The Bangladesh Today | Uniting people everyday

ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১

নড়াইলের কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক ও পরিছন্নতা কর্মি নিয়োগে ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ

নড়াইলের কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক ও পরিছন্নতা কর্মি নিয়োগে ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ

হুমায়ুন কবীর রিন্টু , নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল সদর উপজেলার  কৃষ্ণলতা মাধ্যমিক বালিকা  বিদ্যালয়ে অফিস সহায়ক ও পরিছন্নতা কর্মি নিয়োগে ঘুষ দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে অতিসম্প্রতি সুরাজ মল্লিক  ও সুমন বিশ্বাস নামে দু’জনের নিকট হতে ২০ লাখ টাকা নিয়ে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

নিয়োগ পরীক্ষার আগে প্রধান শিক্ষক  সমীর কুমার হালদার ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির  সভাপতি  শাহারিয়ার  আলম মুক্ত  দাম দর কষে এদের দু’জনের সাথে নিয়োগ দেয়ার চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক ওই দু’জন প্রার্থীর নিকট হতে তারা অগ্রিম ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা নেয়। চুক্তি মোতাবেক তাদের   নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করানো হয়।  নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ডে চুড়ান্ত বাছাই হলে তারা বাকি ৫ লাখ  করে  ১০ লাখ টাকা তুলে দেন বিদ্যালয়ের সভাপতি  মুক্তর কাছে। খুশি মনে নিয়োগ পরীক্ষার  ফলাফল শীট সহ সংশি¬ষ্ট  কাগজপত্র  সাক্ষর করে দেন প্রধান শিক্ষক  ও সভাপতি।

সম্মানি নেয়ার নামে মোটা অংকের ঘুষ পেয়ে নিয়োগ বোর্ডের  অন্যান্য কর্মকর্তারা আনন্দচিত্তে নিয়োগ সংশ্লিষ্ট  কাগজপত্রে সাক্ষর দেন। নিয়োগ পরীক্ষার দিনেই সর্বত্র  জানাজানি হয়ে যায় ২০ লাখ  টাকার বিনিময়ে ২ জনকে নিয়োগ দেয়া  হয়েছে। পূর্ব  পরিকল্পিত  ভাবে করোনাকালীন  সময়ে যথাসম্ভব গোপনীয়তা রক্ষা করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।  যার কারনে কঠোর লগডাউনে  ঘর থেকে বের হতে না পেরে অনেকে আবেদন করতে পারেনি।  এই সুযোগে নিজেদের  খামখেয়ালী  ভাবে  নিয়োগ বোর্ড গঠন করে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে  সিংঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি অশোক বিশ্বাস বলেন তার ছেলে চাকরির জন্য আবেদন করছিল। তার নিকট বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহারিয়ার আলম মুক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দিতে না পারায় তার ছেলের চাকরি হয়নি। এ বিষয়ে  জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক   সমীর কুমার হালদার  জানান,  নিয়োগের কোন টাকা তিনি হাতে করেননি।  সব টাকা সভাপতি নিয়েছে।

বিদ্যালয়ের সভাপতি  শাহারিয়ার  আলম মুক্ত বলেন,  সামান্য  কিছু  টাকা নেয়া হয়েছে। ওই টাকা নিয়োগ বোর্ডের কর্মকর্তাদের দেয়া হয়েছে। সচেতন এলাকাবাসী এহেন নিয়োগ বাতিল পূর্বক দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাবীদের চাকুরী দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
 


আরও পড়ুন