The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতার সিংহভাগ চায় তালেবান!

আফগানিস্তানের রাষ্ট্রক্ষমতার সিংহভাগ চায় তালেবান!
আফগানিস্তান বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ। ছবি: সংগৃহীত

আফগানিস্তানে নতুন যেকোনো ধরনের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে ক্ষমতার সিংহভাগ অংশ চায় তালেবান। এছাড়া দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা চললেও সেখানে কার্যত কাবুল সরকার ও তালেবানের অবস্থান একে অপর থেকে অনেক দূরে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ আগস্ট) এ তথ্য জানান আফগান বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জালমে খলিলজাদ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ঘোষণা অনুযায়ী, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাসহ সকল বিদেশি সেনা প্রত্যাহার প্রক্রিয়ার কাজ চলছে। এর মধ্যেই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে দেশটির সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী তালেবান গোষ্ঠীর যোদ্ধারা।

খলিলজাদ বলেন, এই দাবিতে তালেবান অনড় থাকলে আফগানিস্তানে শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। যুক্তরাষ্ট্রে কলরাডোর আসপেন সিকিউরিটি ফোরামের অনলাইন আলোচনায় তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

আফগানিস্তানে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের এই জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক আফগানে শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখছেন। তিনি এমন সময় এ তথ্য দিলেন, যখন তালেবান যোদ্ধারা প্রাদেশিক রাজধানী দখলে মরিয়া হয়ে লড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের মধ্যে টোলিফোনে কথোপকথন হয়েছে। তাতে দোহায় স্থগিত দ্বিপক্ষীয় সংলাপ আবার শুরু করার তাগিদ এসেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস বলছেন, ফোনালাপে ঘানি-ব্লিংকেন আফগানে তালেবানের হামলা ও হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। তারা আশঙ্কা করছেন, তালেবান ২০০১ সালের মতো কাবুল দখল করে নিতে পারে। তারা সরকার কায়েম করে আগের মতোই নারী এবং গণমাধ্যম দমনে মরিয়া হয়ে উঠতে পারে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র আফগান ছাড়ার যে চুক্তি তালেবানের সঙ্গে করেছিল, সেই চুক্তির মধ্যস্ততা করেছিলেন খলিলজাদ। ওই সময় খলিলজাদ বলেছিলেন, আফগানিস্তানে শান্তি ফিরতে পারে কেবল সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে। যে সমঝোতার মাধ্যমে একটি অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ঘানি সরকার চাচ্ছে বর্তমান সরকারেই তালেবান প্রতিনিধি রাখা হবে, সেই ব্যাপারে আলোচনা করতে হবে। তালেবান যুক্তি দিচ্ছে ঘানি সরকার সেনাবাহিনীর শক্তি নিয়ে টিকে আছে।

তালেবান চায় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংবিধান। খলিলজাদ বলছেন, তালেবান শন্তিপ্রক্রিয়ার অনেক দূরে এবং তারা কথা বলছে সামরিক ও অস্ত্রের ভাষায়। তাদের চল্লিশ বছর ধরে চলমান সংঘাত বৈধতা পেতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রচালিত ঘানি সরকারের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমরা মূলত আফগানে ব্যালেন্স অব পাওয়ার (ক্ষমতার ভারসাম্য) চাচ্ছি। যেটা কোনো নির্দিষ্ট গ্রুপের হবে না, তা হবে আফগান জনগণের। ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা দেখছে।

গত এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছরের ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের সেনাবাহিনীকে আফগান থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এর পর থেকেই তালেবান একের পর এক অঞ্চল তাদের দখলে নিচ্ছে।

নেড প্রাইস সাংবাদিকদের বলেন, তালেবানের দাবি যদি পূরণ না হয়, তারা যদি শক্তির জোরে ক্ষমতা দখল করে, তাহলে গোষ্ঠীটি ‘বিশ্বচ্যুত’ হিসেবে পরিগণিত হবে। যার ফল হতে পারে গৃহযুদ্ধ।


আরও পড়ুন