The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১

লাখপতি সেলারের পুরুষ্কার পেলেন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী অণু

লাখপতি সেলারের পুরুষ্কার পেলেন হাবিপ্রবি শিক্ষার্থী অণু

মোঃ মিরাজুল আল মিশকাত, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর:  করোনা মহামারীর অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ( হাবিপ্রবি) পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এলিজা সাবরিন অণু হয়ে উঠেছেন একজন সফল উদ্যোক্তা। এর পুরুষ্কার হিসাবে সর্বশেষ পেলেন লাখপতি সেলারের তকমা। অণুর হাতে লাখপতি সেলারের সম্মাননা ক্রেস্ট ও পুরস্কার তুলে দেন রংপুর বিভাগের বৃহত্তম ই-কমার্সভিত্তিক গ্রুপ " হ্যালো রংপুর "। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন " হ্যালো রংপুরের " প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সুমন মিয়া।

হ্যালো রংপুরের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সুমন মিয়া বলেন, " মূলত রংপুরের তরুণ উদ্যোক্তাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে আমরা এমন উদ্যোগ হাতে নিয়েছি। এতে করে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি হবে যা আগামীতে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে "।

হ্যালো রংপুরের সহ-প্রতিষ্ঠাতা আবুল বাশার তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে বলেন, " আমাদের গ্রুপ থেকে যেসকল তরুণ উদ্যোক্তা গত দেড় বছরে লাখ টাকার উপরে পণ্য বিক্রি করেছেন তাদের আমরা সম্মানিত করার চেষ্টা করেছি। এর অংশ হিসাবে আমরা ২৫ জন তরুণ উদীয়মান উদ্যোক্তাদের পুরস্কৃত করেছি। আগামীতে আমরা তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে নতুন নতুন পরিকল্পনা হাতে নিতে যাচ্ছি যা সময়ের সাথে সাথে দৃশ্যমান হবে "।

উদ্যোক্তা হওয়ার প্রথমদিকের কথা জানতে চাইলে এলিজা সাবরিন অণু বলেন, " করোনা বন্দী সময় সবার মতো আমারও অনেক অলসভাবেই কাটছিল। তখন বেশ খানিকটা সময় আমি Women and e-Commerce forum ( WE ) এ দেই। আর সেখান থেকেই আমার উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয় । এছাড়া ছোটতেই মায়ের কাছ থেকে শেখা সেলাই আর ডিজাইন নিয়েই কাজ শুরু করি। 
তিন মাস ঘরে বসে নষ্ট হলেও জুন ২০২০ এ আমার পেইজ Twinkle Boutique এর পথচলা শুরু হয়। শুরুতে তেমন একটা গ্রাহক পাইনি। তবে গত ৬ জুলাই ২০২০-এ আমি প্রথম অর্ডার পাই। তার পর থেকে আমাকে আর পিছনের দিকে ফিরে তাকাতে হয় নি। দুই মাসে আমি "লাখপতি" এবং গত এক বছরে পণ্য বিক্রি করেছি প্রায় ৮ লক্ষ টাকার উপরে। এটা সম্ভব হয়েছে শুধু মাত্র আমার জীবনসঙ্গী ডা. স্বাধীন বিন আমিন এর সহযোগিতা আর আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য। যারা আমার কাছে পণ্য ক্রয় করেছেন তাদের সকলের কাছেই আমি কৃতজ্ঞ "। 

এ সময় তিনি আরো বলেন, " গত এক বছরে নিজেকে নতুন করে উপলব্ধি করতে শিখেছি । অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়া একটি মেয়ে করোনার প্রকোপে যখন ঘরবন্দী তখন উই শেখালো ঘরে বসে কত কিছুই না করা সম্ভব। সাহস করে পদক্ষেপ নিলাম।তারপর থেকে সাপোর্ট পেয়ে যাচ্ছি হ্যালো রংপুর গ্রুপ থেকেই। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া। অলস সময় না কাটিয়ে কিছু করে পেলাম অনেক সম্মান।পরিবার আত্মীয়স্বজন বন্ধুবান্ধব সবার কাছেই। এটা কত বড় পাওয়া তা আমিই জানি। পার্সোনাল ব্র‍্যান্ডিং করে " হ্যালো রংপুর " বিভাগ আয়োজিত প্রোগ্রামে পেলাম লাখপতির সম্মাননা। পনেরো মাসের জার্নিতে এটাই সেরা পাওয়া আমার।এভাবেই আমি কাজ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই এবং Twinkle Boutique কে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই । করোনা বন্দী সময় অভিশাপের হলেও সঠিক কাজে লাগাতে পারায় আমার কাছে এই সময়টাই আশির্বাদ স্বরূপ হয়ে এসেছে"।


আরও পড়ুন