The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বুধবার, ২০ অক্টোবর ২০২১

বায়ুদূষণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৭০ লাখ মানুষ

বায়ুদূষণে প্রতিবছর মারা যাচ্ছে ৭০ লাখ মানুষ
ঢাকার বায়ু দূষণের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম পরিবেশগত হুমকি বায়ুদূষণ। সমস্যাটি সমাধানে বিশ্বজুড়ে বায়ুর মান উন্নত করতে এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনস আরও জোরদার করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(ডব্লিউএইচও) ।

বুধবার এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনস বিষয়ক এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বায়ুদূষণের কারণে ফুসফুসে ক্যানসার, হৃৎপিণ্ডজনিত সমস্যা, স্ট্রোক ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় প্রতিবছর বিশ্বে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু হয়।

 

জাতিসংঘের এই সংস্থাটির মতে, বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করতে এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। না হলে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

এ অবস্থায় বায়ুদূষণের কারণে বেশি প্রাণহানি হওয়া দেশগুলোতে শ্বাসযন্ত্র ও হৃদরোগজনিত রোগে মানুষের মত্যু কমাতে বায়ুর মান নিয়ে নতুন এক নির্দেশনা দিয়েছে ডব্লিউএইচও। ২০০৫ সালের পর এই প্রথম এই ধরনের নির্দেশনা দিল সংস্থাটি।

ওই নির্দেশনায় ১৯৪টি সদস্য দেশকে বায়ুতে বস্তুকণা এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ অন্যান্য উপদানের উপস্থিতির মাত্রার সর্বোচ্চ সীমা কমানোর পরামর্শ দিয়েছে ডব্লিউএইচও। বায়ুদূষণের কারণে কার্ডিওভাসকুলার ও শ্বাসযন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রতি বছর প্রাণ হারায় ২০ লাখ মানুষ। বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট ফুসফুস ক্যান্সার, হৃদরোগ, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এসব অকাল মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।

বিশ্বব্যাপী মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম পরিবেশগত হুমকি বায়ুদূষণ। এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনস বিষয়ক নতুন নির্দেশনায় ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, বায়ুদূষণ প্রতিরোধ করতে এখনই জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ বিশ্বজুড়ে বায়ুর মানের সূচক নিম্নমুখী। যা মানুষের স্বাস্থের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও ধূমপানের চেয়েও বেশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে বায়ু দূষণ।

বৈশ্বিক এই সংস্থাটির মতে, বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য অন্যতম পরিবেশগত হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে বায়ুর মান নিয়ে তাদের নতুন গাইডলাইন বায়ু দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে লাখ লাখ মানুষকে সুরক্ষা দেবে বলে মনে করছে ডব্লিউএইচও।

এদিকে ডব্লিউএইচও’র এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনস বিষয়ক নতুন নির্দেশনায়, বাতাসে ভাসমান কণার পার্টিকুলেট ম্যাটার বা পিএম১০ ও পিএম২.৫, ওজোন, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনো-অক্সাইড ইত্যাদির বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হালনাগাদ নির্দেশনা অনুযায়ী চললে এবং বায়ুদূষণ কমিয়ে আনলে পিএম২.৫ এর কারণে হওয়া প্রাণহানির প্রায় ৮০ শতাংশ কমানো সম্ভব।

সূত্র: রয়টার্স।