The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন সাজে সজ্জিত ছৈলারচর পর্যটনকেন্দ্র 

ভ্রমণপিপাসুদের জন্য নতুন সাজে সজ্জিত ছৈলারচর পর্যটনকেন্দ্র 
ছবি: টিবিটি

কাঠালিয়া (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি: কাঠালিয়ার বিষখালি নদীর তীরে জেগে ওঠা ছইলার চর পরিণত হয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে। এখানে রয়েছে পর্যাটনের জন্য ব্যপক সম্ভাবনা। ছৈলার চর প্রতিদিন পর্যাটকদের মিলন মেলায় পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন ছৈলার চরকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষনীয় করে তুলতে ব্যবপক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা পেলে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হতে পারে কাঠালিয়ার ছইলার চর। 

ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের হেতালবুনিয়া গ্রামে বিষখালি নদীতে ৪১ একর জমি নিয়ে জেগে ওঠে এক বিশাল চর। যা এখন ৬১টি একরে পরিনত হয়েছে। যেখানে প্রাকৃতিক ভাবে জন্মানো ছৈলা গাছ থেকে চরটি পরিচিতি পেয়েছে ‘ছৈলার চর’ নামে। এখানে কোন হিংস্র প্রাণী না থাকায় এবং সহজ ও অপেক্ষাকৃত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যাবস্থার কারণে সারা বছর ধরেই ভ্রমণ পিপাসুদের ভীর থাকে।

এখানে রয়েছে ছৈলা, কেয়া, মাদার, আগুজি, নিম, বাদামসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছ। সারা বছর রয়েছে এখানে পাখির কিচির মিছির ডাক। ফলে ছৈলার চরের এ প্রকৃতিক সৌন্দার্যে ভ্রমণকারীরা মুখরীত থাকে। পর্যটকদের কাছে চরটিকে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে রোপন করা হচ্ছে নানা প্রজাতির গাছ, তৈরি করা হয়েছে বিশ্রামাগার, শিশুদের চিত্ত বিনোদনের ব্যাবস্থা।

চরের একদিকে ২০ একর জায়গা জুড়ে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ডিসি ইকোপার্ক ও লেক। পার্কের মধ্যে রয়েছে একটি নয়নাভিরাম লেক। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ভ্রমণপিপাসুদের নদীর দৃশ্য উপভোগ করার জন্য করেছে বিভিন্ন ব্যাবস্থা। এ চরকে কেন্দ্র করে কয়েক’শ বেকার মানুষের কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। তবে সম্পুর্ণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রয়োজন পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহযেগীতা। 

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব কামাল হোসেন ও তার সহধর্মীনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৪ গুলশান আরা বেগম অতিস¤প্রতি স্ব-পরিবারে ছৈলারচরে বেড়াতে আসেন। তখন তার অনুভুতি প্রকাশ করেন যে, দীর্ঘদিন পর প্রকৃতির সাধ পেলাম। এতো মনোরম পরিবেশে পর্যটনের জন্য এর চেয়ে আর ভাল স্থান হয়না।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. বজলুল হক হারুন জানান, কাঠালিয়ার ছৈলার চর পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পটের উন্নয়নের জন্য আমি ব্যক্তিগত ভাবে একাধিকবার অর্থ বরাদ্দ দিয়েছি। আমার নির্বাচনী এলাকা কাঠালিয়া-রাজাপুরসহ দক্ষিন অঞ্চলের মানুষের জন্য ছৈলার চর পর্যটন কেন্দ্রটির ব্যাপক উন্নয়ন করা হবে। ইতোমধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এ ব্যাপারে যোগাযোগ হয়েছে। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক-৪ গুলশান আরা বেগম বলেন, কাঠালিয়ার ছৈলার চর পর্যটন আয়ের উৎস হতে পারে। ভবিষ্যতে এ পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে প্রচুর বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হতে পারে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, ছৈলারচর পর্যটন সম্ভাবনার হাতছানি। পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে ইতোমধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ছৈলারচর হতে পারে একটি আধুনিক ও আন্তর্জাতিকমানের পর্যটন কেন্দ্র। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুফল চন্দ্র গোলদার জানান, ছইলার চরে পর্যটকদের সুবিধার্থে উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে পর্যাটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পর্যাটন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।