The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

সংকুচিত হচ্ছে বনাঞ্চল, টেকনাফে ফের বন্য হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু

সংকুচিত হচ্ছে বনাঞ্চল, টেকনাফে ফের বন্য হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

গত দুই বছরে কক্সবাজারে ১৫ হাতির অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। শুধু চলতি মাসেই কক্সবাজার জেলায় ২টি হাতি মারা গেছে। আবাসস্থল ধ্বংস, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, রোহিঙ্গা ও অভয়ারণ্য ধ্বংসের কারণে এ অবস্থা হয়েছে বলে দাবি পরিবেশবাদীদের।

কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন পাহাড়ি ছড়া থেকে আবারো একটি বন্য হাতির মৃত শাবক উদ্ধার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান (এপিবিএন) সদস্যরা।

আজ শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮ টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ২৬ নম্বর শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সীমানার কাঁটাতারের বাইরে পশ্চিমে পাহাড়ি ছড়া থেকে এটি উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর একই এলাকার পাহাড়ি ছড়া থেকে উদ্ধার হয়েছিল আরেকটি মৃত শাবক উদ্ধার করা হয়।

১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় বন্যহাতির চলাচল পথ রয়েছে। পাহাড়ি ছড়ায় পানি পান করতে প্রায় সময় হাতি যাতায়ত করে থাকে।

ধারণা করা হচ্ছে, পাহাড় চূড়া থেকে পড়ে গিয়ে হস্তী শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। গত ২/৩ দিন আগে মৃত্যু হওয়ায় হস্তী শাবকটির শরীরের বিভিন্ন অংশে চামড়া খসে গেছে। এপিবিএন এর অধিনায়ক বলেন, ‘পাহাড়ি ছড়ায় একটি মৃত শাবক পড়ে থাকার খবর স্থানীয় বনবিভাগকে অবহিত করা হয়েছে।’

এ নিয়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে গিয়ে হাতির আবাসস্থল উজাড়, চলাচলের করিডোর চরমভাবে বাধাগ্রস্ত ও খাদ্য সংকটে পড়েছে হাতি।

প্রায় লোকালয়ে হানা দেয় বন্য হাতির দল। এ কারণে ফসল রক্ষায় বৈদ্যুতিক শক ও গুলি করে হাতি হত্যা করা হচ্ছে। কক্সবাজারে একের পর এক এশিয়ান হাতির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন পরিবেশবিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতারা।

তারা বলছেন, নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, খাদ্য সংকট দূর করা, হাতি চলাচলের করিডোর নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখা, হাতি হত্যায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা, মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি, বনভ‚ মি দখল রোধ, বনাঞ্চল তৈরিসহ মহাবিপন্ন এশিয়ান হাতি সুরক্ষায় সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না-হলে মানুষের নির্মমতায় দিন দিন বিলুপ্ত হয়ে পড়বে বন্য হাতি।

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাজমুল শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, কক্সবাজারে বিভিন্ন এলাকায় হাতিসহ বন্যপ্রাণী হত্যার বিষয়টি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। পাহাড় কাটাসহ বিভিন্ন মানবসৃষ্ট কারণে এসব হাতি ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে। পাহাড় কাটা রোধসহ বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম বা আবাসস্থল রক্ষায় পরিবেশ অধিদফতর নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


সর্বশেষ

আরও পড়ুন