The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

আন্দোলনের প্রতিশ্রুতিতে শেষ হলো বিএনপির নির্বাহী সভা

আন্দোলনের প্রতিশ্রুতিতে শেষ হলো বিএনপির নির্বাহী সভা
ছবি: টিবিটি

নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের তাগিদের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিএনপির দ্বিতীয় দফা সিরিজ বৈঠক।

তিন দিনব্যাপী সিরিজ বৈঠকের শেষদিন বৃহস্পতিবার দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা সভাপতিরা তাদের মত তুলে ধরেন। এ সময় তারা বলেন, বর্তমান সরকারকে হটাতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

সেই আন্দোলনে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে হবে। সরকারবিরোধী সব দলকে একই প্ল্যাটফরমে আনতে কাজ করতে হবে। তাদের নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন হতে পারে।

তবে জোট বাড়ানোর ব্যাপারে নানা আপত্তি তুলে ধরে নেতারা বলেন, ‘ওয়ান ম্যান শো’ দলের সঙ্গে জোট করে কোনো লাভ হবে না। বড় দলের সঙ্গে জোট হতে পারে। তবে যারা বিএনপির সভায় এসে আওয়ামী লীগ নেতার গুণকীর্তন করবে তাদের সঙ্গে জোট চাই না। জোট থেকে জামায়াতকে বাদ দেওয়ার কথাও বলেন কেউ কেউ।

তারা আরও বলেন, যা কিছুই করা হোক, রাজপথের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে হবে বিএনপিকেই। আন্দোলনের জন্য দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা প্রস্তুত আছে। তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে শেষ দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘সংগঠনের অবস্থা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য কী করা যেতে পারে, সেই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সেই সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং বাংলাদেশের মুক্তির বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

‘যারা আলোচনা করেছেন তাদের সব বক্তব্য লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। দলের নীতি-নির্ধারণী সভায় সেগুলো নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। তখন আপনারা জানতে পারবেন আমরা কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করব’- বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় ধারাবাহিক বৈঠক। প্রথম দফায় তিন দিনে দলের ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, যুগ্ম মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদকসহ সম্পাদক মণ্ডলী এবং ৯টি অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে বৈঠক হয়। এরপর গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনদিন নির্বাহী কমিটির সদস্যদের ধারাবাহিক বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার শেষ দিনে খুলনা, রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে নির্বাহী কমিটির ৮৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। দুই দফার ধারাবাহিক বৈঠকে ৪৯১ জন সদস্য অংশ নেন। তাদের মধ্যে ৩০০ জন বক্তব্য রাখেন।

শেষ দিনে টানা ছয় ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নজরুল ইসলাম মোল্লা, নাজিম উদ্দীন আলম, হাফিজ ইব্রাহিম, আবুল হোসেন, মেসবাহউদ্দিন ফরহাদ, আব্দুস সোবহান, গাজী নুরুজ্জামান বাবুল,আলমগীর হোসেন, হাসন মামুন, রফিক ইসলাম মাহতাব, হায়দার আলী লেলিন, দুলাল হোসেন, গোলাম নবী আলমগীর, নাসের রহমতুল্লাহ, এলিজা জামান,কামরুল ইসলাম সজল,ডাক্তার শহীদ হাসান, আব্দুর রশিদ চুন্নু মিয়া,মাসুদ অরুণ, শহিদুল ইসলাম, রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, শহীদুজ্জামান বল্টু,আব্দুল ওয়াহাব,শাহানা রহমান রানী,ট এস আইয়ুব, আবুল হোসেন আজাদ, মতিউর রহমান ফরাজি, বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, শেখ মজিবুর রহমান, অহিদুজ্জামান দীপু,সাহাবুজ্জামান মোর্তজা,শফিকুল আলম,মনা,মনিরুজ্জামান মনি,কাজী আলাউদ্দিন, ডাক্তার শহীদুল আলম,মীর রবিউল ইসলাম লাভলু,খান রবিউল ইসলাম রবি,সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু,সাবরা নাজমুল মুন্নী, ফরিদা ইয়াসমিন, রাগিব রউফ চৌধুরী, আবু সাঈদ, আয়েশা সিদ্দিকা মনি,নার্গিস ইসলাম, এ টি এম আকরাম হোসেন তালিম, ইফতেখার আলী,হাফিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, মাহবুবুর রহমান হারিছ,লাভলী রহমান, আলী আজগর হেনা,শামসুল আলম প্রামাণিক, এ কে এম মতিউর রহমান মন্টু,এম আকবর আলী, এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, সিরাজুল ইসলাম সরদার,আব্দুল মতিন,আবু বকর সিদ্দিক, জয়নাল আবেদীন চান,গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, সীনকী ইমাম খান,জহুরুল ইসলাম বাবু এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম, সাইদুর রহমান বাচ্চু, ফয়সাল আলীম,রমেশ দক্ত,দেবাশীষ মধু রায়,আনোয়ার হোসেন ব্লুু, রোমানা মাহমুদ, শামসুল হক প্রমুখ।

সভা মঞ্চে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ, চেয়ারপারসনের কার্যালয়ের এবিএম আবদুস সাত্তার ও রিয়াজ উদ্দিন নসু সভায় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ৫৯২ জন। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটিতে ১৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান ৩৫ জন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন ৮২ জন, এক জন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, সাত জন যুগ্ম মহাসচিব, ১০ জন সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে আছেন ১৬১ জন। এদের মধ্যে স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিলে ১০ জন মারা গেছেন।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার চার দিন আগে ৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের বৈঠক হয়। এরপর দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে তারেক রহমান বিভিন্ন সময় পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। তবে এবারের মতো এমন ধারাবাহিকভাবে নির্বাহী কমিটির নেতাদের নিয়ে কোনো সভা করেননি তিন।