০টায় আলমগীর ভাই বললেন "রোগী তো মরেই যাবে, আমরা কি একটু অপারেশন করে দেখবো ? আপনি কি বলেন ?"

একে তো নরএ্যাড্রেনালিন হাইয়েস্ট ডোজে রোগী কোনরকমে ৮০-৯০ সিস্টলিক প্রেসার মেইনটেইন করছে, তার উপর ১০০লিটার অক্সিজেনে স্যাচুরেশন ৭৪। এরকম সিভিয়ার পেশেন্টের " Table Death" অনেকটা নিশ্চিত বলা চলে। কিন্তু না করলেও মৃত্যু নিশ্চিত, এটলিস্ট মনে হবে কিছু করেছি। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, প্রচন্ডরকম এক্সাইটমেন্ট কাজ করছিল মনে, কারন এটা ছিল আমার জন্য একটা এক্সাইটিং চ্যালেন্জ, যেটার সমস্ত রিস্ক নিচ্ছে পেশেন্টের আপন শ্যালক,যিনি নিজেই অপারেট করবেন।

এখন আমার কাজ ছিল অপারেশনের জন্য এ্যানেস্থেসিয়া কিভাবে দেবো এটা ঠিক করা। হঠাৎ মনে পড়লো লিজেন্ড সৈয়দ আরিফ স্যারের কথা, এসএসএমসি'র। ওনার নাম্বারে ফোন করে পরিচয় দিলাম,কিভাবে জানিনা, আমাকে উনি মনে রেখেছেন। উনার সাথে আলাপ করেই কাজে নেমে পড়লাম। ঠিক হলো অপারেশন আইসিইউতেই হবে। পাক্কা ২ঘন্টার যুদ্ধ, পেট কাটা মাত্রই দেখা গেল অর্ধেক ইনটেসটাইন(নাড়িভূড়ি) পঁচে গেছে। আমাদের ডায়াগনসিস ছিল: "Ischemic Necrosis of the gut due to hypercoagulopathy and micro embolus to superior mesenteric artery...."

অসাধারন দক্ষতার সহিত ডাঃ আলমগীর ভাই পঁচা অংশ আলাদা করে ফেলে দিলেন। একটি সাকসেসফুল অপারেশন। সবধরনের আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন অপারেশন থিয়েটারে যে অপারেশন করা কিংবা এ্যানেসথেসিয়া দেওয়া অনেকে সাহস করবেনা সেই অপারেশন আইসিইউর বেডেই করা হলো, তাও ভেন্টিলেটর/ইনটিউবেশন ছাড়াই। আলমগীর ভাইয়ের দহ্মতা দেখে মুগ্ধ হলাম। পেশেন্ট শেষ পর্যন্ত সারভাইভ করবে কিনা জানিনা কিন্তু সাকসেসফুল প্রসিডিওরের সুবাধে তখন থেকে নিজের পিঠ নিজেই চাপরাচ্ছি এখন আর আফসোস থাকবেনা। মাত্র ১ঘন্টা পরই স্যাচুরেশন ৯৯%, অবশ্যই এখনো ১০০লিটারেই আছে।

নিজের ডাক্তারি জীবনের এমন বাস্তবধর্মী অভিজ্ঞতার কথা "দি বাংলাদেশ টুডে' এর কাছে  শেয়ার করেন সার্জারি বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ জিতু দাস গুপ্ত।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানায়, আইসিইউতে তখন রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন, তাই ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অপারেশন করতে নেমে গেলেন ডা. আলমগীর ভূঁইয়া। দীর্ঘ ঘণ্টারঅপারেশন যুদ্ধ রোগীর পেট কেটে দেখা গেল তাঁর অর্ধেক ইনটেসটাইন (নাড়িভুঁড়ি) পঁচে গেছে। ডা. আলমগীর পঁচা অংশ আলাদা করে ফেলে দিলেন।

বিরল দৃষ্টান্ত হলো যে, অপারেশন থিয়েটার ভেন্টিলেটর ছাড়াই পার্কভিউ হাসপাতালের আইসিইউ বেডে হলো সফল এক অপারেশন, যা চিকিৎসা জগতের জন্য একটি ঐশ্বরিক মাইলফলক। রোগী এখনও অক্সিজেন সাপোর্টেই আছেন, তবে অপারেশনের মাত্র ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর অক্সিজেন স্যাচুরেশন বেড়ে ৯৯ শতাংশে উন্নীত হয়েছে বলে জানান কর্তৃপক্ষ।

ডা. আলমগীর ভূঁইয়া বলেন, একটি কঠিন মুহূর্তে ঝুঁকি নিয়ে সফল অপারেশন করেছি, মূলত রোগী আমার আপন ভগ্নিপতি হওয়ায় ঝুঁকি নিতে সাহস করি, বর্তমানে রোগীর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে বাকিটা সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। তবে এমন ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন পরিচালনায় আমাকে আমার টীমকে কোন প্রকার দ্বিধা না করে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করার জন্য চট্টগ্রামের তথা দেশের স্বনামধন্য নিবেদিত প্রতিষ্ঠান পার্কভিউ হাসপাতাল কতৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানায়


আরও পড়ুন